ঢাকা, বৃহস্পতিবার 03 November 2016 ১৯ কার্তিক ১৪২৩, ২ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এপ্রিলেই নির্বাসন থেকে কোর্টে ফিরবেন গ্ল্যামারগার্ল শারাপোভা

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : মারিয়া শারাপোভা। টেনিস সম্পর্কে ধারণা না থাকলেও এই নামটি ছিল অনেক পরিচিত। নিজের পারফরমেন্সের পাশাপাশি গ্লামারের কারণে বিশ্ব মিডিয়ায় সব সময় আলোচিত থাকেন এই টেনিস তারকা। মাঠের পাফরমেন্সে যতটা না আলোচিত হয়েছিলেন সমানবাবে সমালোচিতও হয়েছেন নিজের কর্মকা-ের কারণে। ডোপিংয়ের কারণে নির্বাসিত হতে হয়েছিল প্রমীলা বিশ্ব টেনিসের সাবেক এক নম্বর তারকা মারিয়া শারাপোভাকে। বিষয়টি তিনি জানতেন, এটি প্রমাণ করতে পারায় দুই বছরের শাস্তি কমিয়ে পরে পনের মাস করা হয় তার। শাস্তি কমলেও সাবেক নাম্বার ওয়ান তারকাকে হারাতে হয়েছে ডব্লিউটিএ (বিশ্ব টেনিস সংস্থা) সিঙ্গেলস র‌্যাংকিংয়ের স্থানটি। সম্প্রতি ডব্লিউটিএ সিঙ্গেলস র‌্যাংকিংয়ের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে নেই শারাপোভার নাম! অথচ গত সপ্তাহের তালিকাতেও শারাপোভার নাম ছিল ৯৩তম স্থানে। প্রকাশিত সেই তালিকায় ৯৩তম স্থানে এখন রয়েছে জার্মনির সাবিন লিজিকির নাম। তবে ভক্তদের জন্য সুখবর হচ্ছে, আবারো মাঠে ফিরছেন এই টেনিস তারকা। সবার আশাবাদ, স্বরপেই তাকে ভক্তরা দেখতে পাবেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে অস্ট্রেলীয় ওপেনে ডোপিং করার কারণে শারাপোভাকে দুই বছরের জন্য নির্বাসিত করেছিল বিশ্ব টেনিস সংস্থা। পরে ওয়াডা সেই শাস্তির মেয়াদ কমিয়ে পনের মাস করে। পেশাদারি টেনিস থেকে দূরে থাকার কারণে তার র‌্যাংকিংয়ের এমনিতেই অবনমন ঘটছিল। হতে পারে সেই কারণেই তার নামটি তালিকা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আগামী বছর এপ্রিলে কোর্টে ফিরবেন মাশা। কিন্তু ডব্লিউটিএ তালিকায় নাম না থাকার কারণে গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টে খেলার ক্ষেত্রে ওয়াইল্ড কার্ডই একমাত্র ভরসা হবে মাশার! সম্প্রতি ভক্ত-অনুরাগীদের সুখবর দিয়েছেন মারিয়া শারাপোভা। তার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৯ মাস কমিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত। এর ফলে আগামী ২৬ এপ্রিল নির্বাসন থেকে কোর্টে ফিরবেন রাশিয়ান টেনিসের এই গ্ল্যামারগার্ল। দুই বছর থেকে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ১৫ মাস হওয়ার পর থেকেই কোর্টে ফিরতে যেন উন্মুখ হয়ে পড়েছেন বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক নাম্বার ওয়ান এই টেনিস তারকা।
শারাপোভার বয়স তখন সতেরো, ২০০৪ সালের কথা। ঠিক সেই সময়েই বিস্ফোরক ঘটেছিল তার। দুইবারের উইম্বল্ডন চ্যাম্পিয়ন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে। ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট জিতে নজর কেড়েছিলেন টেনিসপ্রেমীদের। সেই শুরু। এরপর আর পেছনের দিকে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। টেনিস কোর্টের পারফরমেন্সে কখনও কখনও নিষ্প্রভ থাকলেও রূপ-সৌন্দর্য দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি টেনিসপ্রেমীর হৃদয়ে। পাঁচটি গ্র্যান্ডস্লামসহ মোট ৩৫টি ডব্লিউটিএ শিরোপা জিতেছেন শারাপোভা। বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেও দীর্ঘদিন রাজত্ব করেছেন তিনি।
সেই সঙ্গে বিশ্বের জনপ্রিয় এবং শীর্ষ ধনী এ্যাথলেট হওয়ার তকমাটাও মেখেছেন তার গায়ে। কিন্তু হায়! এই শারাপোভাই বিশ্ব টেনিসে কলঙ্কজনক এক অধ্যায়ের জন্ম দেন। আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশন মারিয়া শারাপোভাকে ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। ডোপ পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় রুশ এই টেনিস তারকার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চলার সময় করা ডোপ পরীক্ষায় তার দেহে নিষিদ্ধ উপাদান মেলডোনিয়াম পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশন মার্চের শুরুতে এ কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। তখন থেকেই শারাপোভা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হন।
ওয়ার্ল্ড এ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (ওয়াডা) শারাপোভার নমুনা পরীক্ষা করে তার মেলডোনিয়াম নেয়ার প্রমাণ পায়। সাবেক বিশ্বসেরা খেলোয়াড় অবশ্য বলেছিলেন, ১০ বছর ধরে তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে যে ওষুধ নিয়ে আসছিলেন, তাতে এ উপাদানের উপস্থিতি ছিল। ২ মার্চ ওয়াডা শারাপোভার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। ওয়াডা ১ জানুয়ারি মেলডোনিয়ামকে নিষিদ্ধ উপাদান হিসেবে ঘোষণা করে। শারাপোভা দাবি করেন, এর আগের ১০ বছর ধরে ওষুধটি সেবন করা বৈধ ছিল। কিন্তু নিয়ম বদলানোর বিষয়টি তার অজানা থেকে যায়। নিষিদ্ধ ড্রাগের তালিকার পরিবর্তন নিয়ে ওয়াডা অবশ্য গত বছর ২২ ডিসেম্বর শারাপোভাকে ই-মেইল করেছিল। কিন্তু সেটা না দেখায় নিজের ভুল স্বীকার করে নেন ২৯ বছর বয়সী এই তারকা খেলোয়াড়। এরপর শাস্তির বিরুদ্ধে আপীল করেন তিনি। ফল পক্ষে আসে রুশ সুন্দরীর। এর ফলে ২০১৭ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেন খেলতে পারবেন মারিয়া শারাপোভা। কোর্ট অব আর্বিট্রেশন ফর স্পোর্টস তার শাস্তি ২৪ মাস থেকে কমিয়ে ১৫ মাসে নামিয়ে এনেছে।
শারাপোভার ভবিষ্যতের জন্য অবশ্যই সুখবর। জানুয়ারিতে তাকে নির্বাসিত করার পর পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আইটিএফ প্যানেলের বিচারে সিদ্ধান্ত হয়, শারাপোভা জেনে এই কাজ করেননি। তবে যেটা হয়েছে সেটা অন্যায়। যদিও শারাপোভা স্বীকার করে নিয়েছিলেন মেলবোর্নে সব ম্যাচের আগেই মেলডোনিয়াম নিতেন তিনি এবং তিনি জানতেন না এই ড্রাগ নিষিদ্ধ। আপাতত অনেকটাই স্বস্তিতে শারাপোভা।  আগামী বছর এপ্রিলে তিনি আবার ফিরতে পারবেন কোর্টে। খেলতে পারবেন ফ্রেঞ্চ ওপেন। তার আগেই অবশ্য কোর্টে ফিরেছেন সাবেক এই নাম্বার ওয়ান টেনিস তারকা। আট মাস পর চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই প্রথমবারের মতো টেনিস কোর্টে ফিরলেন তিনি। তবে কোন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নয়। লাস ভেগাসে ওয়ার্ল্ড টিম টেনিস চ্যারিটি ইভেন্টে সেই হাস্যোজ্জ্বল শারাপোভাকে দেখেছেন দর্শকরা। এলটন জন এইডস ফাউন্ডেশনের জন্য একদিনের ইভেন্টটিতে দু’টি ডাবলস ম্যাচে অংশ নেন মাশা। দীর্ঘ বিরতির কারণে শুরুর দিকে খানিকটা স্নায়ুচাপেও ভুগছিলেন রাশিয়ান টেনিস কন্যা। দ্বৈত ম্যাচটিতে মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা ও লাইজেল হুবারের কাছে হেরে যান তিনি এবং তার সঙ্গী যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ বছর বয়সী টেলর জনসন। পরে মিক্সড ডাবলসে আমেরিকান লিজেন্ড জন ম্যাকেনরোর সঙ্গে জুটি বাঁধেন সাবেক ওয়ার্ল্ড নাম্বার ওয়ান। কোর্টে ফিরতে পেরে বেশ উচ্ছ্বাসই ঝরেছে পাঁচটি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী শারাপোভার কণ্ঠে, ‘এটা আমার জন্য একটা বড় উপলক্ষ ছিল।
টেলরের সঙ্গে জুটি বেঁধে খেলাটা সত্যিই ছিল আনন্দদায়ক। এটা মজারও ছিল।’ তবে শারাপোভার জন্য দুঃসংবাদ হলো ওমেন’স টেনিস এসোসিয়েশন সিঙ্গেল র‌্যাঙ্কিং থেকে তার নাম মুছে ফেলেছে। অথচ গত সপ্তাহেও র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯৩তম স্থানে ছিলেন মারিয়া শারাপোভা। তবে এসব নিয়ে মোটেও হতাশ নন রাশিয়ান তারকা। বরং তার লক্ষ্য এখন কোর্টে ফেরা। মারিয়া শারাপোভার ভক্তদের জন্য আরেকটি সুসংবাদ হলো আগামী ডিসেম্বরে আরও একটি প্রদর্শনী ম্যাচে অংশগ্রহণ করবেন তিনি। এবার তার প্রতিপক্ষ স্পেনের গারবিন মুগুরুজা। চলতি মৌসুমেই ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপা জিতে নজর কাড়েন এই স্প্যানিয়ার্ড। বর্তমানে চলছে মৌসুমের শেষ বড় টুর্নামেন্ট ডব্লিউটিএ ফাইনালস। বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা আটজন খেলোয়াড় পারফর্ম করছেন এখানে। নিষেধাজ্ঞার কারণে সিঙ্গাপুরের এই টুর্নামেন্ট এবার মিস করছে রাশিয়ান টেনিসের গ্ল্যামারগার্ল মারিয়া শারাপোভাকে। এছাড়া চোটের কারণে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আমেরিকান কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামসও। টেনিস বিশ্বের সেরা দুই তারকার অনুপস্থিতিতে এবার সবার চোখ থাকবে এ্যাঞ্জেলিক কারবারের দিকে।
জার্মান তারকার পর পাদপ্রদীপের আলোয় থাকবেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এ্যাগ্নিয়েস্কা রাদওয়ানস্কাও। তাছাড়া সিমোনা হ্যালেপ, মেডিসন কেইস, ডোমিনিকা সিবুলকোভা, ক্যারোলিনা পিসকোভা, গারবিন মুগুরুজা এবং সভেতলনা কুজনেতসোভাও শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে লড়াই শুরু করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ