ঢাকা, শনিবার 05 November 2016 ২১ কার্তিক ১৪২৩, ৪ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দশ টাকা কেজি চাল দেয়ার নামে সরকার আরেকটি প্রতারণা করলো

বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী মহাজোট সরকার ১০ টাকা কেজি দরে (প্রতিকেজি) চাল দেয়ার নামে জনগণের সাথে পুনরায় আরেকটি প্রতারণা করলো। ২০০৮ সালে নির্বাহনী জনসভায় বলা হয়েছিল, আ’লীগ ক্ষমায় গেলে ১০ টাকা কেজি চাল এবং ৫ টাকা কেজি কাঁচা মরিচের মূল্য থাকবে। তারা ক্ষমতার ৫ বছর পূর্ণ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটের নামে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একটি প্রতারণা উপস্থাপনা করলেন। এরপর আরও ২ বছরের অধিক সময় ক্ষমতায় থেকে ১০ টাকা কেজিতে চাল দেয়ার নামে আরেকটি প্রতারণা করলেন। সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতাকালীন সময়ে ১০ টাকা কেজি চাল নিয়ে মিডিয়াতে অনেক সমালোচনা হয়েছে। কারণ তারা অঙ্গীকার করেছিলেন, কিন্তু দীর্ঘ ৭-৮ বছরে ক্ষমতাকালীন সময়ে সেটা করেননি। বরং এই অঙ্গীকারের কথা অস্বীকারও করা হয়েছিল।
দীর্ঘ ৭-৮ বছরে উচ্চমূল্য চাল ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উচ্চ মূল্যতে সাধারণ জনগণ দিশেহারা। এমন অবস্থায় বর্তমান সরকার নিজেদের জনদরদী পরিচয় করতে গিয়ে আবারো প্রতারণা করলো। প্রতারণা বললাম এ জন্য যে, ১০ টাকা কেজি চাল সাধারণ জনগণ খুব কমই পেয়েছে। এই চাল পেয়েছে সরকারী নেতাকর্মী, ক্যাডারগণ। এর মধ্যে আরো বিভিন্ন রকমের দুর্নীতিও হয়েছে। যেটার কিছু অংশ দু’একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়া প্রচারও করেছে। তাছাড়া এই ১০ টাকা কেজির চাল দিয়ে নানান অনিয়ম, দুর্নীতির কথা প্রিন্ট মিডিয়াও প্রকাশ করেছে। সারাদেশে বর্তমানে ১০ টাকা চাল নিয়ে চলছে ঠাট্টামূলক কথা। বিনাভোটে নির্বাচিত আ’লীগের মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিগণ এবং তাদের দলীয় ক্যাডারগণ নিয়ে নিচ্ছে ১০ টাকার এই চালের অধিকাংশ বস্তা। নেশাগ্রস্ত লোকের থাকে না কোন হিতাহিত জ্ঞান।
নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মাতাল হয়ে অনেকেই তার নিজ সন্তান, স্ত্রী, পিতা-মাতাকেও বিশ্রি গালি দেয়। কারণ সে মাতাল। আ’লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীর মধ্যে খাই খাই সংস্কৃতি বিরাজমান। এটা নতুন কিছু নয়। ৭০-এর দশকেও এটা ঘটেছিল। বঙ্গবন্ধু এ সকলকে চাটার দল বলেছিলেন। তারা পদ্মা সেতু, শেয়ার মার্কেট, ব্যাংক লুট করেও পুরোপুরি স্বস্তি পান না। তাদের সাধারণ জনগণের জন্য বরাদ্দ চালও লুট করতে হয়। তাদের চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পা না। রিকশাওয়ালা, হকার, ইজিবাইজওয়ালা, লেগুনাওয়ালারও। তাদের গত ৭-৮ বছরের চাঁদাবাজিতে তাদের মধ্য থেকে হাজার হাজার লোক আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন। যে এক সময় রিকসায়ও চড়তে পারেননি সে এখন চাঁদাবাজির টাকা দিয়ে দামি ব্র্যান্ডের জীপেও চড়েন। গ্রাম-পল্লী এলাকার নিম্ন পর্যায়ের একজন আ’লীগ বা তাদের অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরাও চরম বেপরোয়া। তারা এলাকায় আধিপত্য অর্জন করেছে।
চাঁদাবাজি, মাস্তানী, নিজেদের মনগড়া বিচার সালিশিও চাপিয়ে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের উপর। তাদেরকে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দিলেও সে অনুষ্ঠান প- করে দেয়া হচ্ছে। এমন একটা পরিবেশে ১০ টাকার চাল কেমন করে সাধারণ জনগণ পাবে? হয়তো বা সরকার প্রধানকে তার কাছের কেউ বুদ্ধি দিয়েছেন যে, এমনভাবে চাল দিলে আপনার সুনামও বাড়বে এবং পুরনো সমালোচনাটাও দূর হবে। কিন্তু আসলে কি সেটা সম্ভব হয়েছে? দলের লোকেরা কি সেই সুযোগ রেখেছে? ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ সংসদ সদস্য থাকাকালীন এক সংসদীয় বক্তৃতায় টেন্ডার নিয়ে কিছু কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, পশু হায়েনাদের সামনে মাংস খেতে দিলে যেভাবে তাদের মধ্যে এ ধরনের প্রতিযোগিতা বা যুদ্ধ হয় মাংস পাওয়ার জন্য। ঠিক তেমনি সরকারদলীয় ক্যাডার বাহিনী টেন্ডার নিয়ে সেরকমটি করে। ইত্যাদি কিছু বাস্তব কথা তিনি মজা করে বলেছিলেন। ঠিক এই ১০ টাকা কেজি চালের লোভেও সরকারদলীয় ক্যাডার, তাদের মেম্বার, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর ইত্যাদি লোকজন চরম নিলর্জ্জভাবে এ ধরনের যুদ্ধে নেমেছে। বর্তমান সরকার তারপরও নিজেদের খুব জনপ্রিয় ভাবছে। তারা কতটুকু জনপ্রিয় আছে, তা পরীক্ষার জন্য একটা সুষ্ঠু পদ্ধতির জাতীয় নির্বাচন দিয়ে দেখা যেতে পারে। জনগণ এসব লুটপাট, প্রতারণার কথা ভুলে যায় কিনা। এই সরকার শুধু ১০ টাকা কেজির চাল নিয়েই নয়। তারা বহুকিছু নিয়ে সাধারণ জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। বহু কিছু নিয়ে অভিনয় করে বিভ্রান্ত করেছে মানুষকে। সকলেই বোকা নয়। এসব মানুষ মনে রাখে। বুঝেও। এখন তারা ক্ষমতার চূড়ায় রয়েছেন। এই ক্ষমতার চূড়ায় আজীবন কেউ থাকার ইতিহাস পৃথিবীতে নেই। ইতিহাস থেকে শিক্ষা সহজে কেউ নিতে চাচ্ছে না। এটা একটা বিপদ। এরশাদ নয় বছর ক্ষমতার সিংহাসনে ছিল। এখন হয়তো ও রকম নেই। তিনি বেঁচে আছেন, সুন্দর সুন্দর কোট-টাইও পরেন। কিন্তু তিনি কতটুকু সম্মান নিয়ে বেঁচে আছেন তা এদেশের মানুষ জানেন। ক্ষমতা অবশ্যই চিরস্থায়ী নয়- এটা উপলব্ধি করতে হবে।
-সাইফুল ইসলাম তানভীর

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ