ঢাকা, শুক্রবার 04 November 2016 ২০ কার্তিক ১৪২৩, ৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অসচেতনতা অদক্ষতা ও ইতিহাসবোধ সংকটে : চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্নসম্পদ

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকায় এক সেমিনারে প্রত্নবিশেষজ্ঞ-গবেষকরা বলেছেন, অসচেতনতা, অদক্ষতা ও ইতিহাসবোধ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের প্রত্নসম্পদ। গবেষণার অভাব এবং অবৈজ্ঞানিক উৎখনন ও সংরক্ষণে বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। অন্যদিকে ভূমির উপরিভাগে বিদ্যমান নিদর্শন কিংবা খননে উন্মোচিত ঐতিহ্যগুলোও প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। 

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে যৌথভাবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর এবং পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) আয়োজিত ‘প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণে সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনারে তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব আকতারী মমতাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন আই এ বি-এর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক সামশুল ওয়ারেস। 

অন্যান্য অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আই এ বি-এর সভাপতি স্থপতি আবু সাইদ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নেসার আহমেদ, পবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, সহ সম্পাদক স্থপতি শাহীন আজিজ, অধ্যাপক আবদুল মমিন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম শামীম, অধ্যাপক আয়েশা বেগম, অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, ড. মো. আতাউর রহমান প্রমুখ। সেমিনারে সূচনা বক্তব্য দেন পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান এবং প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ। সংস্কৃতি সচিব আকতারী মমতাজ তার লিখিত বক্তব্যে আশ্বস্ত করেন, এই সেমিনারে গৃহীত সুপারিশসমূহ সরকারের নীতি প্রণয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

অধ্যাপক সামশুল ওয়ারেস বলেন, প্রত্নসম্পদ উৎখনন ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে বৈজ্ঞানিকভাবে।

আবু নাসের খান বলেন, ইতিহাস-ঐতিহ্য বাঁচাতে জনগণকে সাথে নিয়ে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। 

অধ্যাপক নেসার আহমেদ বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো বাদে ঐতিহ্য সংরক্ষণের মতো জটিল ও ব্যয়সাপেক্ষ কাজ সূচারুরূপে করা সম্ভব নয়। 

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক শাহনাওয়াজ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রত্ননিদর্শন ও স্থাপনার সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে প্রয়োজনমতো সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়া বা না করতে পারা। এ দেশের বড় সংখ্যক মানুষকে প্রত্নসম্পদ এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা তেমনভাবে সচেতন করে তোলা যায়নি। অন্যদিকে প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের দায়িত্ব প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যে প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর অর্পিত সেখানেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে দায়িত্বপালন যথাযথভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে প্রকৃত অর্থে প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের জায়গাটি অনেকটাই অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। 

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট সমস্যাগুলোও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এদেশের প্রত্ননিদর্শন ও ঐতিহ্য। বাংলাদেশের অনেক প্রত্ননিদর্শন ভূমিদস্যুদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনোটি আইনগতভাবে উদ্ধার করা গেলেও অনেক কিছু থেকে যায় ভূমিদস্যুদের দখলেই। কখনো কখনো আমাদের অসচেতনতা, অদক্ষতা ও ইতিহাসবোধ সংকটের কারণে বড় রকমের বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়।

সেমিনার শেষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যপারে সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, প্রত্নসম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কাজের সমন্বয় সাধন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরকে বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ