ঢাকা, শনিবার 05 November 2016 ২১ কার্তিক ১৪২৩, ৪ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সবজির বাজার এখনো চড়া বেড়েছে আলুর দাম

স্টাফ রিপোর্টার : সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপণ্যের বাজারে কয়েকটি পণ্যের দাম কমেছে। তবে এখনো অধিকাংশ পণ্যের দামই অল্প আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। নতুন করে বেড়েছে আলু ও রসুনসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম। সবজির মধ্যে শীম, কাঁচামরিচ ও মূলার দাম কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আর কিছু দিন পর জিনিসপত্রের দাম আরো কমবে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মগবাজার ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি সবজির দামই বাড়তি। তবে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কাঁচামরিচে। অন্যদিকে, বাজারে নতুন আলুর আগমনেও কমেনি দাম বরং সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। আর নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে একশ টাকা কেজি। আলুর দাম কমতেও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন প্রতিকেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ৭০-৮০ টাকা, লাউ ৫০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, বরবটি ৭০-৮০ টাকা, সিম ৭০-৮০ টাকা, গাজর ৬০-৭০ টাকা, কাঁচাকলা ৩৫ টাকা, ফুলকপি-বাঁধাকপি ৩৫ টাকা, পুরান আলু ২৮ থেকে ৩২ টাকা, নতুন আলু ১০০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা -চিচিঙ্গা ৫০ টাকা। এছাড়া লেবু হালিপ্রতি ৩৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। শাকের মধ্যে লালশাক আঁটিপ্রতি ১৫ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, লাউশাক ৩০ টাকা এবং মূলাশাঁক ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা বোরহান মিয়া বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে শাঁক-সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে পুরোপুরিভাবে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আসতে প্রায় আরও এক মাস সময় লাগবে।

তিনি জানান, বাজারে কাঁচামরিচের আমদানিতে দাম অনেকটা কমেছে। আলুর দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাজারে নতুন আলু আসছে এবং পুরান আলু শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাই পুরান আলুর দাম কিছুটা বাড়তি।

সবজি ক্রেতা আনোয়ারুল হক বলেন, কয়েক দিন আগেও আলু কিনেছি ২২ টাকা কেজি দরে। এখন সেই আলু ৩২ টাকা হয়েছে। নতুন আলু আসার কারণে পুরান আলুর দাম কমা উচিত। তবে উল্টো বেড়ে গেছে। সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্যমতে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজি আলুর দাম বেড়েছে ৪ থেকে ৫ টাকা।

মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ দেশি ৩৫-৪০ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ২৫ থেকে ২৮ টাকা, রসুন দেশি ১৫০ টাকা, আমদানি ১৯০ টাকা। এছাড়া দেশি আদা ৯০ টাকা এবং চায়না আদা ৭০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ইলিশের আগমনে সরগরম মাছের বাজার। ইলিশের দাম কিছুটা বাড়তি থাকলেও স্থিতিশীল রয়েছে অন্যান্য মাছের দাম। ইলিশ প্রতিজোড়া (মাঝারি) ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা, বড় ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এছাড়া কেজিপ্রতি তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, রুই ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং কই (৩০টি) ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। মুরগীর মধ্যে ব্রয়লার মুরগী (ছোট) কেজি প্রতি ১৩০ টাকা, বড় ১২৫ টাকা। খাসি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা এবং গরুর গোশত ৪৫০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের মুরগীর লাল ডিম ৩২ টাকা হালি, হাঁসের ডিম ৪৮ টাকা এবং দেশী মুরগীর ডিম ৪০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে চালের বাজারে মোটা চালের দাম কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা কমে ৩৮-৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম এখনো নাগালের বাইরে। প্রতি কেজি মাঝারি মানের পারিজা, বিআর-২৮ ও লতা চাল ৪০ থেকে ৪২ টাকা এবং সরু চাল মিনিকেট ৪৮ থেকে ৫২ টাকা ও নাজিরশাইল ৫২ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ