ঢাকা, সোমবার 22 July 2019, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভারতে আট মুসলিম ছাত্রের এনকাউন্টারে মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ-অবিশ্বাস

অনলাইন ডেস্ক : ভারতের মধ্যপ্রদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন সিমি-র আটজন জেল পালানো সদস্যর পুলিশের গুলিতে মারা যাওয়ার ঘটনা একটি সাজানো এনকাউন্টার কি না, সে প্রশ্ন ক্রমেই আরও জোরেশোরে উঠতে শুরু করেছে।

দেশের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকার কর্মী ইতিমধ্যেই এই এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বা বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন এবং ঘটনার নানা ভিডিও বা নিহতদের ময়না তদন্ত রিপোর্ট সেই সন্দেহকেই আরও বদ্ধমূল করে তুলছে।

মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার অবশ্য বলছে, যারা এই এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা নিহত কারারক্ষীর দেশের জন্য বলিদানকেই অপমান করছেন।

ভোপাল শহরের উপকন্ঠে যে পাহাড়ি গ্রামে সোমবার আটজন সিমি সদস্য পুলিশের গুলিতে মারা যায়, সেই জায়গাটি এখন ট্যুরিস্ট স্পটে পরিণত হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশেপাশে বহু সাক্ষ্যপ্রমাণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও পুলিশ জায়গাটি ঘিরেও রাখেনি, আর প্রতিদিন সেখানে এনকাউন্টার স্পট দেখানোর জন্য মানুষের ঢল নামছে। আর এর পাশাপাশি ঘটনাটা আদৌ সত্যিকারের এনকাউন্টার ছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।

দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, এই এনকাউন্টার পুরোপুরি সাজানো।

সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক মনীষা শেঠি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যত্র ছড়িয়ে পড়া অজস্র ছবি আর ভিডিও থেকে পরিষ্কার যে পুলিশের বক্তব্যে অজস্র গরমিল আছে। জেল পালানো বন্দীরা দূরে না পালিয়ে নতুন শার্ট, জিনস, বেল্ট কেনার সময় পেল, মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরেই ধরা পড়লো এবং যে যার মতো ছিটকে না পড়ে আটজন একসঙ্গেই মুভ করছিল- এটা কি বিশ্বাস্য? এই এনকাউন্টারে অবশ্যই সাঙ্ঘাতিক কোনও অসঙ্গতি আছে-বলছিলেন তিনি।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টির ভারতীয় শাখাও আজ বলেছে - ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্যে বিস্তর ফারাক আছে।

ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে পুলিশ গুলি চালানোর আগে ওই সিমি সদস্যরা তাদের সঙ্গে কথা বলারও চেষ্টা করেছিল, অ্যামনেস্টির মতে এই দৃশ্য বিচলিত করার মতো নানা প্রশ্নের উদ্রেক করছে। তবে মধ্যপ্রদেশে ও কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা বিজেপির বক্তব্য, এই ধরনের প্রশ্ন তোলা বিভিন্ন জঘন্য অপরাধে অভিযুক্ত সিমি'র সদস্যদের সমর্থন করারই সামিল।

দলের মুখপাত্র জিভিএল নরসিমহা রাও বলছেন, ভুললে চলবে না এরা জেল পালানো আসামী, সেটাইতো একটা ফৌজদারি অপরাধ! পালানোর সময় এরা একজন কারারক্ষী হেড কনস্টেবলকে গলা চিরে হত্যা করেছে, কই তার জন্যতো কেউ সহানুভূতি দেখাচ্ছেন না। অথচ কংগ্রেস, এমআইএম, সিপিআই-সিপিএম কারোরই সন্ত্রাসবাদীদের জন্য চোখের জল বাঁধ মানছে না!

মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানও প্রায় একই সুরে বলছেন, আমাদের দেশে কেউ কেউ শহীদের বলিদান দেখতে পান না, অথচ ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করার জন্য সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থন করতেও তাদের গলা কাঁপে না। জনসভায় তিনি এমনও প্রশ্ন তুলেছেন, 'যারা মনে করেন এই এনকাউন্টার সত্যি তারা হাত তুলুন' এবং তাতে বিপুল লোক হাত তুলে তাকে সমর্থনও করেছে। তবে অ্যাক্টিভিস্ট মনীষা শেঠি বলছিলেন মি: চৌহান এখানে নরেন্দ্র মোদির বিপজ্জনক মডেলই অনুসরণ করছেন।

তাঁর কথায়, গুজরাটে সোহরাবউদ্দিন এনকাউন্টার মামলায় মি: মোদি যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তিনিও এক জনসভায় প্রশ্ন করেছিলেন- সোহরাবউদ্দিনের মতো মানুষদের নিয়ে কী করা উচিত? উন্মত্ত জনতা চিৎকার করে বলেছিল, খতম করো, খতম করো!

ভোপাল এনকাউন্টার কেসেও একই রকম একটা জিগির তৈরি করে দেশের সংবিধানকে আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন অধ্যাপক শেঠি। এ দিকে জেল পালানো বন্দীরা নিরস্ত্র হলেও পুলিশ তাদের জীবিত আটক না করে কেন হত্যা করলো, সে প্রশ্নের জবাবেও রাজ্যের প্রধান জঙ্গ দমন কর্মকর্তা আজ দাবি করেছেন, এরকম ক্ষেত্রে পুলিশের পূর্ণ অধিকার আছে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ করার। সূত্র: বিবিসি বাংলা। 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ