ঢাকা, শনিবার 05 November 2016 ২১ কার্তিক ১৪২৩, ৪ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ২ হাজার ৮৬২ জন

স্টাফ রিপোর্টার : গত ১০ মাসে সারা দেশে ২,৫৪৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট দুই হাজার আটশ' ৬২ জন নিহত ও সাত হাজার ছয়শ' ৪৬ জন আহত হয়েছেন। বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, এর মধ্যে অক্টোবর মাসে সংঘটিত ১৬৭টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা যথাক্রমে ১৮৮ ও ৪৯৫ যার মধ্যে ২৬ নারী ও ১৯ শিশু রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সড়ক, মহাসড়ক, জাতীয় সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে প্রাণঘাতী এসব দুর্ঘটনা ঘটে। তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের হার যথাক্রমে ৫০ ও ৩৫ শতাংশ কমেছে। একই সাথে দুর্ঘটনার হার কমেছে ৩৬ শতাংশ।
২০টি জাতীয় দৈনিক, আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থা এবং ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে সংগঠনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ হাজার সাতশ' ৩৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। ওই ১০ মাসে সারা দেশে সংঘটিত মোট তিন হাজার নয়শ' ২৭টি দুর্ঘটনায় আহত হন আরো অন্তত ১১ হাজার ছয়শ' ২৪ জন।
জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দের বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাদের পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের জন্য পাঁচটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো- সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বছরজুড়ে গঠনমূলক সংবাদ প্রচারের কারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে সামাজিক সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন, রাজপথে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর সরব পদচারণা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও জাল ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা ও পুলিশের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ অনেক বাঁক চিহ্নিত করে সতর্কী সংকেত স্থাপন ও সড়ক সংস্কার।
অন্যদিকে দুর্ঘটনার জন্য প্রধান সাতটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান আশীষ কুমার দে। এতে বলা হয় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি ওভারলোডিং ও ওভারটেকিংকালে নিয়ম ভঙ্গও এজন্য দায়ী। এর পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো ও ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করার জন্য দায়ী সড়কে এমন প্রাণহানি। এছাড়াও রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব এবং বাহনে অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও বেহাল সড়ক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ