ঢাকা, শুক্রবার 04 November 2016 ২০ কার্তিক ১৪২৩, ৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মসুলে অবরুদ্ধ আইএস প্রধান বাগদাদির তুরস্কে হামলার আহ্বান

৩ নবেম্বর, রয়টার্স/দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট : নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠি আইএসের প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি তুরস্ক আক্রমণের জন্য তার যোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মসুলে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ইরাকি বাহিনীর অভিযানের পর প্রথমবারের মতো বার্তা দিয়েছেন আইএস নেতা।
গতকাল বৃহস্পতিবার অনলাইনে প্রকাশিত এক অডিও বার্তায় বাগদাদি বলেছেন, ইসলামিক স্টেটের এই প্রচ- লড়াই ও ‘মহান জিহাদ’ শুধু আমাদের বিশ্বাস বাড়িতে তুলছে। এগুলো আমাদের জয়ের পূর্বলক্ষণ।
৩১ মিনিটের ঐ রেকর্ডিংয়ের সত্যতা এখনো যাচাই করা হয়নি।
সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে বাগদাদি বার্তা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সিরিয়ায় আইএসকে দুর্বল করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এবারের বার্তায় তিনি ‘আল্লাহর শত্রুদের’ বিরুদ্ধে যুদ্ধকে দুর্বল হতে না দিতে মসুলের নিনেভ প্রদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
আইএসের আত্মঘাতী যোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিশ্বাসীদের রাতগুলোকে দিনে পরিণত করুন, তাদের ভূমিকে মরুভূমিতে পরিণত করুন এবং তাদের রক্তে নদী বইয়ে দিন।
অন্যদিকে মসুল শহরে ইরাকি সেনার পাতা ফাঁদে পা দিল আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি। তাকে এখন ঘিরে ফেলেছে ইরাকি সেনারা।
গত ৮৯ মাস ধরে ইরাকে আইএস জঙ্গিদের শেষ ঘাঁটি মসুল দখলের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে ইরাকি সেনাবাহিনী। এই গোটা সময়টা বাগদাদি আত্মগোপন করে ছিলেন। কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না তার।
কিন্তু গুপ্তচরদের খবর ছিল, মসুলেই আছে বাগদাদি। সেখানেই গোপন আস্তানায় বসে রণকৌশল ঠিক করে দিচ্ছে। কাজেই মসুলে চূড়ান্ত হামলার পাশাপাশি বাগদাদিরও খোঁজ চলছিল। হঠাৎই সাফল্য এলো বুধবার।
জানা গেল, সেনাবাহিনীর কৌশলী চেষ্টায় গোপন ঘাঁটি থেকে বেরিয়ে এসেছেন বাগদাদি। এবং বেরিয়েই বেকায়দায়। চারদিক থেকে ঘিরে ধরেছে ইরাকি বাহিনী। এই সুযোগে তাকে হত্যা করা গেলে গভীর সঙ্কটে পড়বে আইএস সদস্যরা।
চলতি সংঘর্ষের মধ্যেই তাদের নতুন একজন ‘খলিফা’ খুঁজে নিতে হবে। নয়ত নেতৃত্বের সঙ্কটে আরো কঠিন অবস্থায় পড়বে কোণঠাসা আইএস  গোষ্ঠী। গুজব শোনা যাচ্ছে, বাগদাদি নাকি এর মধ্যেই জখম হয়েছেন।
কুর্দি প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারজানির সেনাপ্রধান ফুয়াদ হুসেইন বুধবার জানিয়েছেন, তার কাছে পাকা খবর আছে যে বাগদাদি হয় মারাত্মকভাবে জখম, নয় নিহত। হুসেইনের সেনা চরেরা বাগদাদির গতিবিধির ওপর লক্ষ্য রাখত। তাদের বক্তব্য, বাগদাদি নিজে ময়দানে না নেমে, আড়াল থেকে অন্য আইএস কমান্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগের ভরসায় দল চালাতেন।
কিন্তু ২০১৪ সালে প্রাথমিক সাফল্যের পর একে একে সেই কমান্ডাররা যুদ্ধে মারা পড়েছেন বা লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পালিয়েছেন। ফলে বাগদাদির নেতৃত্বের রাশ এমনিতেই আলগা হয়ে গিয়েছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ