ঢাকা, বৃহস্পতিবার 03 November 2016 ১৯ কার্তিক ১৪২৩, ২ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি

৭ নবেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য পেশ করেন মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া শেখ হাসিনার অধীনে বিএনপি কোন নির্বাচনে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.)  হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম। তিনি বলেন, তার ‘শেখ হাসিনা’ অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত ‘৭ নবেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মাদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদিকা রাশেদা বেগম হীরা প্রমুখ।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে হাফিজ উদ্দিনন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন বিএনপি’কে নির্বাচনে আসতে দেয়া হবে না। ভোটাধিকার হরণ করা নির্বাচন বাংলার মাটিতে আর হতে দেব না। আপনারা যদি আবার এমন নির্বাচন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে  থাকেন তাহলে বিএনপি ঘরে বসে আঙ্গুল চুষবে না। জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতিহত করবে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি আবার রাজপথে নামবে। বর্তমান ফ্যাসবাদী ও অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে আমরা আবারও রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলবো। আওয়ামী লীগের নির্বাচনের প্রস্তুতি মানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোট কারচুপির প্রস্তুতি বলেও মন্তব্য করেন মেজর হাফিজ।
হাফিজউদ্দীন আহমেদ বলেন, বাকশালী কায়দায় চলছে দেশ, দেশে কোন আইন নেই বলেই আজ শিশু ধষির্তা হচ্ছে। ধর্ষক জানে তাকে বাচানোর জন্য তার গডফাদার আছে তাই শিশুকে ধর্ষণ করতে দ্বিধাবোধ করছে না। সামনের নির্বাচনে শেখ হাসিনা এই সব অপরাধীদের ব্যাবহার করবেন।
হাফিজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন থেকেই ভাবছেন কি করে ডিজিটাল কায়দায় কারচুপি করে নির্বাচনের ফলাফল নিজের অনুকূলে  নেওয়া যায়। নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করে তার অনুগত অফির্সাস আর আওয়ামী সন্ত্রাসী পুলিং এজেন্ট,প্রিজাইডিং অফির্সাস দিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স পাঠাবে। সে কারনেই শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি।
তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও প্রজন্মকে সর্তক করে বলেন, জনগণকে নিয়ে সকল যড়ষন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায়ের জন্য সর্বাত্ম প্রস্তুতি গ্রহণ করতে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।
তিনি আরো বলেন ১৯৭৫ সালে ৭ইনেবেম্বর সৈনিকদের বিপ্লবটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়। বড় অংশে ছিলো অরাজনৈতিক মনোভাবসম্পন্ন নিখাদ বাংলাদেশ প্রেমিক, জিয়া প্রেমিক সৈনিকেরা। আর ছোট অংশে ছিলো জাসদের প্রভাবাম্বিত বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্য ও অনুসারীরা। জিয়াউর রহমানের অনুসারীরা দেশপ্রেমিক বীরমুক্তিযোদ্ধা। জাসদ আর বাকশালী অনুসারীরা বিদেশীদের যড়ষন্ত্র বাস্তবায়নে কণের্ল তাহেরের নেতৃত্বে সেদিন সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলো। কিন্ত শহীদ জিয়ার কারণে তারা এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আর একারনেই আজ জাসদ ও আওয়ামী লীগের এতো ক্ষোভ। ৭ই নবেম্বর গণতন্ত্র দিয়েছে, দিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, কণের্ল তাহের ১৯৭২ সাল থেকে যড়ষন্ত্র করে বিপ্লবী সংগঠণ করে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে চেয়ে ছিলেন, আর এ জন্য মেজর জিয়াকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। কিন্ত জিয়াউর রহমান তাহেরদের ষড়যন্ত্রের  ফাঁদে পা দেননি।
মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মো.ইব্রাহীম বীর প্রতীক বলেন, নেত্রীর বিকল্প নেই তবে নেতৃত্বের বিকল্প আছে। তাই জিয়া এবং ৭ই নবেম্বর কী এই বিষয়বস্তু নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে, নেতা ও কর্মীদের মাঝে ম্যাসেজ পৌছাতে হবে।
তিনি বলেন,৭৫’কে মনের ভিতরে প্রবেশ না করলে ৭ই নবেম্বরের চেতনা পাওয়া যাবে না। তৎকালীন বাংলাদেশ  সেনাবাহীনির অভ্যন্তরে একটি গোপন সংগঠন কাজ করতো। সংগঠনটির নাম ছিলো বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা। এই বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সাথে যোগাযোগছিলো সেনাবাহিনীর বাইরের একটি সংগঠনের, সেটি ছিলো জাসদ নামের রাজনৈতিক দলের গোপন অংসগঠন; যার নাম ছিলো গণবাহিনী।
তিনি বলেন,৭ই নবেম্বর স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের রক্ষা কবচ এই দিবস বাঙালীর জীবনে জাতীয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসের মতোই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ