ঢাকা, শনিবার 05 November 2016 ২১ কার্তিক ১৪২৩, ৪ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য পরিবেশসম্মত ও মনোমুগ্ধকর পর্যটন কেন্দ্র

মোঃ আলী হায়দার তালুকদার : বাংলার সুয়েজ খাল খ্যাত দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র আন্তর্জাতিক নৌপথ গাবখান চ্যানেলের উপর নির্মিত ব্রিজ (সেতুটি) ৫ম চীন মৈত্রী সেতু। এটি ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন ব্রিজ নির্মাণের বরাদ্দ করা হয়। তৎকালীন সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী ও ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের এমপি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ব্রিজ নির্মাণের বরাদ্দের জন্য আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা করেন। স্বাধীন বাংলার স্থপতি ও সোনার বাংলা গড়ার রূপকার বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। গণতান্ত্রিক দেশে ক্ষমতার পালাবদলের শেষ সময়ে ব্রিজ নির্মাণ কাজেরও বৃহদাংশই শেষ হয়। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসে। ওই বছরেরই ২৩ ডিসেম্বর ব্রিজটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ফরিদপুর-বরিশাল হয়ে ঝালকাঠির মাঝ দিয়ে খুলনা, যশোহর, বেনাপোল, সাতক্ষীরা পর্যন্ত আন্ঃদেশীয় মহাসড়ক। এ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে এ গাবখান সেতু। যার ফলে উক্ত রুটসমূহের মধ্যে একটি মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। সেতুটি ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ মিটার প্রশস্ত এবং সেতুর মাঝখানে কোন পিলার নেই। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না হেইটিং এনজ ইন্টারন্যাশনাল এটি নির্মাণ করেন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে যে কয়টি সেতু রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উঁচু এ গাবখান সেতু। যার স্ট্যান্ডার্ড হাইট ওয়াটার লেভেল থেকে ৬০ ফুট উচ্চ। ব্রিজটির উপর উঠে প্রকৃতির নির্মল হাওয়া ও সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণ প্রেমীরা ছুটে আসেন। ব্রিজকে ঘিরে সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন রয়েছে গাবখান, সুগন্ধা, বিষখালী ও ধানসিঁড়ির মোহনায় ন্যাশনাল ইকোপার্ক। এ স্থানদ্বয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছে। বিশেষ বিশেষ দিনে যেমন পহেলা বৈশাখ, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিনে থাকে উপচে পড়া ভিড়। ভ্রমণ পিপাসুদের ভিড় দেখলে মনে হয় ব্রিজটি দেবে যাবে এমন অবস্থা। সৌন্দর্যময় এ প্রাকৃতিক লীলাভূমি দেখতে ব্রীজ ঘুরে নদীর পাশ দিয়ে বেড়ি বাঁধের উপর ইকো বনায়নের মধ্য দিয়ে পায়ে হেঁটে দূষণমুক্ত পরিবেশে সকলকেই বিনোদন দিয়ে যাচ্ছে। 

গাবখান চ্যানেল:- ঝালকাঠি পৌরসভার পশ্চিম দিকের শেষ প্রান্তে এ গাবখান সেতু। সেতুটির পশ্চিম পাড়ে সদর উপজেলার গাবখান-ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন। আরেক ইউনিয়ন শেখেরহাটে যাবার জন্য ব্যবহৃত হয় এ সেতুটি। যেখানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি’র পৈতৃক নিবাস রয়েছে। এ চ্যানেল দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত প্রোটোকল চুক্তির জাহাজ এবং ঢাকা-খুলনা-মংলা-চট্টগ্রাম পথের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে প্রতিনিয়ত। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ  নৌ পরিবহন সূত্র জানায়, বাংলার সুয়েজ খাল খ্যাত গাবখান চ্যানেলটি ১৮০০ সালের  শেষের দিকে খনন করা হয়। এটি উপকূলীয়  জেলা ঝালকাঠির বিষখালী, সুগন্ধা, পিরোজপুরের কচা, সন্ধ্যা এবং বরগুনার বলেশ্বর নদের সঙ্গে সংযুক্ত। ১৯৫০ সালে মংলা বন্দর প্রতিষ্ঠার পর এটি আন্তর্জাতিক  নৌ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং  মেঘালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের  নৌ যোগাযোগের  ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ গাবখান নদী। এ নদী দিয়ে প্রতিদিন ৭০  থেকে ৮০ টি দেশি-বিদেশি পণ্য ও যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল করে। একসময় এ নদীর প্রস্থ ছিল ২৫০ মিটার। এখন তা ১০০ মিটারে গিয়ে  পৌঁছেছে।  কোনো কোনো স্থানে প্রস্থ আরো কম। পলি জমে সুগন্ধা নদীর প্রবেশ মুখে বিশাল এলাকাজুড়ে চর পড়ায় নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে। এখন  নৌযান চলাচলে মারাত্মক বিঘœ ঘটছে। প্রতিমাসে  তেলবাহী কমপক্ষে ৪০ টি জাহাজ এই পথ ধরে খুলনায় যায়। এছাড়া অন্যান্য পণ্য ও যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচলেও এই পথের  কোনো বিকল্প  নেই। এই পথ ব্যতিরেকে অন্য পথদিয়ে যেতে হলে পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে সুন্দরবন ও বরগুনা উপকূল হয়ে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার  বেশি পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে যেতে হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ