ঢাকা, শুক্রবার 04 November 2016 ২০ কার্তিক ১৪২৩, ৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাপা নেতা সাবেক এমপি আমিন উদ্দিনসহ ৮ জনের যাবজ্জীবন

খুলনা অফিস : যশোরের অভয়নগরের চাঞ্চল্যকর ডা. আকরাম আলী মোল্লা হত্যা মামলায় জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক সংসদ সদস্য এমএম আমিনউদ্দিনসহ আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এমএ রব হাওলাদার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। একই সাথে আসামীদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। রায়ে চার আসামীকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

দন্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন, যশোর-৪ (অভয়নগর-বাঘারপাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এমএম আমিন উদ্দিন, অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী গোলাম হায়দার ডাব্লু, নওয়াপাড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ আসাদুল্লাহ আসাদ, ছাত্রদলের অভয়নগর উপজেলা সভাপতি মোল্লা হাবিবুর রহমান হাবিব, অভয়নগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক নওয়াপাড়ার নির্বাহী সম্পাদক, লোকসমাজের অভয়নগর প্রতিনিধি, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মল্লিক, নওয়াপাড়া পৌর যুবদল নেতা সৈয়দ আলী মিস্ত্রি, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিএম বাচ্চু এবং যুবদল কর্মী ইউশা মোল্লা। এদের বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। দন্ডাদেশপ্রাপ্তদের মধ্যে ইউশা মোল্লা পলাতক রয়েছে।

রাষ্টপক্ষের পিপি এডভোকেট মো. এনামুল হক জানান, দন্ডপ্রাপ্ত সাবেক সাংসদ এস এম আমিন উদ্দিন চারদলীয় জোটের হয়ে জাতীয় পার্টির (নাজিউর রহমান মঞ্জু ও ফিরোজ রশীদ) পক্ষ থেকে যশোর-৪ আসন (অভয়নগর-বাঘারপাড়া) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে পিপি এনামুল জানান, ২০০৬ সালের ১৩ আগস্ট অভয় নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকরাম আলী মোল্লা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অদূরে তার নিজস্ব চেম্বারে রোগী দেখা শেষ করে রাত ১০টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে হাসপাতাল রোড এলাকায় সন্ত্রাসীরা ডা. আকরাম আলী মোল্লার মাথায় বোমা নিক্ষেপ করে। বিস্ফোরিত বোমার স্পিøন্টারে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত চিকিৎসক ডা. আকরাম আলী মোল্লার ভাই ডা. আশরাফ আলী মোল্লা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে অভয়নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এক সপ্তাহ পরে খুলনার সিআইডিতে স্থানান্তরিত হয়। সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার সুখরঞ্জন সমাদ্দার ১২জনকে অভিযুক্ত করে ২০০৮ সালের ১৫ নভেম্বর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০১৬ সালের ১৮ মে মামলাটি খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল) জনযুদ্ধের সন্ত্রাসীদের দাবিকৃত চাঁদা পরিশোধ না করায় তার এ হত্যাকান্ড ঘটায় তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানান পিপি এনামুল। আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল থেকে রাত সাতটা ২০ মিনিট পর্যন্ত আদালতে মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়। ওই দিন সকালে মামলার আট আসামী আদালতে হাজির হন। কিন্তু দুপুরের খাবার বিরতির সময় আসামী জিএম বাচ্চু কৌশলে আদালত থেকে পালিয়ে যান। বৃহস্পতিবারই মামলাটির রায় ঘোষণা করা হবে বলে বুধবার রাতে জানিয়ে দেন আদালত। সে অনুযায়ী আদালতে হাজির আসামীদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

আদালতে আসামী পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন এডভোকেট এমএম মুজিবুর রহমান, আবদুল মালেক, চৌধুরী তৌহিদুর রহমান তুষার, সুজিত অধিকারী প্রমুখ। তারা জানান, চার্জসিটভুক্ত চার আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তারা হলেন-নওয়াপাড়া পৌর যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ, মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং শরিফুল ইসলাম শরিফ ও সজিব। আদালত তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ