ঢাকা, রোববার 06 November 2016 ২২ কার্তিক ১৪২৩, ৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রূপগঞ্জে ৫টি আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু ভরাট ও সাইনবোর্ড স্থাপনের অভিযোগ

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কাঞ্চন পৌরসভার আওতায় থাকা ৫ টি আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে বালু ভরাট ও সাইন বোর্ড স্থাপনসহ বিভিন্ন অভিযোগ করে স্থানীয় কৃষকরা। কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার পৌর কর্তৃপক্ষ ঐ আবাসন প্রকল্পের মালিক পক্ষকে নেটিশ করেছেন। আবাসন প্রকল্প গুলো হলো, পূর্বাচল ইস্ট উড সিটি, পূর্বাচল এনআরবি হোমস সিটি, পূর্বাচল রিজেন্ট টাউন, পূর্বাচল আমিন সিটি ও পূর্বাচল  বেস্ট ওয়ে সিটি।
কাঞ্চন পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) আনোয়ার হোসেনের স্বাক্ষরিত এক নোটিশ থেকে জানা যায়, এ ৫ টি আবাসন প্রকল্প হাউজিং প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাঞ্চন পৌরসভা থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করে। অনুমোদন পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্প এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কাজের তেমন  কোন অগ্রগতি হয় নি। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্যে অনুমোদন পত্রের শর্ত অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে ছাড়পত্র অথবা অনুমোদন গ্রহণ করতে হয়। আবাসন প্রকল্প গুলোকে প্রতিবছর ৩১ শে জানুয়ারির মধ্যে প্রকল্প এলাকায় আগের বছর গুলোতে ক্রয়-বিক্রয়কৃত ভূমির হিসাব, বিক্রিত সকল  প্লটের তালিকা, প্লট হস্তান্তর, রেজিস্ট্রির বিবরণী কাঞ্চন  পৌসভার কার্যালয়ে দাখিলের নির্দেশ থাকলেও আবাসন প্রকল্প গুলো তা করে নি। আবাসন প্রকল্প গুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। আবাসন প্রকল্প গুলো কৃষকের কাছ থেকে জমি  জোর পূর্বক কিনে নিয়ে তাদের ন্যায্য মূল্য না দেয়া, অবৈধ ভাবে বালু ভরাট, জোর পূর্বক সাইন বোর্ড স্থাপন, বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কম মূল্যে জমি ক্রয় করার কৌশল অবলম্বন করাসহ জমি  কেনার সময় জমির মালিককে চেক দিয়ে সময়মত তা নগদ না করা। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পৌর পরিষদের সভায় এ ৫ টি আবাসন প্রকল্পের কাজের বাস্তযায়ন সংক্রান্ত অগ্রগতির প্রতিবেদন চেয়ে নোটিশ করা হয়।  পৌর পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনুমোদন পত্রের শর্তানুযায়ী সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে ছাড়পত্র অথবা অনুমোদন গ্রহণ এবং প্রকল্প এলাকা গুলোতে বিগত ১ বছরের ক্রয় বিক্রয়কৃত ভূমির হিসাব, সকল ধরনের প্লটের তালিকা, প্লট হস্তান্তর ও রেজিস্ট্রেশনের বিবরণীসহ বিভিন্ন  পদক্ষেপের একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন ১৫ নবেম্বরের মধ্যে পৌরসভার কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য আবাসন প্রকল্প গুলোকে নোটিশ দেওয়া হয়। আবাসন প্রকল্প গুলো যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদনটি জমা না দেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে পৌরসভা থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে পৌর মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা বলেন, কোন নিরীহ কৃষকের জমিতে অন্যায় ভাবে বালু ভরাট, সাইনবোর্ড স্থাপনসহ বিভিন্ন ভাবে জমি জবরদখল করবে এটা বরদাস্ত করা হবেনা। জমির মালিকদের অভিযোগের ভিত্তিত্বে আবাসন প্রকল্পের মালিকপক্ষকে নোটিশ করা হয়েছে। সঠিক মূল্যে ও কৃষকদের রাজিখুশি করে, পৌরসভার নিয়ম কানুন ও বিধি নিষেধ  মেনে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।
তবে, এ বিষয়ে ওই ৫টি আবাসন প্রকল্পের মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নিয়ম কানুন মেনেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন বলে জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ