ঢাকা, শনিবার 05 November 2016 ২১ কার্তিক ১৪২৩, ৪ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ধারাবাহিক হ্রাসের কবলে রেমিটেন্স

স্টাফ রিপোর্টার : ধারাবাহিক হ্রাসের কবলে পড়েছে বৈদেশিক কর্মীদের পাঠানো উপার্জন বা রেমিটেন্স। গত চার মাস ধরে এর ধারাবাহিকতা চলছে। প্রতিমাসেই আহরিত অর্থের হিসেবের পারদ কেবল নিচের দিকে নামছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য মিলেছে। প্রতিবেদন বলছে, চলতি অর্থ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত টানা চার মাসে প্রবাসী আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে ১৫ শতাংশ। এমনকি সেপ্টেম্বরের চেয়ে অক্টোবরে প্রায় ৪ শতাংশ কমে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা ১০১ কোটি ৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা ২০১৫ অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে ৮ কোটি ৭৪ লাখ ডলার বা ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের অক্টোবর মাসে রেমিট্যান্স আসে ১০৯ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। এছাড়া চলতি অর্থ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স আসে ১০৫ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। যা আগের বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ১৩৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগস্ট মাসে রেমিট্যান্স আসে ১১৮ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। যা গেল অর্থবছরের আগস্ট মাসে ছিল ১১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি জুলাইতে ছিল আরও করুণ। চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে রেমিট্যান্স আসে মাত্র ১০০ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।

গত অর্থবছরের একই মাসে ১৩৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে। সবমিলে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর প্রথম চার মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৪২৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭৬ কোটি ৬৩ লাখ ডলার কম। অর্থ বছরের জুলাই-অক্টোবর এই চার মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ৫০৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে বেসরকারী খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৬ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩১ কোটি ৯৮ লাখ, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১ কোটি ১২ লাখ এবং বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ১৯ লাখ ডলার। 

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর প্রথম চার মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৪২৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭৬ কোটি ৬৩ লাখ ডলার কম। শতাংশের হিসাবে যার হার ১৫ শতাংশ। গেল অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর এই চার মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ৫০৩ কোটি ২০ লাখ ডলার।

প্রবাসী আয় কমার কারণ হিসেবে জনশক্তি রফতানিতে ভাটা, অবৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, মার্কিন ডলারের বিপরীতে বিভিন্ন মুদ্রার দরপতন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাস ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলা রাজনৈতিক এবং সামাজিক অস্থিরতাই কারণ হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ