ঢাকা, বৃহস্পতিবার 03 November 2016 ১৯ কার্তিক ১৪২৩, ২ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শেষ দিনেও বিশেষ কর্মসূচির চাল পাননি তালতলীর জেলেরা

স্টাফ রিপোর্টার : নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির (বিশেষ ভিজিএফ) চাল গতকাল বুধবার পর্যন্ত পায়নি বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার ৭ ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে সাত হাজার জেলে।
ভিজিএফের বিশেষ বরাদ্দকৃত চাল না পেয়ে দুর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছেন তারা। সাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় নদ-নদীতে মা ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার শেষ দিন বুধবার পার হলেও মাছ আহরণে বিরত থাকা তালতলী উপজেলার ৭ হাজার ৪৬১ জন দুস্থ জেলে পরিবার সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল এখনও পাননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত এই ২২ দিন সাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীতে মা ইলিশ ধরা বন্ধ ছিল। এ উপজেলার জেলেরা মা ইলিশ রক্ষায় সাগর ও নদ-নদীতে সকল প্রকারের জাল ফেলা থেকে বিরত থাকে। খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বিরত থাকা জেলেদের ২০ কেজি করে চাল দেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। এ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৮হাজার ২৬৬ জন নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ৭ হাজার ৪শ’৬১ জন জেলের জন্য ২০ কেজি করে ১৪৯ দশমিক ২২০ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নিবন্ধিত ৭ হাজার ৪শ’ ৬১ জন জেলের মধ্যে উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে ৭শ’ ৯৩ জন, ছোটবগী ইউনিয়নে ৮শ’১৬জন, কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নে ৭শ’৩৩জন, শারিকখালী ইউনিয়নে ৫শ’৪৭জন, বড়বগী ইউনিয়নে ১হাজার ১শ’৭৪জন, নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়নে ১হাজার ৬শ’৭৯জন ও সোনাকাটা ইউনিয়নে ১হাজার ৭শ’ ১৯ জন জেলে এ চাল পাওয়ার কথা।
মালিপাড়া গ্রামের জেলে আবু হানিফ বলেন,‘মাছ ধরা বন্ধের সময় মোরা মাছ ও ধারতে পারি নাই আবার চাউলও পাই নাই কি কইরা মোরা বাঁচি।’ নলবুনিয়ার জেলে শাহআলম বলেন, মোরা না খাইয়া দিন কাডাইছি। কেউ মোগো খবর লয় নাই। পোলা মাইয়া লইয়া না খাইয়া মোরা দিন কাডাইছি। অথচ গত ৩১ অক্টোবর উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌছিফ আহমেদ চেয়ারম্যানদেরকে ২ নভেম্বরের মধ্যে জেলেদের ভিজিএফে’র চাল বিতরণের তাগিদ দেন। কিন্তু এক এক করে নিষেধাজ্ঞার ২২দিন পার হলেও চাল বিতরণ করতে পারেননি চেয়ারম্যানরা। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, আমি ভ্রাম্যমান আদালত নিয়ে নদীতে ও সাগরে ব্যস্ত সময় পার করেছি, কি কারণে চাল দেয়া হয়নি তা আমি জানি না। তালতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইস্রাফিল বলেন, চেয়ারম্যানরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তালিকা জমা দিতে না পারার কারণে গতকাল পর্যন্ত চাল বিতরণ সম্ভব হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ