ঢাকা, শনিবার 05 November 2016 ২১ কার্তিক ১৪২৩, ৪ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কাস্টমের খামখেয়ালিপনা ও দ্বৈত নীতির কারণে মংলা বন্দরে অচল অবস্থা

# বন্দর ব্যবহারকারীরা আন্দোলনে নামছে
খুলনা অফিস : মংলা বন্দর দিয়ে চীন থেকে এলসির মাধ্যমে আমদানিকৃত ২ হাজার ১০৫টি কম্পিউটার মনিটর ছাড়করণের নির্দেশ দেওয়া হলেও আপিলাত ট্রাইব্যুনালের আদেশ মানছেন না মংলা কাস্টমের কমিশনার। ফলে মালামাল ছাড়পত্র না দেওয়ায় দীর্ঘদিন গুদামে থাকা কম্পিটারগুলো নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া পোর্ট ডেমারেজ বাড়ছে। কাস্টম কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করায় ক্ষুব্ধ হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিবাদ জানাতে আগামীকাল রোববার খুলনা চেম্বার ভবনে যৌথসভা ডেকেছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসায়ী সংগঠন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকার মেসার্স আর কে ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চীন থেকে ২ হাজার ১০৫টি কম্পিউটার মনিটর আমদানি করে। মংলা বন্দরে আসা এসব কম্পিউটার মেসার্স সী ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির মাধ্যমে ছাড়করণের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু মালামাল খালাসের সময় কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য আনার বিষয়টি ধরা পরে। প্যাকিং লিস্ট ও বি/ই এর ঘোষণার সাথে অমিল পাওয়া যায়। ৪নং পণ্যে ২১ ইঞ্চির পরিবর্তে ২২ ইঞ্চি এবং ৫নং পণ্যে ২২ ইঞ্চির পরিবর্তে ২২ ইঞ্চির অতিরিক্ত পণ্য পাওয়া যায়।
আমদানিকারক আর কে ইন্টারন্যাশনালের মালিক নূর ইসলাম জানান, কাস্টম কমিশনার তার ক্ষমতা অপব্যবহার করে গত ২১-০৮-১৬ ইং তারিখে আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমদানিকারকের উপর ২০ লাখ এবং ১৫ লাখ টাকা বিমোচনসহ ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সর্বমোট ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য্য করে এবং প্রচলিত নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিমাত্রার মূল্য ভিত্তি নির্ধারণ করে একটি আদেশ দেন।
কাস্টমস এ্যাক্ট অনুযায়ী কমিশনার আদেশের বিরুদ্ধে আমি শুল্কনীতি অনুযায়ী কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীলাত ট্রাইব্যুনালে অপিল করি। গত ৩ অক্টোবর আপীলাত ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ জাকির হোসেন এক আদেশে মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আমদানিকৃত পণ্য চালানের বিপরীতে জরিমানা বাবদ ব্যাংক গ্যারান্টি ও শুল্ককরাদি নগদ ট্রেজারি ৩৫ লাখ টাকা প্রদান সাপেক্ষে পণ্য খালাসের জন্য কাস্টম কমিশনার বরাবর আদেশ দেন।
এদিকে রায়ের আদেশ পাওয়ার পর গত ১৭ অক্টোবর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীলাত ট্রাইব্যুনালের অন্তবর্তীকালীন আদেশ মোতাবেক মংলা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার পণ্য খালাস গ্রহণ করার জন্য ওই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পত্র (আদেশ নথি নং এস/৩৮৮৮/গ্রুপ-৪/এ্যা/মংলা/১৫-১৬/ ৫৭৫৭(১) প্রেরণ করেন।
এর এক দিন পর অর্থাৎ ১৮ অক্টোবর কাস্টম কমিশনার আল-আমিন প্রামাণিক কোন প্রকার উল্লেখ ছাড়াই শুল্কনীতি লঙ্ঘন করে একটি পত্র মারফৎ ১৭ অক্টোবর আদেশটি বাতিল করে দেন। এরপর কমিশনার আপীলাত ট্রাইব্যুনালের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ মোতাবেক পণ্য খালাশ-এর কার্যক্রম গ্রহণ না করে গত ২৩ অক্টোবর হাইকোর্টে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশটির বিরুদ্ধে আপিল করার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞ এটর্নি জেনারেল অফিসে পত্র প্রেরণ করলে ২৪ অক্টোবর ডেপুটি এটর্নি জেনারেল হাইকোর্টে আপিলের সুযোগ নাই মর্মে উল্লেখ করে আপীলাত ট্রাইব্যুনালের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ মোতাবেক পণ্য খালাশ প্রদান এর কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য কমিশনার পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে হাইকোর্টে অন্তর্বর্র্তীকালীন আদেশটির বিরুদ্ধে আপিল না হওয়ায় আপীলাত ট্রাইব্যুনালের আদেশ অদ্যাবধি বহাল রয়েছে।
এ অবস্থায় কমিশনার ইচ্ছাকৃতভাবে এখন পর্যন্ত কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীলাত ট্রাইব্যুনালের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ অমান্য করে এবং ডেপুটি এটর্নি জেনারেলের পরামর্শ তোয়াক্কা না করে আমদানিকৃত পণ্য শুল্কায়ন ও খালাশ কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন, যা শুল্কনীতি, রাষ্ট্রীয় আইন ও সংবিধান পরিপন্থি বলে জানান আমদানিকারক নূর ইসলাম।
এদিকে পণ্য খালাসের জন্য আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য কাস্টম কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন সী ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি লিমিটেড এবং মংলা কাস্টমস্ ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস্ এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। হয়রানির প্রতিবাদে মংলা কাস্টমস্ ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস্ এসোসিয়েশন, নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপ, শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন, বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্সসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসায়ী সংগঠন রোববার খুলনা চেম্বার ভবনে যৌথ সভা ডেকেছেন।
মংলা কাস্টমস্ ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস্ এসোসিয়েশনের সভাপতি সুলতান হোসেন খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাস্টমের শুল্ক বিভাগের খামখেয়ালিপনা ও দ্বৈত-নীতির কারণে মংলা বন্দরের ব্যবসায়ীরা আগের মতো আর পণ্য খালাস করছে না। কাস্টম কমিশনার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশনা মানছে না। সর্বশেষ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বন্দর ব্যবহারকারীরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ