ঢাকা, রোববার 06 November 2016 ২২ কার্তিক ১৪২৩, ৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কুমারখালীতে রোপা-আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী, (কুষ্টিয়া) : নিবিড় শরৎকালীন ফসল উৎপাদন কর্মসূচী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের আওতায় খরিপ-২ মৌসুমে রোপা-আমন আবাদের জন্য অনুকূল আবহাওয়া, আধূনিক ও উন্নত প্রযুক্তিগত চাষাবাদ আর রোগ-বালাইমুক্ত পরিবেশ থাকায় কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে রোপা-আমনে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর আশাবাদী।  উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমের জন্য উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে রোপা-আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১১ হাজার  হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও তা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৫০০হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে বাগুলাট ইউনিয়নে ১হাজার ৫শত ১৭, নন্দলালপুরে ৬শত ২৫, কয়া ইউনিয়নে ১হাজার ৩৭, জগন্নাথপুরে  ৫শত ১২, সদ্কী ইউনিয়নে ৯শত ৫০, শিলাইদহে ১হাজার ২শত ২২, চাপড়া ইউনিয়নে ৯শত ৪০, চাঁদপুরে ১হাজার ৭শত ৮১, পান্টি ইউনিয়নে ১হাজার ৩শত ৪১, চরসাদিপুরে ৩শত, যদুবয়রা ইউনিয়নে ১হাজার ৩শত ২২ এবং পৌর এলাকায় ৫০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন আবাদ করা হয়েছে। গোটা উপজেলাতে হাইব্রীড ২শত, উফ্শী ১১হাজার ৫শত ৫০ এবং স্থানীয় জাতের ২শত ৫০হেক্টর জমিতে রোপা-আমন আবাদ করা হয়েছে। কুমারখালীর ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশী অর্জন হয়েছে চাঁদপুর ইউনিয়নে ১হাজার ৭শত ৮১হেক্টর জমিতে। এতদাঞ্চলের বেশীরভাগ জমিতে ব্রি ধান-৩৩ এবং ব্রি ধান-৩৯ জাত আবাদের পাশাপাশি ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৬২ ও বিনা ধান-০৭ জাতের আবাদও এখানে বিদ্যমান। কৃষকেরা বলছেন,“গত আউশ মৌসুমে খরচ ও কষ্ট করে শুধু ধান উৎপাদনই করেছি তবে, পাইনি দাম। তাই এ মৌসুমী ধান আবাদের ওপরই নির্ভর করছে আমাদের জীবন-জীবিকা। রোপা-আমন আবাদে কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদফ্তরের পক্ষ থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রশিক্ষণ ও রোগ-বালাই দমনে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি আউশ মৌসুমের মতো কৃষি প্রণোদনার ব্যবস্থা নিলে এ মৌসুমে অনেকেই আরো অনেক বেশী আবাদ করতো”। কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদফ্তরের কুমারখালী উপজেলা কৃষি-কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আহ্মদ বললেন,“যেহেতু আমন মৌসুমী ধানের দাম ভালো পাওয়া যায়। এসময়ে বৃষ্টির পানিতে নাইট্রোজেন থাকায় ক্ষেতে ইউরিয়া কম লাগার কারণে কৃষককূলে ছিল উৎসাহ-উদ্দিপনা। সেই সাথে উন্নত জাত আবাদ, অনুকূল আবহাওয়া আর পূর্বে থেকেই রোগ-বালাইমুক্ত আবাদি পরিবেশ বিরাজ করায় উপজেলার কৃষককূলে রোপা-আমন আবাদে উৎসাহ-উদ্দিপনার প্রেক্ষাপটে উঁকি দিচ্ছে বাম্পার ফলনের সমূহ-সম্ভাবনা”। কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদফ্তরের সহকারী কৃষি-কর্মকর্তা ভূলেন্দ্রনাথ বালা বললেন,“রোপা-আমন আবাদি মৌসুমে প্রয়োজন মত বৃষ্টিপাত, অনুকূল আবহাওয়া সেইসাথে আধূনিক ও উন্নত জাত আবাদ এবং পূবের্ থেকেই রোগ-বালাইমুক্ত পরিবেশ গড়ার কারণে আবাদ ভালো হয়েছে। গতবারের তুলনায় এবার ফলনও হয়েছে অনেক ভালো। রয়েছে বাম্পার ফলনের সমূহ-সম্ভাবনা”। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে মাঠের পর মাঠ কাঁচা-পাকা সোনালী ধান বাতাসে দোল খাচ্ছে। কিছু কিছু মাঠে আগাম রোপিত পাকা ধান কাটাও শুরু করেছে কৃষকেরা। পুরোদমে ধান কাটা শুরু হতে আরো ২ সপ্তাহ লাগবে বলে কয়েকজন কৃষক জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ