ঢাকা, শুক্রবার 04 November 2016 ২০ কার্তিক ১৪২৩, ৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মাধবদীতে মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলী হত্যা মামলা আসামীদের দম্ভোক্তি মামলা না তুললে দেখে নেবে!

মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা :  মাধবদী থানার কাঠালিয়া ইউনিয়নের কেরারকান্দা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জিন হযরত আলী(৭২) খুন হওয়ার ৮ দিনেও ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। গত ২৮ অক্টোবর শুক্রবার মাধবদী থানায় মামলা নং ১৬, ২৮/১০/২০১৬ইং দায়ের হলেও থানা পুলিশ আজো তদন্ত করতেও যায়নি বলে জানান বাদী। গতকাল ৩ নভেম্বর মামলার বাদিনী নিহত হযরত আলীর মেয়ে মিনারা ও তার স্বামী মজিবুর রহমান সংবাদ প্রতিনিধিকে বলেন প্রতিদিন একবার করে থানায় এসেও পুলিশের কাছ থেকে আশানুরূপ কোন প্রকার সহযোগিতা পাচ্ছিনা। অন্যদিকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো আসামীরা মামলা তুলে না নিলে পরিণতি খারাপ হবে বলে হুমকি দিচ্ছে। এ ব্যাপারে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন বাদিনী ও তার পরিবারের লোকজন। মজিবুর রহমান আরো জানান ইতিমধ্যেই আসামীদের পক্ষে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিও মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। সরেজমিনে কেরারকান্দা গ্রামে নিরীহ জনসাধারণের সাথে কথা বলে জানাগেছে আসামীরা খুবই দুর্ধর্ষ ও প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কেউ প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে কথা না বললেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই প্রচ- ক্ষোভ প্রকাশ করে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন যারা সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্ট করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো সমাজেই এর প্রভাব পড়বে এবং অপরাধের ধারাবাহিকতার মাত্রা আরো বেড়ে যাবে। তারা আসামীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর সোমবার সন্ধায় নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার কাঠালিয়া ইউনিয়নের ডৌকাদী কেরার কান্দা গ্রামে কাঠালিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলীর সাথে একই গ্রামের ইদ্রিছ আলীর পুত্র আলম ও আল আমিনের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হযরত আলীকে আল আমিন ও আলম কিল ঘুষি মারতে থাকে এক পর্যায়ে হযরত আলীর বুকে সজোরে ঘুষি মারলে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যায়। আশপাশে থাকা গ্রামের লোকজন প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার হযরত আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তাকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হযরত আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ২৫ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হযরত আলীর লাশ ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেন। ঘটনার ৮ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ