ঢাকা, শুক্রবার 04 November 2016 ২০ কার্তিক ১৪২৩, ৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তিন মাসে দেশী বিনিয়োগের প্রস্তাব কমেছে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা

স্টাফ রিপোর্টার : ব্যবসায়ীদের নানাভাবে প্রণোদনা দেয়ার পরেও দেশীয় বিনিয়োগকারীরা আস্থা পাচ্ছে না। ফলে বড় অংকের বিনিয়োগে আগ্রহ নেই নতুন উদ্যোক্তাদের। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই দেশী বিনিয়োগ টাকার অংকে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা কমেছে। আর প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমেছে ১২৫টি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত তিন মাসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে আগের অর্থ-বছরে প্রথম তিন মাসে যেখানে মোট দেশী বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছিল ২৯ হাজার একশ’ সাত কোটি টাকার সেখানে চলতি অর্থ বছরে এই বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে মাত্র ১৯ হাজার পাঁচশ’ দশ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠান হিসেবে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩৯৪টি আর চলতি বছরে এই সংখ্যা কমে হয়েছে মাত্র ২৬৯টি
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’র (বিডা) দেয়া তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগের প্রস্তাব ১৭৬ শতাংশের বেশি বাড়লেও স্থানীয় বা দেশী বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে ৩৩ শতাংশের মতো।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিডা’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে ৩০৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়েছে। নিবন্ধিত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। বিনিয়োগের এই অঙ্ক আগের তিন মাস এপ্রিল-জুন সময়ের চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ বা ১০ হাজার ১৭ কোটি টাকা বেশি।
চলতি ২০১৬ সালের এপ্রিল-জুন সময়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এ নিবন্ধিত মোট ৪৪৪টি শিল্প ইউনিটের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা।
কিন্তু হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে স্থানীয় বা দেশীয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে। সূত্র মতে, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে সম্পূর্ণ স্থানীয় বিনিয়োগের জন্য নিবন্ধিত ২৬৯টি শিল্প ইউনিটে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ১৯ হাজার ৫১০ কোটি টাকা।
এপ্রিল-জুন সময়ে এই বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৯ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। নিবন্ধিত শিল্প ইউনিটের সংখ্যা ছিল ৩৯৪টি। এ হিসাবে এই তিন মাসে স্থানীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব হ্রাস পেয়েছে ৩৩ শতাংশ। আলোচ্য তিন মাসে স্থানীয় এবং বৈদেশিক সম্মিলিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পখাতে সর্বাধিক বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। তা মোট বিনিয়োগের ৬৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
এ ছাড়া রাসায়নিক শিল্পখাতে ১০ শতাংশ, টেক্সটাইল শিল্পখাতে ৫.৭৪ শতাংশ, প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন্স শিল্পখাতে ৩.১৩ শতাংশ এবং অন্যান্য শিল্পখাতে ১২.৫ শতাংশ বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। তিন মাসে নিবন্ধিত ৩০৫টি শিল্পে মোট ৫৩ হাজার ২৭৯ জন লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে বিডার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য বিনিয়োগ বোর্ড ও বেসরকারীকরণ কমিশনকে একীভূত করে সরকার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) নামে নতুন এই সংস্থা গঠন করেছে। বেসরকারি খাতকে বেগবান করতে এবং দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করার লক্ষ্য নিয়ে সংস্থাটি গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। সংস্থাটির প্রথম নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক বিকল্প নির্বাহী পরিচালক কাজী আমিনুল ইসলাম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ