ঢাকা, শুক্রবার 04 November 2016 ২০ কার্তিক ১৪২৩, ৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ হানা দিচ্ছে ভয় ভীতি দেখাচ্ছে - রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মাদ নাসিমের বক্তব্যের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সমাবেশের অনুমতি দিয়ে দেখুন ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জনগণের সম্পৃক্ততা আছে কিনা। জনগণকে বিচার করার সুযোগ করে দেওয়ার আহবান জানান তিনি ।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মাদ নাসিম বলেছেন, ৭ নভেম্বরে জনগণের সংশ্লিষ্টতা নেই। তার এ বক্তব্যের জবাবে রিজভী এ কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া এগারটার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময়ে জনগণকে মুখরোচক করে কথা বলেন। বিপ্লব দিবসে সমাবেশের অনুমতি দেন তার পরে দেখা যাবে জনগণ যায় কিনা। জনগণ যদি না যায় তাহলে  বুঝবো জনগণ মানে না আর যদি জনগণ যায় তাহলে বুঝবেন জনগণ গ্রহন করছেন। আসলে জনগণের যে ক্ষমতা এবং জনগণ যে গণতন্ত্রের জন্য একটা ফ্যাক্টর এটা তারা (আওয়ামী লীগ) বিশ্বাস করে না।
রিজভী বলেন, তারা জনগণকে মানে না, মানার জন্য যে পদ্ধতিগুলো দরকার সেই পদ্ধতিগুলো তো উনারা (আওয়ামী লীগ) ভেঙ্গে ফেলেছে। জনগণের কথা বলে অগণতান্ত্রিক, ফ্যাসিবাদী আচরণ করবেন আর জনগণের ভোটাধিকার  দেবেন না। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন জোর করে দখল করেছেন। ১৫৩টি আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নেই এমনকি প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। কাজেই জনগণ মানে না বলে তাদের মুখে এসব কথা মানায় না।
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি ৮ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার ব্যাপারে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তাই ৮ নভেম্বর জনসভা করার জন্য যথাযথ প্রশাসনের কাজে অনুমতি চেয়েছি। প্রত্যাশা করি অনুমতি দেবে। আর অনুমতি না দেয়ার প্রশ্নই আসে না।
এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ৭ এবং ৮ নভেম্বর এই দুই দিনের জন্যই অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এই দুই দিনের যে কোন একদিন জনসভা করা হবে। অনুমতি দেয়ার এখনো সময় আছে। এখনো বিএনপি বিশ্বাস করে যে অনুমতি দেবে।
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির  নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ হানা দিচ্ছে এবং ভয় ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা মনে করছি এটি বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর শুধু অগণতান্ত্রিক আচরণই নয় বরং এটি অবৈধ রাষ্ট্রক্ষমতার জোরে দেশব্যাপী আধিপত্য বজায়ের আরও একটি ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে সবকিছু খেয়ে উজাড় করার পর এখন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপের নামে তাদেরকে নিঃস্ব ও ধ্বংস করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন- বিএনপির নেতা আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির  খোকন, আব্দুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ