ঢাকা, শনিবার 05 November 2016 ২১ কার্তিক ১৪২৩, ৪ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণের নাভিশ্বাস

আবু মালিহা : সাম্প্রতিক সময়ে চালের বাজার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ জনগণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। কেন যে এমন ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে তা কেউ বলতে পারে না। শোনা যায় সরকারের এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এই ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার জন্য দায়ী। তবে পত্রিকার নিউজ এবং চ্যানেলগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী একে অন্যকে দোষারূপ করছে। তাও আবার খুচড়া এবং পাইকারী আড়তগুলোর নির্দিষ্ট কোন মূল্যমান নেই। সুযোগ বুঝে যে যার মতন চালের দাম নিচ্ছে। এতে করে সাধারণ জনগণ চাল কিনতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছেন। বিভিন্ন সময় বাজার ঘুরে এমন বেহাল অবস্থা দেখতে হয়।
এদিকে আবার বর্তমান সরকার নিম্নমধ্যবিত্ত এবং দরিদ্রদের মধ্যে ১০টাকা কেজি দরে চাল দিচ্ছেন বলে ঢাকঢোল পিটিয়ে সরগরম করে ফেলছে। অর্থাৎ এটা নাকি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গিকারের একটি সফল উদ্যোগ। এতে করে জনগণ সরকারের প্রতি আস্থার মাত্রা নাকি বাড়িয়ে দেবে। এমন মুখরোচক প্রোপাগান্ডা জনগণের মাঝে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে।
আবার কেউ কেউ একে জনগনের সাথে তামাশা করার অপপ্রয়াস বলে মনে করছেন। উত্তর বঙ্গ সহ কয়েকটি জেলা এখন পর্যন্ত অসময়ে বন্যার কারণে যে দূরবস্থা এবং বাস্তুভিটা হারা অবস্থায় শোচনীয় দিনযাপন করছে এবং সর্বত্র হাহাকার বিরাজ করছে। কিছু কিছু এলাকায় সরকারের দলীয় লোকদের দ্বারা এখন জনগণের কাছে সস্তায় চাল পৌছে দেয়ার ঘটনা হীন তামাশা ছাড়া আর কী! যেখানে বাস্তুভিটা হারা হয়ে তাদের অস্তিত্বই বিলীন হতে চলেছে, সেখানে  সস্তা এবং পোকাক্রান্ত দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিতরণের নির্মম তামাশা জনগণকে বিস্মিত করেছে। প্রতিদিন কত নিউজ এবং চ্যানেলের মাধ্যমে জনগণের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা দর্শনে গোপাল ভাঁড়ের হাস্যরসজনিত সেই গল্পটির কথাই মনে পড়ে। ‘একদা কোন এক বাজারে আলুর গুদামে আগুন ধরে গিয়ে সিংহভাগ আলু পুড়ে যায়। এতে দোকান মালিকের সর্বনাশ হয়ে তার মাথায় হাত পড়েছে। আর বিলাপ করছে, একী হলোরে! আমার সর্বনাশ ঘটেছে। এখন আমি কী ভাবে চলবো। সব পুড়ে গেলো! এভাবে বিলাপ করছে আর ভবিষ্যত অন্ধকার দেখছে। দোকান পুড়ে তার সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। এরি মধ্যে গল্পের নায়ক আগুনে পুড়া আলু তুলে খাচ্ছে! আর পুলকিত অন্তরে বলছে! আহা... আবার কবে আলুর দোকান পুড়বে!... হাস্যরসের এই গল্পটি বর্তমান সমাজেরই একটি চিত্র যেন!
দেশের কোন কোন এলাকা সহায় সম্বল হীন হয়ে জনগণের দফারফা হচ্ছে, আর এ সুযোগে দশ টাকা দরে সরকারের তলপীবাহক সিন্ডিকেট গোষ্ঠী তামাশার বাণিজ্য শুরু করে দিয়েছে। আর প্রাণান্তে কামনা করছে এমন যেন ফের ঘটে তবেই বাণিজ্যের বহুতর গুণে লুটেপুটে খাবার ব্যবস্থা হবে! বর্তমান সরকারের কাছে নিবেদন এমন করুণতম সময়ে হত দরিদ্র জনগণের সাথে এমন নির্মম তামাশা না করে প্রকৃত অর্থে জনগণের করুণ দশা থেকে উত্তরনের জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নেয়ার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেন। প্রশ্ন হচ্ছে! সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কেন! বিশেষ করে চালের বাজার। কিছুদিন আগেও যেখানে সাধারণ এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ ৪০-৪৫ টাকা দরে চাল কিনতে পারত; সেই চাল এখন কিনতে লাগে ৬০-৬৫ টাকা দরে। এমন উল্লম্ফন প্রবৃদ্ধি চালের বাজার হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অন্য জিনিস না কিনতে পারলেও দু’মুঠো পেটের জন্য অন্তত চাল কিনতে হয়। সেই চালের বাজার যদি এমন ঊর্ধ্বগতিতে ছুটে চলে তবে সাধারণ মানুষ বাঁচবে কি করে! সে কথা কী সরকার বাহাদুর ভেবে দেখবেন! আমরা জানি সরকার দলীয় লোকদের এখন রমরমা বাণিজ্য! তাই বলে কী সাধারণ মানুষকে না খাইয়ে রেখে এমন বাণিজ্য তো মানবতা বিরোধী (!)
কিন্তু যারা মানুষের পেটের ভাত কেড়ে খায়! এসব মানবতা বিরোধী গোষ্ঠীদের বিচার করবে কে? আর যাই হোক, সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়ে রাজনীতি চলে না। রাজনীতি করতে হবে মানবতার কল্যাণে। দেশের মানুষই যদি দু’মুঠো খেয়ে পড়ে শান্তি না পেলো, নিরাপত্তার সাথে রাতে ঘুমাতে না পারলো, রাস্তাঘাটে চলাফেরায়ও নিরাপত্তা বজায় না থাকলো তবে দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধি কোথায়? এ প্রশ্ন এখন দেশের সর্বস্তরের জনগণের। তাই আসুন দেশের স্বার্থে জনগণের কল্যাণে অবৈধ বাণিজ্যের হোতাদের এখনই দমন করা উচিত এবং সাধারণ জনগণকে দু’মুঠো খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার জন্য চালের বাজারসহ সব ধরনের দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সরকার যেন দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এই প্রত্যাশা সর্বস্তরের জনগণের।
-সাংবাদিক ও কলামিস্ট

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ