ঢাকা, রোববার 06 November 2016 ২২ কার্তিক ১৪২৩, ৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনায় ক্ষমতাসীন আ’লীগ জড়িত

স্টাফ রিপোর্টার : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় ক্ষমতাসীন আ’লীগই জড়িত বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত দল হামলাস্থল ঘুরে দেখে গতকাল শনিবার বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দেশবাসীর কাছে আজ স্পষ্ট হয়েছে, কারা এই ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার হোতা। গত ৭ বছরে যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার প্রত্যেকটি ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হাত রয়েছে, এটি আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট।
সাংবাদিক সম্মেলনে নাসিরনগর সফরকারী বিএনপির প্রতিনিধি দলের সদস্য সঞ্জীব চৌধুরী, গৌতম চক্রবর্তী, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, সুশীল বড়ুয়া, আবদুল আউয়াল খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলায় জড়িত থাকার দায়ে স্থানীয় তিন নেতাকে বহিষ্কার করায় আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ জানিয়ে হাফিজ বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের নেতৃবৃন্দকে সাময়িক বহিষ্কার করে ঘটনাটি সামলাবার চেষ্টা করেছেন। আওয়ামী লীগকে একটু ধন্যবাদ জানাতে চাই, দলীয় নেতৃবৃন্দকে শাস্তি দিয়ে জনসমক্ষে তাদের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। এই সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে হাইকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিও জানান হাফিজউদ্দিন। একই সঙ্গে গত ৭ বছরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখলসহ বিভিন্ন হামলার ঘটনার পেছনে শাসক দলের যেসব লোক রয়েছেন, তাদের পরিচয় প্রকাশ এবং ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারের পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।
বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের হাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, এখনো হচ্ছে। ক্ষমতাসীনরা নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব কারণে বর্তমান অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই।
ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুদের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, নাসিরনগরে আমরা কোনো রাজনীতি করতে যাইনি। ঘটনাস্থলে এর ব্যাপকতা দেখে আমরা বেদনাহত হয়েছি, যার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। স্বাধীন বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই ধরনের হামলা আমাদের স্তম্ভিত করেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন অভিযোগ করেছেন, পুলিশ বাহিনী ওই হামলার সময়ে তাদের কোনো কাজে লাগেনি। বরং তাদের প্রতিবেশী মুসলিম পরিবারগুলো এসে মন্দির ভাঙার কাজে বাধা দিয়েছে এবং হিন্দু পরিবারগুলো যখন আশ্রয় নিতে গেছেন, তাদের আশ্রয় দিয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় হামলার জন্য পুলিশের দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব একেবারেই নেই। তারা তাদের মৌলিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে এই কারণে যে এটি একটি দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। তারা বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী নেতা-কর্মীদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। মিথ্যা মামলা দায়েরের কাজেই এই পুলিশ বাহিনীর অধিকাংশ সময় ব্যয় হয়।
আওয়ামী লীগ নেতারা হিন্দুদের নিজেদের ‘ভোট ব্যাংক’ ভাবলে তারপরেও কেন তাদের উপর এই হামলা হচ্ছে- প্রশ্ন করলে তার উত্তরে হাফিজ বলেন, এর প্রধান কারণ হচ্ছে, আওয়ামী লীগের আর ভোটের প্রয়োজন নেই। সেজন্য তারা এসব করছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় আমরা লক্ষ্য করেছি, সরকারের ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা হিন্দু সম্পত্তি গ্রাস করেছেন। পুরনো জেলাগুলোতে স্বাধীনতার অব্যবহিত পর থেকেই হিন্দুদের সম্পত্তিগুলো আওয়ামী লীগের লোকেরা দখল করে রেখেছেন এটা প্রমাণিত সত্য। হিন্দুদের রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন বিএনপি নেতা। নাসিরনগরে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তা দিতে সৈয়দ একরামুজ্জামানের নেতৃত্বে অচিরেই বিএনপির কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
নাসিরনগরে হামলায় বিএনপি জড়িত আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল হানিফের এমন বক্তব্যর জবাবে তিনি বলেন, আজ দেশের আবহাওয়া খারাপ। ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত চলছে। হয়তো আওয়ামী লীগ নেতারা বলবেন, এটার জন্য বিএনপি দায়ী। আরও বলতে পারেন, এর জন্য জিয়াউর রহমান দায়ী। তিনি বলে গেছেন ২০১৬ সালে আবহাওয়া খারাপ করতে হবে। আওয়ামী লীগ নেতাদের এরকম হাস্যকর কথা কেউ বিশ্বাস করে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ