ঢাকা, শুক্রবার 04 November 2016 ২০ কার্তিক ১৪২৩, ৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিচার বিভাগে দ্বৈত শাসনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

স্টাফ রিপোর্টার : বিচার বিভাগে দ্বৈত শাসনের অবসানে বিচারক নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে রিটে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদর দুটি উপদফাও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, সংসদ সচিবালয় সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। বর্তমান সংবিধানে থাকা ১১৬ অনুচ্ছেদের পরিবর্তে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপনের আবেদন করা হয়েছে রিটে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড.ইউনুছ আলী আকন্দ।
বর্তমান সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে। ৯৫ এর ১ উপ দফায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগ করবেন। আর ৯৫ এর ২ (বি) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ন্যূনতম দশ বছর কোনো বিচার বিভাগীয় পদে দায়িত্ব পালন না করলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য হওয়া যাবে না।  আর সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচারবিভাগীয় দায়িত্বপালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলাবিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তা প্রযুক্ত হবে। এই অনুচ্ছেদ দুটিকে সংবিধানের ৩০ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে রুল জারির আবেদনও করা হয়েছে রিটে। 
সংবিধানের বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদ ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময় চতুর্থ সংশোধনীতে এবং ২০১১ সালে শেখ হাসিনার সময়ে করা পঞ্চদশ সংশোধনীতে সংবিধানের ৯৫ এর ১ ও ২ এর বি অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়। ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদে বলা ছিল, বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচারবিভাগীয় দায়িত্বপালনে রত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলাবিধান সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৭২ এর সংবিধানের চার মূলনীতি ফিরিয়ে আনা হলেও বাহাত্তরের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ আর প্রতিস্থাপন হয়নি। ফলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি, বদলির ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতেই থেকে যায়। 
আগামী রোববার বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বাণী দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা। ওই বাণীতে তিনি বলেন, দ্বৈত শাসনের ফলে বহু জেলায় বিচারক নিয়োগ করা যাচ্ছে না। বিচারকার্যে বিঘœ ঘটছে। যা বিচারকার্যে ধীরগতির অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি তার বাণীতে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের পুনঃপ্রবর্তন চান। অনুচ্ছেদটি পুনঃপ্রবর্তন করা ‘সময়ের দাবি’ বলে মত দেন প্রধান বিচারপতি। পরদিন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রধান বিচারপতির ওই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। প্রধান বিচারপতির বক্তব্যকে স্ববিরোধী বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। এর প্রেক্ষিতে ইউনুছ আলী আকন্দ এই রিট দায়ের করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ