ঢাকা, রোববার 06 November 2016 ২২ কার্তিক ১৪২৩, ৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

৭৩ লক্ষ কোটি দেহকোষ ৪০ হাজার কোটি গ্রহ-নক্ষত্র এবং শাশ্বত সত্য

বিজ্ঞানীরা আজ একটি বিষয়ে একমত হয়েছেন যে অনেকদিন আগে, হাজার হাজার কোটি বছর আগে, এক মহা বিষ্ফোরণ বা বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে। তারপর অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে মহাবিশ্ব চতুর্দিকে সম্প্রসারিত হতে শুরু করে। এখনও সম্প্রসারণ চলছে। সম্প্রসারণের প্রক্রিয়ায় এখন ৪০ হাজার কোটি মহাজাগতিক বস্তু নিচয়, অর্থাৎ গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি রয়েছে। এখনও সম্প্রসারণ চলছে। মহাবিশ্ব সৃষ্টির এই পর্যায়কে বিজ্ঞানীরা ৬ ভাগে ভাগ করেছেন। এসব পর্যায় হল
(১) প্লাঙ্ক টাইম বা টাইম জিরো টাইম। আলপিনের ডগার চেয়েও ক্ষুদ্র একটি বিন্দুর আকৃতি সম্পন্ন এক বস্তুর প্রচন্ড বিষ্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়। সেই বিন্দুসম বস্তুর নাম ‘প্রি মরডিয়াল ফায়ারবল’। এই সময় থেকেই পদার্থের ৪টি মৌলিক শক্তি ক্রিয়াশীল হয়।
(২) দ্বিতীয় পর্যায় : ‘স্ফীতির পর্যায়’ (ইনফ্লেশন পিরিয়ড)। সৃষ্টির সময়কার প্রচন্ড তাপ কিছুটা কমে যায়। মহাকর্ষ বল বা গ্রাভিটি বিচ্ছিন্ন হয়। ঠিক এই সময়েই পদার্থের ক্ষুদ্রতম অংশ কোয়ার্কের আবির্ভাব ঘটে এবং বিকিরণ শক্তির (রেডিয়ান্ট এনার্জি) সাথে মিশে যায়।
(৩) সাংঘর্ষিক পর্যায় ‘(এ্যান্নিহিলেশন পিরিয়ড)’। এই পর্যায়ে তাপমাত্রা আরো নামতে থাকে। সম্প্রসারণের প্রক্রিয়ায় কয়েক লহমায় ঐ বিন্দু সৌর জগতের সমান হয়। কোয়ার্ক এবং এ্যান্টি কোয়ার্কের সংঘর্ষ হয় এবং শক্তিশালী পারমাণবিক শক্তির অস্তিত্ব অনুভূত হয়।
(৪) পরবর্তী পর্যায় হল প্রোটন এবং নিউট্রন পর্যায়। সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হয় ইলেকট্রন, নিউট্রন এবং প্রোটন ও নিউট্রনের সম্মিলনের ফলজাত হাড্রন।
(৫) এই পর্যায়ের নাম পারমাণবিক নিউক্লি (এটোমিট নিউক্লি পিরিয়ড)। তাপমাত্রা আরো কমে। তখন প্রোটন এবং নিউট্রন মিলে এ্যাটমিক নিউক্লি গঠন করে। যেমন হিট্রিয়াম।
(৬) ষষ্ঠ এবং শেষ পর্যায়ের নাম ‘ষ্ট্যাবল এটম’ পিরিয়ড অর্থাৎ স্থিতিশীল পারমাণবিক পর্যায়। এই পর্যায়ে হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম নিউক্লি পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রনে রূপান্তরিত হয় এবং ফলে স্থিতিশীল পরমাণু সৃষ্টি হয়। ধীরে ধীরে গ্যালাক্সি, কোয়াসার, নক্ষত্র, গ্রহ উপগ্রহ স্ব স্ব অবয়ব ধারণ করে। মহাবিশ্বের আকার এই পর্যায়ে হাজার হাজার কোটি আলোকবর্ষে বিস্তৃত হয়।
আর কুরআন শরীফ কি বলে?
সুরা আল হাদিদের ৪নং আয়াতে বলা হয়েছে, “তিনি আকাশম-লী এবং পৃথিবী ৬ দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তার আসন গ্রহণ করেছেন।” ৬দিন অর্থ কি? আমাদের মত ২৪ ঘন্টার দিন রাত্রি? অর্থাৎ ১৪৪ ঘন্টায় মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন? বিষয়টা কিছুটা খোলাসা করা হয়েছে সুরা আল্ মা’আরিজের ৪নং আয়াতে। এখানে একদিন বলতে ৫০ হাজার বছরের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এখানে ৬ দিন অর্থ হল ৬টি পর্যায়। বিজ্ঞানে ৬টি পর্যায় বলা হয়েছে, আর আল্ কুরআনে ৬টি ‘ইয়াওমিন’ (৫০ হাজার বছরের একটি পর্যায়) বলা হয়েছে। মাত্র সেদিন অর্থাৎ ১৯৩৩ সালে ‘বিগ্ ব্যাং’ তত্ব প্রকাশিত হয়। ১৯৬৪ সালে সেই তত্ব বিজ্ঞানীদের সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। অথচ ১৫০০ বৎসর পূর্বে কোরআন শরীফে সেই ৬টি পর্যায় ঘোষিত হয়। সেটিও শোনা যায় প্রিয়নবী হযরতের কণ্ঠ থেকে, যিনি আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানে বিভূষিত ছিলেন না, যখন বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটেনি। তারপরেও কি বলব যে আল কুরআন আসমানী কেতাব নয়?
অবিশ্বাসীরা তো জানে মাত্র ১০ শতাংশ
১৯২৩ সালের পূর্ব পর্যন্ত, আরও স্পষ্টভাবে বললে ১৯২৯ সালের পূর্ব পর্যন্ত, মানুষ এই মহাবিশ্ব এবং সৃষ্টিতত্ব সম্পর্কে কতটুকু জানতো? আল্লাহ্র অস্তিত্ব নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন তাদের জ্ঞানের দৌড় কতটুকু? শুধু তাদের কেন, এই মানবজাতির জ্ঞানের বহর কতটুকু? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মানুষ বিষ্ময়কর উন্নতি করেছে। চন্দ্রপৃষ্ঠেও অবতরণ করেছে। তারপরও তারা মহাবিশ্ব সম্পর্কে কতটুকু জেনেছে? নিজের শরীর সম্পর্কেই বা তারা কতটুকু ওয়াকেফহাল?
এতদিন মানুষ আকাশের ঐ চাঁদ তারা, ঐ সূর্য আর এই পৃথিবীকে বিশ্ব ব্রহ্ম¥ান্ড বলে জানতো। কিন্তু মার্কিন মহাকাশ বিজ্ঞানী এডুইন হাবল তার আবিষ্কৃত টেলিস্কোপ দিয়ে ৭ বছর ধরে (১৯২৩-২৯) মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করেন। হাবল টেলিস্কোপে চোখ রেখে তিনি অবাক বিস্ময়ে দেখতে পান যে মহাবিশ্বে তার টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণ শক্তি মোতাবেক অন্ততঃ ১০০ কোটি গ্যালাক্সি আছে। তার মধ্যে একটা হল ‘ছায়াপথ’ বা ‘মিল্কিওয়ে’। আরেকটি ‘এ্যান্ড্রেমিডা’। আমাদের সূর্য ছায়াপথের অধীন একটি ক্ষুদ্র নক্ষত্র। এসব গ্যালাক্সি ১৩০০ কোটি আলোক বর্ষব্যাপী বিস্তৃত বা দূরে। এক সেকেন্ডে আলো ভ্রমণ করতে পারে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল পথ। এই গতিতে ছুটলে ঐ ১০ কোটি গ্যালাক্সির কাছে যেতে হলে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল- ৬০x২৪x৩০x১২x১০০ কোটির যে গুণফল দাঁড়াবে তত মাইল পথ মাড়াতে হবে। এই গুণফল যা দাঁড়াবে সেটা কল্পনাও করা যায় না।
বিজ্ঞানীরা বলেন যে এই পৃথিবীতে মানুষ এসেছে ২০ লক্ষ বছর আগে। ২০ লক্ষ বছরে তারা কেবল একমাত্র চাঁদে যেতে পেরেছে। অন্যান্য হাজার হাজার কোটি গ্রহ নক্ষত্রে কবে যাবে? বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘এই ২০ লক্ষ বছরে মানুষ সৃষ্টি রহস্যের মাত্র ১০ শতাংশ জেনেছেন। অবশিষ্ট ৯০ শতাংশ তারা কোনদিনও জানতে পারবেনা।
॥ দুই ॥
মানবদেহ
মানুষের দেহ ৭৩ লক্ষ কোটি কোষ দিয়ে গঠিত। কোষের মধ্যে রয়েছে প্রটোপ্লাজম ও সাইটোপ্লাজম। সাইটোপ্লাজমের মধ্যে রয়েছে নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াসের মধ্যে রয়েছে ক্রোমজম। ক্রোমজমের মধ্যে রয়েছে জীন। জীনের মধ্যে রয়েছে নিউক্লিক এসিড। এটি জীবনী শক্তির উৎস।
প্যারা সাইকোলজিতে বলা হয়, জীব দেহ মানে কোটি কোটি পরমাণুর সমষ্টি। জালের মত একটি প্রচ্ছন্ন আবরণ দিয়ে এগুলি দেহের অবয়ব ধারণ করে আছে। অন্য কথায় অসংখ্য কণিকার গ্রন্থনাই শক্তি। জীব বিজ্ঞানে সেটি সক্রিয় নিউক্লিক এসিডের সাথে তুলনীয়।
অনুজীব বিদ্যায় (Molecular biology) বলা হয় যে, যে কোনো চিন্তা বা অনুভূতি একটি রাসায়নিক অণুর সৃষ্টি করে। সেই অণু পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সংশ্লিষ্ট স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে।
জীববিজ্ঞান, অণুজীব বিজ্ঞান তথা বিজ্ঞানে মানবদেহ সম্পর্কে অনেক কথা বলা হয়েছে। তার কয়েকটি কথা এখানে উল্লেখ করছি।
(১) আমাদের শরীর কতগুলো পদার্থ গুচ্ছর (Clumps of matter) সমষ্টি। এসব গুচ্ছ একে অপরের নিকট থেকে আলাদা। বিজ্ঞানের সর্বশেষ বক্তব্য হল : দেহ পদার্থ দিয়ে গঠিত নয়, শক্তি (Energy) এবং তথ্য কণা (Binary bits of information) দিয়ে গঠিত। সমগ্র মহাবিশ্ব হল তথ্য এবং শক্তির অসীম অনন্ত ক্ষেত্র (Infinite field of energy)। তারই একটি ক্ষুদ্র অংশ এই দেহ।
॥ তিন ॥
(২) বিজ্ঞানের সর্বশেষ বক্তব্য হল, চেতনা থেকেই শরীরের প্রাণ রসায়ন উৎসারিত। বিশ্বাস, আবেগ এবং চিন্তাধারা শরীরে রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। সেই রাসায়নিক প্রতিক্রিয়াই প্রতিটি কোষকে সজীব রাখে।
(৩) । মানুষ ইচ্ছা এবং স্মৃতির গুচ্ছ : দেহ এবং মস্তিষ্কের কোষ এবং কলায় (Cells and tissues) তাদের বিচরণ ও অবস্থান। ব্যক্তিত্ব, অহং ইত্যাদির প্রকাশ ঘটে দেহের মাধ্যমে। আপনার এই দেহটাই সব নয়। এটি একটি খোলস। একটি খাঁচা। এই “খাঁচার ভেতর বাস করে এক অচিন পাখী”। যার খবর পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের কাছে অজ্ঞাত। তিনি “কেমনে আসেন আর কেমনে যান”, কেউ সেটা বুঝতে পারে না। তিনিই আপনার আসল সত্তা। তিনিই হলেন সেই মিস্ত্রি যিনি নিরন্তর বানিয়ে চলেছেন এই দেহঘড়ি, আপনার অহং, আপনার সত্তা। তিনিই আপনার আসল সত্তা।
(৪) ললাট লিখন অমোঘ সত্য : রোগ জ্বরা, বার্ধক্য এবং মৃত্যুর আপনি অনিবার্য শিকার। মৃত্যুর ওপর হাত নেই। বার্দ্ধক্য হচ্ছে Chronological age এর একটি পরিমাপক। কিন্তু Psychological age এবং রোগব্যাধি সম্পর্কে বলা যায় যে,আপনার সেই আসল সত্তার কোনো রোগব্যাধি বা Biological age নাই।
(৫) চেতনা ও দেহকোষ : চেতনা দেহকোষের সাথে নিরন্তর কথা বলছে। ফলে কোষের পরিবর্তন হচ্ছে। চেতনা কথা বলছে তার নিজস্ব ভাষায়। সেই ভাষাকেই কি বিজ্ঞানীরা বলছেন DNA Sequencing? সেই ভাষারই কি ইংরেজী পাঠোদ্ধার হচ্ছে Gene Mapping-এর রহস্য উদঘাটন করে?
(৬) দেহ এবং মন বিচ্ছিন্ন নয়। আপনার যে সত্তাটির নাম ‘আমি’, সেটি দুইটি ধারার সঙ্গমস্থল। একটি ধারা হল Subjective (আধ্যাত্মিক)। অপরটি হল বস্তু জগৎ (Objective)। Subjective এ রয়েছে আবেগ, অনুভূতি এবং চিন্তাধারা। নবী রাসূলরা যখন ধ্যান করতেন তখন এই দুইটি ধারা একটি উৎসে মিলিত হত। এই উৎস থেকেই আমাদের সৃষ্টি। সেখান থেকেই Survival এবং লালন পালন (Sustenance)। এই উৎসকে আমরা স্রষ্টা হিসেবে জানি।
(৭) দেহের মধ্যে ২০০০ প্রোগ্রাম : এই দেহ ঘড়ি তৈরীর সময় অন্তত ২০০০ Program বা Software set করা হয়েছে। এগুলি (Built-in)। এগুলোই হ’ল Immune mechanism বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। ‘Brain’ হল এগুলোর Hardware। কম্পিউটার ভাইরাস যেমন Programme-কে বাধাগ্রস্ত করে তেমনি Tension, Frustration, Depression ইত্যাদি হল দেহ ও মস্তিস্কের ভাইরাস।
(৮) প্রথমে দেহ, তারপর চেতনা : মানুষ একটি প্রজাতি। অন্যান্য প্রজাতির সাথে মানুষের পার্থক্য হল এই যে, মনুষ্য প্রজাতি চিন্তা করতে পারে। চেতনা প্রাণ রসায়নের ফসল। মানুষ হিসাবে আপনি স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিজ্ঞানের সর্বশেষ বক্তব্য হল : বুদ্ধিমত্তার প্রবাহ (Impulses of Intelligence) প্রতি মুহূর্তেই আমাদের দেহকে গঠন এবং পুনর্গঠন (Construct & Reconstruct) করছে। সেই প্রবাহ আসছে অন্য কোথাও, অন্য কোনো স্থান থেকে। এখন আপনি যে অবয়ব ধারণ করে আছেন সেটা হল ঐসব প্রবাহের সামষ্টিক যোগফল। ঐসব প্রবাহ এবং তাদের প্যাটার্ন বদল করলে আপনিও বদলে যাবেন।
(৯) মানুষের দেহ হল কোটি কোটি অণু, পরমাণু তথা কণিকার সমষ্টি। পদার্থ বা এ্যাটম ধ্বংস হয় না, তার রূপান্তর ঘটে মাত্র। সুতরাং মৃত্যু মানুষকে শেষ বা ধ্বংস করে না, রূপান্তর ঘটায় মাত্র।
মানুষের শরীরের এই ৭৩ লক্ষ কোটি কোষের মধ্যে কয়টি কোষের বিস্তারিত বিবরণ আমরা জানতে পেরেছি? সামান্যই পেরেছি। বাকীগুলো কোনো দিন জানতে পারবোনা। এসব কথা জ্যোতির্বিজ্ঞান, এ্যাট্রো ফিজিক্স, নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, মাইক্রো বায়োলজি, মলিকিউলার বায়োলজি, সেল বায়োলজি- এসব বিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত সত্য বলে প্রতিভাত হয়েছে। অথচ ১৫০০ বছর পূর্বে সূরা ‘আন্ নাহ্লে’ আল্লাহ্ তাআলা এরশাদ করেছেন, “তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তার অনেক কিছুই তোমরা অবগত নও।” এই কথাটিই তো ‘হাবলস্ ল’ বা হাবল’স কন্সট্যান্ট’ এ আমরা জানলাম ১৯২৯ সালে, অর্থাৎ মাত্র ৮৭ বছর আগে।
সুতরাং পবিত্র কোরআন অবশ্যই ডিভাইন বুক বা আসমানী কেতাব। পবিত্র রমজান মাসে ঐ মহাগ্রন্থ নাজেল হওয়া শুরু হয়। অন্যান্য অনেক কারণের মধ্যে এ কারণেও রমজান মাস মুসলমানদের কাছে শ্রেষ্ঠ মাস।
Email: [email protected]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ