ঢাকা, শুক্রবার 04 November 2016 ২০ কার্তিক ১৪২৩, ৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে ---শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার : বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জিয়াউর রহমান খুনিদের বাঁচাতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার রক্তের স্বপ্নের দেশ হওয়ার পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করা হবে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। সব খাতেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আরও উন্নয়ন হবে। সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার তাগিদ দেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় চার নেতার স্মরণে আওয়ামী লীগের এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত হয় আলোচনা সভাটি। আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের পরিচালনায় স্মরণ সভায় জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতি ম-লীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সভাপতি ম-লীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, তাজউদ্দিন আহমদের কন্যা সিমিন হোসেন রিমি এমপি এবং মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণ ও উত্তরের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ ও সাদেক খান বক্তব্য রাখেন।
শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় আছে তাই আমাদের উন্নয়ন কর্মকা-ের ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে। আজকে আমরা অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট স্বাবলম্বী। অন্যের কাছে হাত না পেতে আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি, যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার মতো ক্ষমতা আজকে বাংলাদেশ রাখে।
শেখ হাসিনা বলেন, অপবাদ দিলেই আমরা এখন সেটা মাথা পেতে নেই না। কোনো অপবাদ দিলে আমরা সেটা চ্যালেঞ্জ করে দেখিয়ে দিয়েছি, হ্যাঁ, বাংলাদেশ পারে। তিনি পদ্মা সেতুর উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে অপবাদ দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল, আমরা প্রতিবাদ করে দাঁড়ালাম। আজকে আমরা নিজেদের অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি।
তিনি বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। যেহেতু সরাকরের ধারাবাহিকতা ছিল বলেই উন্নয়নগুলো আমরা করতে পেরেছি। উন্নয়নগুলো করতে পারবো ভবিষ্যতেও।
প্রধান মন্ত্রী বলেন, আজকে প্রত্যেকটা সেক্টরে উন্নয়ন করেছি। একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে মর্যাদা নিয়ে চলার মতো মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান আমাদের হয়েছে। বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের একটা রোল মডেল।
 বিএনপিকে আয়নায় নিজের চেহারা দেখার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল খালেদা জিয়া নয় দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে। অনেকে অনেক সময় বক্তৃতা দিয়ে বলতেন, জিয়াউর রহমান নাকি দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিল। কী গণতন্ত্র দিয়েছিল? ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি রাতে বাংলাদেশে কারফিউ ছিল। রাত ১০টা ১১টার পর থেকে কোনো মানুষ বের হতে পারতো না। সকাল ছয়টা পর্যন্ত কারফিউ চলতো। তাহলে জিয়াউর রহমান কি কারফিউ গণতন্ত্র দিয়েছিল?।
শেখ হাসিনা বলেন, একই সঙ্গে সে (জিয়াউর) ছিল সেনাপ্রধান আবার রাষ্ট্রপ্রধান। অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে সে দল গঠন করে। ‘নির্বাচনকে কলুষিত করা এ দেশে শুরু করে কে? সেটাও জিয়াউর রহমান। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে দল গঠন করে প্রথমে হ্যাঁ- না ভোট দিয়েছিল। না’র বাক্স আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সব ভোট গিয়ে পড়েছিল হ্যাঁ’র বাক্সে। এরপর এলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। একজন সেনা কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। আর্মি রুল-অ্যাক্টে সেটা ছিল না। সেখানে সে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে। এরপর দল গঠন। কীভাবে সে দল গঠন করে?’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় বসে থেকে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে যে দলটা গঠন করে, সেটা আর যাই হোক জনগণের দল হয় না। জনগণের কল্যাণ তারা করতে পারে না।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজার ভয় পাচ্ছেন, তাই আদালতে যেতে চান না বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি তার সততা থাকতো, বুকে সাহস থাকতো যে অন্যায় তিনি করেননি, তাহলে মামলা মোকাবিলা করতে ভয় পাওয়ার কথা না।
খালেদা জিয়ার কালো টাকা সাদা করার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় অনেকে বড় বড় কথা বলে। শুনে আমার হাসি পায়। কিন্তু ভেবে দেখেন, একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী কালোটাকা সাদা করে।  এতো কালো টাকা কোত্থেকে এল? তা অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ।
শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া কালোটাকা সাদা করেছে, তার ছেলে কালো টাকা সাদা করেছে। কেবল বাংলাদেশ নয়, আমেরিকা ও সিঙ্গাপুর কোর্টে তাদের বিচার হয়েছে। এফবিআই এ দেশে এসে সাক্ষ্যও দিয়ে গেছে। আর খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করেছে।
তিনি বলেন, (খালেদা) এখন কোর্টে হাজিরা দিতে ভয় পান। কারণ, হাজিরা দিলে তার যে সাজা হবে সেটা তিনি ভালো করে জানেন। সে জন্যই তিনি ভয় পান। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছিল, আমি তখন আমেরিকাতে ছিলাম। যখনই মামলা দিয়েছে, ওয়ারেন্ট দিয়েছে, আমি বলেছি, আমি যাবো। কারণ, আমি জানি আমি অন্যায় করিনি, কাজেই এই অবস্থা মোকাবিলা করতে আমি রাজি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (খালেদা) কী জন্য ভয় পাচ্ছেন, সেটা বুঝতে পারেন না? কারণ, এতিমের সম্পদ চুরি করে, সেটা খেয়ে এখন তার পালাই পালাই ভাব।
বিএনপির নেতাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের নেতারা যখন গণতন্ত্রের কথা বলেন, মানবাধিকারের কথা বলেন, হত্যা-গুম খুনের কথা বলেন, তখন শুধু মনে হয় তারা আয়নায় নিজের চেহারাটা দেখেন না।
টানা ৯২ দিন বিএনপি-জামাতের আন্দোলনের প্রসঙ্গ এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন বেগম জিয়া বলেছিলেন, সরকার উৎখাত না করে নাকি ঘরে ফিরবেন না- সরকার উৎখাত করতে পারেনি। জনগণই ঠেকিয়েছিল তাদেরকে। যারাই জনগণকে পোড়াবে জনগণই তাদেরকে প্রতিহত করবে। ভবিষ্যতেও তাদেরকে জনগণই ঠেকাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা কথায়ই বিশ্বাস করি- আমরা স্বাধীনতা এনেছি। এই স্বাধীনতাকে আমাদের অর্থবহ করতে হবে। জাতির পিতাকে হত্যা করে জাতীয় চারনেতাকে হত্যা করে, হাজার হাজার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীকে হত্যা করে তারা ভেবেছিল আওয়ামী লীগের নাম-নিশানা মুছে দেবে। কিন্তু এদেশের মাটি ও মানুষের কথা বলার মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ সংগঠনটা চলে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ