ঢাকা, বৃহস্পতিবার 03 November 2016 ১৯ কার্তিক ১৪২৩, ২ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সুন্দরবনে বাঘের প্রজনন বেড়েছে

খুলনা অফিস : সুন্দরবনে বাঘের প্রজনন বেড়েছে। বনের অভায়রণ্য নীলকমল, কটকা, কচিখালী ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাঘের বাচ্চা দেখা যাচ্ছে। বনে ক্যামেরা ট্রাফিংয়ের মাধ্যমে এ মাসেই বাঘ গণনা শুরু হচ্ছে। এ কার্যক্রম পরিচালনা করতে সময় লাগবে তিন মাস। ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে সর্বশেষ শুমারী অনুযায়ী বনে বাঘের সংখ্যা ১০৬টি। প্রজনন ক্ষমতা বাড়িয়ে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে সুন্দরবনে আরও ১৮টি অভয়ারণ্য করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সর্বশেষ শুমারীতে সন্তুষ্ট নয় বিশেষজ্ঞরা। ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। ২০০৪ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ও বনবিভাগের যৌথ এক সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়, বনে বাঘের সংখ্যা ৪৪০টি।
বিদেশী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বনবিভাগের দায়িত্বহীনতা, বাঘের প্রতি উদাসীন দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিকারীদের অপতৎপরতার কারণে বাঘ হারিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছে-বাঘ রক্ষায় বনবিভাগের পাশাপাশি র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনীকে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। আগামী ১৩ নবেম্বর থেকে তিন দিনব্যাপী আলোরকোলের রাশ মেলায় বন্যপ্রাণী নিধনের অপতৎপরতা রোধে বনবিভাগ, র‌্যাব, নেভি, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও বিজিবিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, নবেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাঘ মনিটরিংয়ের জন্য দু’জন আমেরিকান বিশেষজ্ঞ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। গ্যারি এফ কলিন্স ও ক্যাথি ওয়াচয়ালা আমেরিকান বিশেষজ্ঞ মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। ওয়াসিংটন ডিসির কনজার্ভেশন বায়োলজি ইনস্টিটিউশন থেকে এ দুই বিশেষজ্ঞ আসছেন। বনবিভাগের সুন্দরবন সার্কেলের বন সংরক্ষক জহির উদ্দিন আহম্মেদ বেঙ্গল টাইগার কনজারভেশন এ্যাক্টিভিটি-বাঘ প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রকল্প পরিচালক জহির উদ্দিন আহম্মেদ জানান, ২০২২ সালের মধ্যে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষেই এ উদ্যোগ। বিশেষজ্ঞরা বাঘের খাদ্য শৃঙ্খল, আবাসস্থল, প্রজনন, শিকারীদের তৎপরতা ইত্যাদি বিষয়ে মনিটরিং করবেন। ক্যামেরা ট্রাফিং’র জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আশাবাদী-সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়বে।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাইদ আলী জানান, মধ্য নবেম্বর থেকে ক্যামেরা ট্রাফিং’র কাজ শুরু হবে। শেষ করতে তিন মাস লাগবে। বন এলাকায় প্রায় তিনশ’ ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। তিনিও আশাবাদী-বাঘের সংখ্যা বাড়ার সু-সংবাদটি বিশ্ববাসীকে আগামী বছর জানাতে পারবেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ১১ জুন সুন্দরবন থেকে পাচার হওয়া তিনটি বাঘের শাবক আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী রাজধানীর শ্যামলী থেকে উদ্ধার করে। পরে শাবকগুলো ডুলহাজরা সাপারী পার্কে অবমুক্ত করা হয়। সুন্দরবন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ২০১১ সালের আগস্ট মাসে মংলা এলাকার শিকারী দলের সদস্য জামাল উদ্দিন সাতক্ষীরায় বাঘের চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়ে। শিকারী দল ২০১০ ও ২০১১ সালে বেশ তৎপর ছিল। সুন্দরবনের দু’অংশে বাঘ ও হরিণ শিকারে ৭৫ গ্রুপ তৎপর।
সূত্র আরো জানায়, শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর, ভেটখালী ও কৈখালী এলাকায় ৮০ জন হরিণ শিকারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে। বন বিভাগের রেকর্ড অনুযায়ী ট্যাংরাখালী গ্রামের মান্দার গাজী ও কালেঞ্চী গ্রামের নুরুল ইসলাম বাঘের চামড়া, হাড় ও নখ পাচারের সাথে জড়িত।
মধু আহরণে যাওয়া মৌয়ালরা কটকা, কচিখালী, নীলকমল ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বাঘের বাচ্চা দেখা গেছে বলে সুন্দরবন বিভাগকে অবহিত করেছে। প্রত্যেকটি বাঘিনীর কোলে গড়ে দু’টি করে বাচ্চা মৌয়ালরা দেখতে পেয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর নাজমুস সাদাত অভয়ারণ্য গড়ে তোলার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, অভয়ারণ্যের পরিপূর্ণ সুফল পেতে হলে বনবিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ