ঢাকা, বৃহস্পতিবার 03 November 2016 ১৯ কার্তিক ১৪২৩, ২ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে অনেকেই দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার : জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে অনেকেই দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। খুলনা-সাতক্ষীরাসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তুচ্যুত অনেক মানুষ ইতোমধ্যে অবৈধভাবে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। দেশে থাকা স্বজনরা তাদের সন্ধান জানেন না। আর টেকনাফ থেকে থাইল্যান্ড-মালেশিয়া যাওয়ার খবরও একাধিকবার গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
গতকাল বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় সংলাপে এই দাবি জানানো হয়। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে উন্নয়ন সংগঠন নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ, বাংলাদেশ (এনসিসি’বি) ট্রাস্ট ও সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি অ্যাকশান এ্যান্ড রিসার্চ (সিপিআরডি) এই সংলাপের আয়োজন করে। গবেষক ড. মো আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন বিআরডিবি’র মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল কাইয়ুম। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উত্থান করেন সিপিআরডি'র নির্বাহী পরিচালক মো. শামছুদ্দোহা। আলোচনায় অংশ নেন এনসিসিবি’র কো-অর্ডিনেটর মিজানুর রহমান বিজয়, কোস্টাল ডেভোলপমেন্ট পার্টনারশীপ (সিডিপি)’র নির্বাহী প্রধান সৈয়দ জাহাঙ্গীর হাসান মাসুম, সিসিডিবি’র তানজীর আহমেদ প্রমুখ।
মূল প্রবন্ধে মো. শামছুদ্দোহা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেকেই এলাকা, এমনকি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। কেউ ঝড়-জলোচ্ছাসের কারণে বাড়ি-ঘর ও সম্পদ হারিয়েছে। কারো বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আবারো দুর্যোগের কারণে এলাকায় খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। আবার কোথাও ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে। ফলে অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু জলবায়ু সম্মেলনে এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়নি। বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অনেক এলাকায় জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে তারা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাদের আশ্রয় ও পুনর্বাসনে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামীতে এবিষয়ে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংলাপে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উন্নত বিশ্বগুলো দায়ি। তারা সেই দায় ইতোমধ্যে স্বীকার করেছে। তবে প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষতিপূরণ প্রদানে তালবাহানা করছে। প্যারিস সম্মেলনে চুক্তি হলেও সেই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে কালক্ষেপণ চলছে। তাই ক্ষতিপূরণ আদায়ের পাশাপাশি স্থানীয় অভিযোজন কাজ গতিশীল করতে হবে। তিনি আরো বলেন, অভিযোগ প্রক্রিয়াকে টেকসই করতে অভিযোজন পরিকল্পনায় দরিদ্র মানুষকে গুরুত্ব দিতে হবে। জেলা-উপজেলাভিত্তিক স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ