ঢাকা, শনিবার 05 November 2016 ২১ কার্তিক ১৪২৩, ৪ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সরকারের ভ্রান্তনীতির খেসারত দিচ্ছে নিম্নবিত্ত সাধারণ মানুষ

আবু মুনির : ধানের তুষ ছাড়ানো দানাই চাউল বা চাল এবং রান্না করা চালকে বলে ভাত। ধানবীজ বা চাল সুপ্রাচীনকাল থেকে কোটি কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য। দানা শস্যের এ উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza Sativa. পৃথিবীর সর্ব প্রাচীন ভাষা আরবিতে চাল বা ভাতকে রায্যুন বা রুজ বলে। চীন ও গ্রীক ভাষায় Oryza হয়ে শেষে Ritz থেকে চাল বা ভাতের ইংরেজি নাম Rice হয়েছে। ধান বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটি সম্পদের প্রতীক। বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য বিভাগের নির্ধারিত জনপ্রতি দৈনিক চালের চাহিদার পরিমাণ ৪১০ গ্রাম।
যেখানে নিয়মিত পণ্য বেচা-কেনা হয় সেই স্থানকে বাজার বলে। লেনদেনের ধারণাই বাজারের ধারণাকে নিয়ে এসেছে। বাজার হচ্ছে একটি পণ্যের প্রকৃত ও সম্ভাব্য ক্রেতার সেট বা বিন্যাস। চালের বাজারে অস্থিরতা চলছে। মোটা চালের দাম বেড়েছে।
৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সরকার ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কর্মসূচি শুরু করেছে যেখানে প্রতি পরিবারকে এক মাসের জন্য ৩০ কেজি চাল দেয়া হবে। গরিবের চাল বিত্তবানদের ঘরে।
দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ করে ৩০ কেজি চাল বিক্রিতে ওজনে কম দেয়া, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং চাল বিক্রি না করে কার্ডধারীদের ফিরিয়ে দেয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে সারা দেশে। একই পরিবারের দলীয় নেতাকর্মী ও সম্পদশালীদের একাধিক কার্ড দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কার্ড না পাওয়া অনেক দুস্থ। খাদ্য গুদাম থেকেই প্রতি বস্তায় চাল কম পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নৌকা মার্কা ইউপি চেয়ারম্যানগণের যোগসাজশে তালিকা তৈরী ও চাল বিতরণে সরকার দলীয় হয়ে কাজ করছেন সর্বত্র।
বর্তমানে চালের বাজারে মোটা চাল কেজি প্রতি ১০ টাকা মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে অর্থাৎ ২৫ টাকার চাল ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে-এতে গরিব মানুষের নাভিঃশ্বাস উঠেছে। চালের এই মূল্য বাড়ার কারণ সরকারের এক ধরনের মজুতদারি নীতি। সরকারি মালিকানাধীন বস্তাবন্দি খাদ্যশস্য সংরক্ষণে স্থানীয় খাদ্য গুদাম (Local Storage Depot/LSD) ৬২০টি, কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম (Central Storage Depot/CSD) ৯টি এবং ৯টি সাইলো/এলিভেটর রয়েছে বন্দর এলাকাগুলোতে। এদের সর্বমোট ধারণক্ষমতা প্রায় ২২ লাখ মে. টন। সরকারের ভারসাম্যহীন ক্রয়নীতির কারণে চালের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিপুল খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে কিন্তু উৎপাদনের সাথে বাজার ও ব্যবস্থাপনা যদি সুষ্ঠু না হয় তা হলে কোনো ভাবেই পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। সস্তা জনপ্রিয়তা নেয়ার জন্য সরকারের যে ভ্রান্তনীতি এর খেসারত দিচ্ছে নিম্নবিত্ত সাধারণ মানুষ।
বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বিষয়ক কৌশলগত পর্যালোচনা শীর্ষক সরকার ও জাতি সংঘের খাদ্য কর্মসূচির যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের চার কোটি মানুষ এখনো ক্ষুধার্থ থাকে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২ (SDG-2). অর্জনের  ক্ষেত্রে এই সংখ্যা বেশ উদ্বেগজনক। এই গবেষণা প্রতিবেদনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘যে সব বিষয় উঠে এসেছে তা বাংলাদেশের SDG-2 অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা ২০২৪ সাল নাগাদ পুরোপুরি ক্ষুধা নিবৃত্ত এবং ২০২৫ সাল নাগাদ পুষ্টি নিশ্চিত করতে চাই।’
দাজ্জালের আবির্ভাব সম্পর্কে এক দীর্ঘ হাদীসে এসেছে নবী পাক (সাঃ) বলেছেন, ‘....গাছে প্রচুর ফল ধরবে, ক্ষেতগুলো ফল ফসলে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে, পশু মোটা তাজা হবে, দুগ্ধবতী পশুগুলোর দুধ বৃদ্ধি পাবে, মাটির নিচের ধনরাশি হস্তগত হবে। এই ধন সে অনুগামীদিগকে অকাতরে বিলিয়ে দিবে। যারা তাকে খোদা (কর্তা) বলে মেনে নিবে না, তারা যে কেবল তার দোযখে নিক্ষিপ্ত হবে তাই নহে বরং তাদের উপর নানা রকম অকথ্য উৎপীড়ন করা হবে।....”
আগামী জাতীয় নির্বাচন এ সরকারের সকল কার্যক্রমের মূল টার্গেট। সুতরাং ব্যালট পেপার ও ভোট কেন্দ্রই মুসলমানিত্বের প্রমাণপত্র ও বদর-উহুদ ময়দান হিসেবে কর্মনীতিতে না নিয়ে মুক্তির কোনো পথ নেই বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। বাংলার বুলবুলি কবি গোলাম মোস্তফার খোশরোজ কাব্যের ‘খেয়াল’ কবিতাটিতে তিনি বলেছেন: হবো আমি-বাংলাদেশের নূতন সুফী পীর/জ্ঞানে গুণে পুণ্যে প্রেমে সমাজদেহের শির/হয়ে সবার ধর্মগুরু/করবো নাকো ফ্যাসাদ শুরু/হানাফী ও লা-মাজহাবী-শিয়া ও সুন্নীর/ধর্মসাথে কর্মেরও মূলমন্ত্র দেবো দান/গড়বো আমি নূতন যুগের কর্মী মুসলমান/নূতন আলোক-দৃষ্টি দিয়ে/চলবে সবাই পথ এগিয়ে/হবো আমি বাংলাদেশের ‘সৈয়দ আহম্মদ খান’।
নবী করিম (সাঃ) বলেছেন, ‘হে মানুষ সকল! তোমরা আল্লাহ্র ভয়ে বেশী বেশী ক্রন্দন কর। যদি কাঁদতে ব্যর্থ হও তবে কান্নার রূপ ধারণ কর। কেননা জাহান্নামীরা জাহান্নামের মধ্যে কাঁদতে থাকবে এবং তাদের চোখের পানি নালার ন্যায় বের হবে।
অশ্রু শেষ হয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়ে চোখে এমন গভীর ক্ষত সৃষ্টি হবে যে যদি তাতে নৌকা চালাতে চাও তবে তাও চলবে। (শরহে সুন্নাহ্-আনাস (রাঃ)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ