ঢাকা, শুক্রবার 04 November 2016 ২০ কার্তিক ১৪২৩, ৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চারঘাটে চোলাই মদ তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে গবাদি পশুর অ্যান্টিবায়োটিক

চারঘাট (রাজশাহী) সংবাদদাতা :  চোলাই মদ তৈরিতে ইথাইল অ্যালকোহলের সঙ্গে পিরিডিন জাতীয় জৈব খার, মিথানল, ইউরিয়া, নিশাদল, বাখরবড়ি, এনজেল পাউডার ও গুলের মতো ক্ষতিকর পদার্থের ব্যবহার তো অনেক আগে  থেকেই হয়ে আসছে। কিন্তু এখন  চোলাই মদ তৈরি করতে ব্যবহার করা হচ্ছে গবাদি পশুর জন্য তৈরী অ্যান্টিবায়োটিক ‘অক্সভেট’। মদে  নেশার মাত্রা বাড়াতে এই মদে পশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছে  চোলাই মদ উৎপাদকরা। আর এ সব  চোলাই মদ মাঝে মধ্যেই মৃত্যুর  কোলে ঢলে পড়ছেন মাদকাসক্তরা।
চলতি বছর রাজশাহী  জেলার চারঘাট উপজেলায় চোলাই মদ পানে জুলাই মাসে ৮জনের মৃত্যু হয়। এদের সবাই  চোলাই মদ পান করেছিলেন। তবে কাগজে কলমে ৮ জনের তালিকা থাকলেও মৃত্যুর সংখ্যা আরও  বেশী বলে জানিয়েছেন অনেকেই। কারণ অনেকের মৃত্যু বাড়িতে হওয়ায় কাউকে কিছু না জানিয়ে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে প্রচার চালানো হয় বলে জানান তারা। সূত্রমতে,  চোলাই মদ ব্যবসায়ীরা চুলার আগুনে ভাত ফুটায়। রীতিমতো পচা ভাত ফুটানো হয় যে পাতিলে ওই পালিতের উল্টো অংশে আরো একটে পাতিল উল্টোভাবে বসিয়ে সংগ্রহ করা হয় বাষ্প। তা  থেকেই তৈরি হয়  চোলাই মদ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এ মদ সবচেয়ে  বেশী তৈরী হয় এবং কদরও বেশী। বিভিন্ন গ্রামে এমন দৃশ্য প্রায় সময়  চোখে পড়ে। মদ এমনিতেই শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর। তার উপরে  নেশার মাত্রা বাড়াতে রাসায়নিক দ্রব্য সঙ্গে  মেশানো হচ্ছে মুরগি-পশু পাখি ওষুধ। ফলে ক্রমশই বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা।  যোগ হচ্ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, এ সব ক্ষতিকর রাসায়নিক শরীরে ঢুকলে অসুস্থতা স্বাভাবিক।  চোখ, যকৃতের অসুখ  থেকে ক্যান্সারসহ  যে  কোনও ভয়ঙ্কর  রোগই সহজেই শরীরে অনুপ্রবেশ করতে পারে। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে মৃত্যু হতে পারে। মিথানল  চোখের দৃষ্টি নষ্ট করে দেয়।
আর গবাদি পশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত অক্সিভেট অ্যান্টিবায়োটিক  টেবলেট মানব শরীরে ঢুকে কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট করে  দেয়।  জেলার চারঘাট উপজেলায় হরহামাশেই পাওয়া যাচ্ছে এসব  চোলাই মদ। উপজেলার একাধিক  চোলাই মদ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মদের আকর্ষণ বাড়াতে সম্প্রতি তারা মুরগি-পশুপাখির ব্যবহত অক্সভেট ওষুধ  মেশাচ্ছেন। তাতে  চোলাই মদ খাওয়ার পর অল্প সময়েই  নেশায় বুঁদ হয়ে যাওয়া যাচ্ছে।  নেশার বহর  বেড়ে যাওয়ায়, বাড়ছে খদ্দের সংখ্যাও। চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের প্রধান ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, অক্সভেট হচ্ছে গবাদি পশু চিকিৎসার উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট। গবাদি পশু যখন ঝিম ধরে নাজেহাল হয়ে পড়ে ঠিক তখনই তাদের খাওয়ানো হয়ে থাকে।
এ ওষুধ শুধু গবাদি পশু  শোষণ ক্ষমতা রাখে। এটি মানবশরীরে প্রবেশ করলে কয়েক মাসের মধ্যে কিডনিকে ড্যামেজ করে দিতে পারে এবং তার মৃত্যু হওয়ার আশংকা  বেশী থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ