ঢাকা, রোববার 06 November 2016 ২২ কার্তিক ১৪২৩, ৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কেন ন্যক্কারজনক এই হামলা?

আবারও হামলা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে। ৪ নভেম্বর ভোর রাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িঘরে ভাংচুর ও লুটপাটের ৫ দিন পর একই উপজেলায় দ্বিতীয় দফায় এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলো। এসব ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৩ নেতাকে বহিষ্কার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। নাসিরনগরের পর হামলার ঘটনা ঘটেছে হবিগঞ্জের মধুপুর মন্দির ও বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার কেন্দ্রীয় হরিসভা মন্দিরে। এ ছাড়া হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ঠাকুরগাঁও সদরের একটি মন্দিরে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নারগুন ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান পয়গাম আলিকে পুলিশ আটক করেছে। বগুড়ার ধুনটের ইছামতী নদীর তীরে কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট সংলগ্ন মন্দির থেকে চুরি হয়ে গেছে চারটি প্রতিমার মাথা। হঠাৎ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
আমরা জানি, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। শত শত বছর ধরে এই জনপদের মানুষ নানা ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পরও সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছে। আর এই দেশের একটি ইতিবাচক বিষয় হলো, জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ মানুষই মুসলিম। মুসলমানদের ধর্ম ইসলাম অন্য ধর্মের মানুষদের সাথে শুধু সদাচরণেই উদ্বুদ্ধ করেনি, অন্যায় আচরণ থেকে বিরত থাকারও নির্দেশনা দিয়েছে। এ কারণে অন্য ধর্মের লোকদের উপর হামলা কিংবা নিপীড়ন ইসলাম ধর্মে গর্হিত বা গুনাহের কাজ। ফলে প্রশ্ন জাগে, এরপরও এ দেশে বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালালো কারা? এদের পরিচয় কি? কী তাদের উদ্দেশ্য? তবে একটি বিষয় সহজেই উপলব্ধি করা যায় যে, ইসলাম ধর্মে অনুরাগী কিংবা ধর্মপ্রাণ কোন মুসলমান সাম্প্রদায়িক হামলার সাথে জড়িত থাকতে পারে না। এ কাজ যারা করেছে তারা অবশ্যই মন্দ লোক। ধর্ম ভাবনায় সমৃদ্ধ কোন মানুষ এমন কাজ করতে পারে না। এসব মন্দ লোকদের আইনের আওতায় এনে যথোপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রশাসনের দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি।
তবে সঙ্গত এই কাজটি করতে হলে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের ব্লেমগেম থেকে মুক্ত থাকতে হবে। যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হলে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা বন্ধ হতে পারে। তবে দুঃখের বিষয় হলো, এমন ন্যক্কারজনক ঘটনাকে রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার মতো লোকও আছে এ দেশে। মতলববাজ এমন লোকদের অপপ্রচার ও শঠতার ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে দেশের জনগণকে। কিছু কিছু অদ্ভুত কথাও শোনা যাচ্ছে বর্তমান সময়ে। যেমন ৪ নভেম্বর রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, গত কয়েক বছরে আওয়ামী লীগে জামায়াতীকরণ হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের ভেতরে জামায়াতে ইসলামীর লোকজন ঢুকে পড়েছে। তারা সাম্প্রদায়িক হামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। এমন বক্তব্য জনমনে নানা সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করতে সমর্থ হলেও প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে আদৌ কোন অবদান রাখতে সক্ষম হবে কিনা সেই প্রশ্ন জাগতেই পারে। সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ন্যায়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বক্তব্য রাখার পরিবর্তে কিছু রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবী ব্লেম-গেমে মত্ত থাকতেই পছন্দ করছেন। জাতির জন্য এটাও একটি বড় আপদ।
আমরা মনে করি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক হিন্দু যুবকের ফেসবুক আইডি থেকে কা’বা শরীফের ছবির উপর মূর্তি বসিয়ে পবিত্র কা’বার অবমাননার যে কাজটি করা হয়েছে তা খুবই আপত্তিকর। কেন এ কাজটি করা হলো? সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে প্রকৃত মোটিভ উদ্ধার করা প্রয়োজন। আর এই ঘটনাকে পুঁজি করে যারা হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মতো ন্যক্কারজনক কাজ করেছে তাদেরও আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি বিধান করা প্রয়োজন। কারণ দু’টি কাজই ধর্ম ও মানবিক বিবেচনায় নিকৃষ্ট কাজ। এমন কাজের কারণে সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়েছে এবং ক্ষুণ্ন হয়েছে দেশের ভাবমর্যাদা। তাই এসব বিষয়ে সততার সাথে ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণের কোন বিকল্প নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ