ঢাকা, রোববার 06 November 2016 ২২ কার্তিক ১৪২৩, ৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

শাহীন খানের এক গুচ্ছ ছড়া
নানাবিধ পাখি

দূর দেশ থেকে আসে নানাবিধ পাখি
ওরা মেহমান, গায় গান, করে ডাকাডাকি।
ওরা সুন্দর, অনাবিল, সাতরঙা ঝিলমিল
উচ্ছ্বল, চঞ্চল, হাসে যেন খিলখিল।
ওরা বন্ধু, সিন্ধু পটে আঁকা চিত্র
ওরা ঝরনা, পরনা, বান্ধব মিত্র।

ওরা অবুঝ, সবুজ কবিতার ছন্দ
ওরা ঝিকমিক, দশদিক ফুলেদের গন্ধ।
ওরা বেদুঈন, যাযাবর ভালোবাসে ঘুরতে
ভালবাসে এই দেশ, ভালোবাসে উড়তে।

পাখির মতো উড়তে

ইচ্ছে করে পাখির মতো উড়তে
ফুলের বনে সকাল-বিকাল ঘুরতে
প্রাণটি ভরে কুহু কুহু ডাকতে
চোখের তারায় সবুজ ছবি আঁকতে।

পাখি তুমি

পাখি তুমি কোথা থেকে এলে
আর কোথা উড়ে যাও?
কিভাবে কোন মনে সুরে তুমি গাও?
আমারও সাধ জাগে তোর মতো উড়তে
আকাশের ঐ নীলে সারাক্ষণ ঘুরতে।

পাখির সাথে
পাখির সাথে বন্ধু আমার
পাখির সাথে মিতালী
নিয়ে গেল ফুলের বনে
গান শোনালো গীতালি।

সাথে ছিল ল্যাপটপটা
লিখে সবই ফেললাম
পাখির সাথে ফুলের বনে
প্রাণটি ভরে খেললাম।


আমার গরু দুষ্ট
শাহ আলম বাদশা

সবার গরু যেমন-তেমন
আমার গরু দুষ্ট
তোমার গরু দেখতে কেমন
আমার পরিপুষ্ট।

চিকনা গরু
ঠিক না গরু
মোটকা গরু
ভোটকা গরু;
মোটাতাজাই করেছে;
বিষের চোটে
ফুলেই ওঠে
নয়রে ভালো
নয়রে মোটে
ক্ষয়রোগে যে ধরেছে?

ওজন আছে
ভোজন আছে
খাওয়াও যতই খড়;
বিষেই মারা
খেলেই সারা
রাখছো কি খবর!


সবুজ মাঠের ছড়া
ফরিদ আহমদ ফরাজী

আমার কিছু পাঠক আছে
ছড়া পাঠের
সে পাঠকের দাবি যেন
সবুজ মাঠের
শিশির ভেজা সকাল নিয়ে
ছড়া লিখি
তাল, মাত্রা, অন্তমিল আর
ছন্দ শিখি।

অন্তর চোখটি খোলে যখন
বিবেকটাকে
তাকিয়ে দেখি বিশ্ব মাঠে
আমায় ডাকে।
শিশির ভেজা সবুজ মাঠটি
পাইনা খুঁজে
চির সবুজ বাংলা আছে
চক্ষু বুজে।

মাঠের মাঝে দাঁড়িয়ে দেখি
সবুজ মাঠে
চারণ ভূমে গবাদিরা
রক্ত চাটে।


শিউলী ঝরা ভোর
আবদুর রাজ্জাক বাবু

শিশির ভেজা ভোর বেলাতে
রোজ সকালে ফুল কুড়াতে
আসতে তুমি শিশির চুমি
আমার সখের শিউলী তলায়।

অঙ্গনে মোর থাকতো পাতা
শুভ্র ফুলের শ্বেত গালিচা,
মাড়িয়ে যেতে কষ্ট পেতে
আমার সখের শিউলী তলায়।

কদিন থেকে আসছো না’ যে-
লুকিয়ে লাজে আঁচল মাঝে-।
জেনে নিলাম দূরের গাঁয়ে
হঠাৎ করেই তোমার বিয়ে
তাই আসোনা এদিক দিয়ে-
আমার সখের শিউলী তলায়।

আমিও যেদিন থাকবো না’গো-
ফুলের আসর রইবে পড়ে
নতুন কেহ আসবে হেথায়
আমার সখের শিউলী তলায়।


আমরা ব্যাচেলর
শাহ্ আলম শেখ শান্ত

লক্ষকোটি দালানকোঠা
তলার উপর তলা
তবু বাপু ঠাঁই জোটে না
কী আর আছে বলা !

বাড়িঅলার শর্ত হাজার
মাথা পেতে নেবো
যত টাকা অগ্রিম চায়
নগদ দিয়ে দেবো-
পানি গ্যাসের হোকনা অভাব
নেই ক্ষতি নেই তাতে
দিনে নাহয় বাইরে রবো
থাকবো কেবল রাতে।

বাঘ-হাতি আজ মিলছে টাকায়
মেলে না যে বাসা
কষ্টনদী উপচে গিয়ে
হলাম যে বানভাসা !
অর্থকড়ি থাকার পরও
স্টেশনে ঘর
আমরা মোটে নই তো মানুষ
আমরা ব্যাচেলর!


বিড়াল বাচ্চারা
রওশন মতিন

বিড়াল মাসি বাচ্চা ফুটোয় তিনটি ,
বন্ধুরা, মনে রেখ ওদের জন্ম দিনটি !
পিচ্চিগুলে সাদাÑকালো ,বাঘের মত থাবা,
তেড়ে আসে গোঁফ দুলিয়ে ওরে বাবা! বাবা!

হাসি Ñখুশী ,খুনÑসুটিতে সারাটা দিন মশগুল,
আদর মাখা পুতুল যেন মিস্টি নরম তুলতুল!
ডাকলে কাছে আসবে ছুটে গোঁফ দুলিয়ে,
যায় যে বসে ঘাড় দুলিয়ে গাল ফুলিয়ে
হঠাৎ করেই যুদ্ধ আবার হঠাৎ করেই সন্ধি,
লেখার টেবিল .বইয়ের সেলফে ওঠার কত ফন্দি!

তারপরে যে আমার কাছে কত্ত ওদের বায়না,
কিছু আদর খাবার দিলে মুখটা হাসির আয়না!


গাঁয়েও এখন শব্দদূষণ
মুহাম্মদ আলী মজুমদার

গাঁয়েও এখন শব্দদূষণ ঠিক শহরের মতোই
দিনের বেলা আসবে না ঘুম চেষ্টা করো যতোই।
সিএনজি আর টমটম চলে আওয়াজ করে বিকট
ছেলেমেয়ে কান্না করে এসে কানের নিকট।

রাস্তাঘাটে যায় শোনা যায় ঝগড়াঝাঁটি হইচই
রাখাল করে হাম্বা হাম্বা, চাচি-আম্মা তই তই।
সারাটি দিন ফেরিঅলা আসে দলে দলে
মহিলারাও দলবেঁধে যায় তাদের কাছে চলে।
বেচাকেনা চলে তাদের চিল্লাচিল্লি করে
হাঁকডাক শুনে রেগেই মরি ঘুম কি চোখে ধরে?
ফেরিঅলা মাইক বাজা’ আরো বাজে খানকায়
মুরীদেরা নিশিরাতে জোরে জোরে গান গায়।

রাস্তাঘাটে মোবাইল ফোনে বাজে জোরে গান
এসব শুনে ঝালাপালা করবে সবার কান।
গাঁয়ে এখন আগের মতো শান্তি ও সুখ নাই
সকাল-বিকাল সারাটি রাত শব্দদূষণ পাই।


নবান্ন এলো
জাহাঙ্গীর ডালিম

পাকা পাকা ধান
পাখিদের গান
আভা আভা শীত
হেমন্তে শোনা যায়
পাপিয়ার গীত।
স্বপ্নের ধান কাটে
গায়েতে ঘাম ছোটে

নেই তবু ক্লান্তি
নবান্নে এলো ধান
এই তার শান্তি।
নতুন চালের পিঠা
কত কাজ এটা সেটা
গ্রীষ্ম গেল চলে
শীত তাই এলো বলে
এই তো হেমন্তকাল
আভা আভা শীত
শিশির সকাল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ