ঢাকা, শুক্রবার 04 November 2016 ২০ কার্তিক ১৪২৩, ৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় নিরস্ত্র ৮ মুসলিম ছাত্রকে এনকাউন্টার-মমতা

৩ নবেম্বর, এনডিটিভি/টাইমস অব ইন্ডিয়া/ইন্ডিয়া টুডে : মুসলিম ছাত্র সংগঠন ‘স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়ার’ (সিমি) ৮ ছাত্রনেতা এনকাউন্টারে নিহত হওয়ার ঘটনায় অবশেষে মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
গত বুধবার টুইটারে ভোপাল এনকাউন্টারের বিষয়ে মন্তব্য করেন মমতা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এসব করানো হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা দেশের অখ-তা ও ঐক্যের ব্যাপারে আমাকে গভীরভাবে চিন্তিত করছে।’
এনকাউন্টারের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বলেন, ‘তথাকথিত এনকাউন্টারের দাবি আমরা মানছি না। এই ঘটনা নিয়ে মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।’
তবে এই এনকাউন্টারকে অসত্য দাবি করে সরব হন ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং অ্যাক্টিভিস্টরা।
বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠন এটাকে পরিকল্পিত হত্যাকা- আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে গোটা ভারতজুড়ে  ফুঁসে উঠেছে এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এর বিচার দাবি করছেন তারা।
এনকাউন্টার নিয়ে কংগ্রেস, সিপিএমসহ বিরোধী দলগুলো সরব হলেও তৃণমূল কংগ্রেস নীরব ছিল।
এ নিয়ে দলটির মুসলিম নেতারা প্রকাশ্যে বিবৃতির দাবি জানান। এরপর টুইট করে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।
এদিকে, ভারতের ভোপালে বিতর্কিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৮ মুসলিম ছাত্রনেতাদের গুলীকরার সময় তারা নিরস্ত্র ছিলো বলে জানিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের অ্যান্টি-টেরর স্কোয়াডের প্রধান সঞ্জিব শামি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে এ কথা বলেন তিনি।
গত রোববার গভীর রাতে ভোপালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সেন্ট্রাল জেল ভেঙে ভারতে নিষিদ্ধঘোষিত স্টুডেন্টস ইসলামিক ম্যুভমেন্ট অব ইন্ডিয়ার (সিমি) আট সদস্য কারারক্ষীকে হত্যা করে পালিয়েছে বলে তাদের ছবি ও নাম প্রকাশ করে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। পালানোর প্রায় ১০ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে। ভোপালের সিনিয়র পুলিশ অফিসার যোগেশ চৌধুরী বলেন, গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ভোপাল সেন্ট্রাল জেল থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ওই আট পলাতক বন্দীকে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যা করা হয়। এর পরই বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক শুরু হয়। চলমান বিতর্কের মাঝেই মধ্যপ্রদেশের অ্যান্টি- টেরর স্কোয়াডের প্রধান সিমি সদস্যরা নিরস্ত্র বলে স্বীকার করলেন।
সিমি সদস্যরা নিরস্ত্র ছিলো স্বীকার করলেও সঞ্জিব শামি বলেন, ‘আইনে সুনির্ধারিতভাবে উল্লেখ করা আছে কখন পুলিশ শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে এবং কখন হত্যা করতে পারবে। নিহতরা ছিলো ভয়ংকর সন্ত্রাসী। পুলিশ যদি দেখে তাদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তাহলে তারা সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করতে পারে।’
এর আগে সোমবারও শামি একই দাবি করেছিলেন যে, সিমি সদস্যরা নিরস্ত্র ছিলো। তবে তার এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আসছেন পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা। নিজের এ অবস্থানে অনড় আছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বন্দুকযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া বাহিনীর প্রধান শামি আরও বলেন, পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলী ছুড়া না হলেও শক্তি প্রয়োগ করা যায়।
ভারতের শীর্ষ মানবাধিকার সংগঠন মধ্যপ্রদেশের সরকারের কাছে ‘ঠাণ্ডা মাথায়’ ৮ সিমি সদস্যকে হত্যার ব্যাখ্যা চেয়েছে। এ দাবি আরও প্রতিষ্ঠিত হয় যখন সিমি সদস্যদের গুলী করার কয়েকটি ভিডিওতে তাদের নিরস্ত্র দেখা যায়।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ভুপেন্দ্র সিংহ বলেন, বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করার কিছু নেই। তিনি জানিয়েছেন, বিতর্কিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি তদন্ত করবে না এনআইএ।
১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ছাত্র সংগঠন এসআইএমআই বা সিমি। এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে নাশকতায় মদদ দেওযার অভিযোগ এনে ২০০১ সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ভারতের তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকার। তবে এখনও পর্যন্ত ওই সংগঠনটির কোনও সহিংস কর্মকন্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ