ঢাকা, রোববার 06 November 2016 ২২ কার্তিক ১৪২৩, ৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সর্বশেষ জরিপে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে হিলারি

 সংগ্রাম ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ¦ী প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেলেও জাতীয় জরিপে অগ্রগামিতা ধরে রেখেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। রয়টার্স, বিবিএস, দ্য সান ডিয়েগো ইউনিয়ন, ট্রিবিউন
গত শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জরিপ সংস্থা ইপসোসের সর্বশেষ জরিপের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, প্রতিদ্বন্দ¦ী রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে পাঁচ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছে হিলারি।
৮ নবেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এর মাত্র কয়েকদিন আগে ৩০ অক্টোবর থেকে ৩ নবেম্বর পর্যন্ত করা এই মতামত জরিপে, ৪৪ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার হিলারির পক্ষে এবং ৩৯ শতাংশ ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিবেন বলে জানিয়েছেন।
এই জরিপে দেখা গেছে, সপ্তাহজুড়ে হিলারির অগ্রগামিতা ৪ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠানামা করেছে। তবে অন্যান্য মতামত জরিপে দেখা গেছে, প্রতিদ্বন্দি¦তা ক্রমেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে রূপ নিচ্ছে।
জাতীয় জরিপগুলোর গড় করে প্রকাশ করা রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিকসের হিসাব অনুযায়ী, হিলারির অগ্রগামিত গত সপ্তাহের পাঁচ শতাংশ পয়েন্ট থেকে হ্রাস পেয়ে শুক্রবার দুই পয়েন্টেরও নিচে নেমে গেছে।
পেনসিলভ্যানিয়ায় এক নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প; ৪ নবেম্বর, ২০১৬। রয়টার্স
এটা অনেকটা ২০১২-র প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে মতো অবস্থা। ওই সময়ে নির্বাচনের আগের চূড়ান্ত দিনগুলোতে রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে দেখা গিয়েছিল, প্রতিদ্বন্দ¦ী প্রার্থী রিপাবলিকান মিট রমনির চেয়ে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী বারাক ওবামা তিন থেকে সাত শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন।
ওই সময় রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিকস্ দেখিয়েছিল, নির্বাচনের আগে ওবামার অগ্রগামিতা প্রায় নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এরপরও জনপ্রিয় ভোটে চার শতাংশ অগ্রগামিতা নিয়ে ওবামা পুনর্নির্বাচিত হন।
জাতীয় জরিপে অগ্রগামিতা সত্বেও অঙ্গরাজ্যগুলো ধরে করা আলাদা জরিপে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে হিলারি আগের অবস্থান হারিয়েছেন।
রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোলাইনা এবং মিশিগান অঙ্গরাজ্যে হিলারি আগের অবস্থান হারিয়েছেন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তার লড়াই তীব্র প্রতিদ্বন্দি¦তাপূর্ণ হয়ে উঠছে।
দোদুল্যমান এই অঙ্গরাজ্যগুলো ভোটাররা রিপাবলিকান বা ডেমোক্রেট, যে কোনো দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন এবং এখান থেকেই নির্ধারিত হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হতে যাচ্ছেন।
ফক্স নিউজের জরিপে কমছে ব্যবধান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ফক্স নিউজ-এর চালানো সর্বশেষ জরিপে আগের জরিপের চেয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারি ক্লিনটনের ভোটের ব্যবধান কমেছে। শুক্রবার প্রকাশিত জরিপে ২ শতাংশ পয়েন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন হিলারি ক্লিনটন। অথচ তার আগের জরিপে হিলারি ৩ পয়েন্টে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ১ নবেম্বর থেকে ৩ নবেম্বর পর্যন্ত সর্বশেষ জরিপটি পরিচালনা করেছে ফক্স নিউজ। নবেম্বরের জরিপে অংশ নেন ১,১০৭ জন ভোটার। আর এ জরিপে উঠে এসেছে, যে হিলারি এখনও ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও ব্যবধানটা খুব একটা বড় নয়।জরিপে দেখা গেছে, হিলারির পক্ষে ৪৫ শতাংশ এবং ট্রাম্পের পক্ষে ৪৩ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়াদের মধ্যে ৫ শতাংশ জানিয়েছেন তারা লিবারটারিয়ান গ্যারি জনসনকে সমর্থন করেন আর ২ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন তারা গ্রিন পার্টির জিল স্টেইনকে সমর্থন করেন।এর আগে গত ২২ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ফক্সের চালানো জরিপে ট্রাম্পের পক্ষে ৪১ শতাংশ এবং হিলারির পক্ষে ৪৪ শতাংশ মানুষের সমর্থন ছিল। প্রার্থীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির দিক দিয়েও অক্টোবরের জরিপের চেয়ে নবেম্বরের জরিপে পার্থক্য রয়েছে। এবারের জরিপে ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের আস্থা আগের চেয়ে বেড়েছে। এবারের জরিপে ৩৮ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পকে সৎ বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ অক্টোবরের জরিপ অনুযায়ী সেসময় ৩৪ শতাংশ ভোটার এমনটা মনে করতেন।
এদিকে হিলারির ইমেইল ইস্যুতে এফবিআই নতুন করে তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার পর আগের চেয়ে হিলারির প্রতি ভোটারদের আস্থা খানিকটা কমেছে। ফক্স নিউজের জরিপে দেখা গেছে, হিলারির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন ৪৩ শতাংশ ভোটার। অথচ আগের জরিপে তা ৪৫ শতাংশ ছিল। তবে এবারের জরিপে হিলারিকে ৩১ শতাংশ ভোটার সৎ বলে উল্লেখ করেছেন। আগের জরিপে তা ৩০ শতাংশ ছিল।
ওবামার হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সতর্ক করেছেন, রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিজয়ের খুব কাছাকাছি। এই ‘অ-আমেরিকান’, ‘অমানুষ’ ও ‘বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী’ প্রার্থীর বিজয় ঠেকাতে হবে। এ জন্য বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ওবামা।
নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে গতকাল শুক্রবার ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের সমর্থনে প্রচার সভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই বক্তব্য দেন।
ওবামা বলেন, এই নির্বাচনে এমন প্রতিদ্বন্দি¦তা হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু তা হচ্ছে।
ট্রাম্প সম্পর্কে উদ্বেগমাখা কণ্ঠে জনতার উদ্দেশে ওবামা বলেন, ‘একবার কল্পনা করুন, এই মানুষটি (ট্রাম্প) কী আচরণ করে যাচ্ছেন। অনুধাবন করুন, রিপাবলিকানরা কী বলছেন। চিন্তা করে দেখুন, সংবাদমাধ্যমে কী বলা হবে।’
ওবামা বলেন, ‘আমরা এসব বিষয়কে এখন স্বাভাবিকভাবে ধরে নিচ্ছি। আপনারা দেখছেন, কিছু মানুষ ট্রাম্পের এমন আচরণকে যথাযথ করার জন্য তাঁর প্রতি সমর্থনও জানাচ্ছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যে লোক নারীর প্রতি অবমাননা করেছেন, তিনি হোয়াইট হাউসে গেলে একই কাজ করবেন। যে লোক বর্ণবিদ্বেষের প্রতি সহানুভূতিশীল, বর্ণবিদ্বেষীদের সমর্থন পেয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে সেই লোক একই কাজ করবেন।
ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, যে লোক নির্বাচনের প্রচারণায় দেশের সংবিধানকে সম্মান করতে পারেন না, সেই লোক ক্ষমতায় গেলে সংবিধান লঙ্ঘন করবেন।
সমবেত জনতার উদ্দেশে ওবামা বলেন, ‘আজ আমরা ডেমোক্র্যাট নয়, রিপাবলিকান নয়, আমরা সবাই আমেরিকান।’
ওবামা বলেন, ‘ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকানআমাদের প্রথম পরিচয় হতে পারে না। আমরা সবাই ¯্রষ্টার সন্তান। প্রধান পরিচয় আমরা মানুষ।’
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারির সমর্থনে সমবেত সভায় ওবামা আরও বলেন, ভীতিকে নয়, প্রত্যাশাকে ধারণ করতে হবে।
ওবামা উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, ওয়াশিংটনের আকাশে আজ সন্দেহের কুয়াশা। রিপাবলিকানরা ইতিমধ্যেই বলছেন, হিলারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
প্রচারের শেষ মুহূর্তে এসে ট্রাম্পের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে আসছে। হিলারির পক্ষে প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হলিউডের নামীদামি তারকারা নেমেছেন নির্বাচনী প্রচারাভিযানে।
ডেমোক্র্যাট ও হিলারি-শিবিরের একটাই আশঙ্কা, যদি কৃষ্ণাঙ্গসহ তরুণ ডেমোক্র্যাটরা ভোটকেন্দ্রে না যান, তাহলে দলের জন্য দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে।
শেষ মুহূর্তের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য মিশিগানে হিলারি সভা করেছেন। সঙ্গে ছিলেন ধনকুবের মার্ক কিউবান। প্রচারে হলিউডের তারকারাও নেমেছেন। হিলারির স্বামী বিল ক্লিনটন যোগ দিয়েছেন কলোরাডোর প্রচারাভিযানে।
ট্রাম্প একাই চষে বেড়াচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলো। রিপাবলিকান পার্টির কোনো তারকা রাজনীতিবিদও তাঁর সঙ্গে নেই।
নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যে প্রচার সভায় দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি সেখানে একা দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর কাছে গিটার নেই। পিয়ানো নেই। কোনো তারকা আনারও প্রয়োজন নেই।
গতকাল রাতে এবিসি নিউজে প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, হিলারি তাঁর ই-মেইল কেলেঙ্কারির ধাক্কা সামলে উঠছেন। ৪৭ ভাগ ভোটার হিলারিকে সমর্থন জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত চার দিনের জরিপের গড় হিসেবে ট্রাম্পের পক্ষে ৪৩ শতাংশ জনমত দেখা গেছে।
এবিসির সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, অ্যারিজোনাতে ট্রাম্প ৪৯, হিলারি ৪৪ শতাংশ। ফ্লোরিডাতে হিলারি ৪৯, ট্রাম্প ৪৭ শতাংশ। জর্জিয়াতে ট্রাম্প ৪৫, হিলারি ৪৪ শতাংশ। নিউ হ্যাম্পশায়ারে হিলারি ৪৪, ট্রাম্প ৪৪ শতাংশ। নর্থ ক্যারোলাইনাতে হিলারি ৪৭, ট্রাম্প ৪৪ শতাংশ। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে নেভাদায় ট্রাম্প ৪৯ শতাংশ, হিলারি ৪৩ শতাংশ। পেনসিলভানিয়াতে হিলারি ৪৮, ট্রাম্প ৪৩। আইওয়াতে ট্রাম্প ৪৪, হিলারি ৪৪ শতাংশ। ওহাইওতে ট্রাম্প ৪৬, হিলারি ৪১ শতাংশ।
নির্বাচন বিশ্লেষকেরা বলছেন, এবার পারদের মাত্রার মতো ওঠা-নামা করছে আমেরিকার নির্বাচনের জরিপের ফলাফল।
জনমত জরিপে দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দি¦তার আভাস দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি নিকট অতীতে দেখা যায়নি বলেও বলছেন রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা।
শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত হিলারি-ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে আর কয়েকদিন বাদেই ভোট। আর ভোটারদের আকৃষ্ট করতে শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শেষ সময়ে এসে জরিপে কখনও এগিয়ে থাকছেন হিলারি, কখনও ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের জনসমর্থন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে এটা জরিপের ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছে। দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছেন অনেকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডেমোক্রেটদের জন্য নিরাপদ বলে যেসব রাজ্যকে বিবেচনা করা হচ্ছিল সেসব রাজ্যের দিকেও এখন বিশেষ নজর দিচ্ছেন হিলারি ক্লিনটন। দিনরাত চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন রাজ্য। অংশ নিচ্ছেন সভা, সমাবেশে।
ট্রাম্পও বসে নেই। জনসমর্থন বেড়ে যাওয়ায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তিনি। তাই ভোটারদের টানতে হিলারির বিরুদ্ধে সবরকম অস্ত্র ব্যবহার করছেন তিনি।
উভয় দল এখন সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের চেয়ে নিজ দলের সমর্থকদের ভোট টানতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তিন কোটি ৭০ লাখ মানুষ ইতোমধ্যে আগাম ভোট দিয়েছেন। এদিকে নির্বাচনের দিন হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা আল কায়েদার সম্ভাব্য সন্ত্রাসীর হামলা সম্পর্কিত তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটেলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোতে ( যেসব রাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে) ভোটারদের টানতে যখন হিলারি ও ট্রাম্প সচেষ্ট রয়েছেন ঠিক তখনই সম্ভাব্য এ হামলার হুঁশিয়ারি করা হল।
হিলারি ও ট্রাম্প ওহাইও ও পেনসিলভানিয়া দুটি অঙ্গরাজ্যেই গতকাল সমাবেশ করেছেন। আগামী মঙ্গলবারের নির্বাচনে এ দুটি রাজ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টরে পরিণত হতে পারে।
ওহাইও’র ক্লিভল্যান্ডে একটি কনসার্টে অংশ নেয়ার মাধ্যমে হিলারি দিনের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন। তার সাথে যোগ দিয়েছিলেন র‌্যাপ শিল্পী জে জেড ও তার স্ত্রী বিখ্যাত গায়িকা বিয়ন্স।
হিলারি বলেন, ‘আমাদের অসমাপ্ত কাজ করতে হবে। আপনাদের সাহায্য নিয়ে আরো অনেক বাধা ভাঙতে হবে।’ র‌্যাপ শিল্পী জে জেড ও তার স্ত্রী বিখ্যাত গায়িকা বিয়ন্স এ সময় হিলারিকে সমর্থন করেন।
এদিকে নিউ হ্যাম্পশায়ারে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, হিলারি সিরীয় শরণার্থীর সংখ্যা সাড়ে ৫শ’ শতাংশ বাড়িয়ে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার অনুমতি দিতে চান।
তিনি বলেন, তার এ পরিকল্পনার অর্থ হল, সন্ত্রাসবাদ, উগ্রপন্থী ও মৌলবাদের প্রজন্মকে আমাদের স্কুল ও কম্যুনিটিতে ছড়িয়ে দেয়া। এর আগে পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গে এক সমাবেশে হিলারি বলেন, স্বভাব এবং নারী ও সংখালঘুদের নিয়ে অশোভন মন্তব্যের কারণে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নয়।
রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিক্স’র এক জনমত জরিপে দেখা যায়, ওহাইতে বর্তমানে ট্রাম্প এগিয়ে রয়েছেন। আর পেনসিলভানিয়াতে হিলারি সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যায়, গত সপ্তাহ থেকে ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন বাড়ছে। আর এটা বিভিন্ন ব্যাটেলগ্রাউন্ড রাজ্যে তাকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করতে পারে।
‘ডেমক্রেটদের ভোট দিলে নরকবাস’
যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর ক্যাথলিক চার্চ তাদের অনুসারীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, যারা ডেমক্রেটদের ভোট দেবে তারা নরকে যাবে। একটি প্রচারপত্রের মাধ্যমে তারা এই ঘোষণা দিয়েছে বলে মার্কিন সংবাদ সংস্থা সিবিএস নিউজ জানিয়েছে।
দ্য সান ডিয়েগো ইউনিয়ন-ট্রিবিউন জানিয়েছে, ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত এমাকুলেট কনসেপশন অব ক্যাথলিক চার্চের বুলেটিনে একটি প্রচারপত্র ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাতে ডেমক্রেটদের ভোট দেওয়া “আত্মবিধ্বংসী পাপ” বলে উল্লেখ করা হয়।
সিবিএস নিউজ অনলাইন প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই প্রচারপত্রে ডেমক্রেটদের গ্রহণ করা পাঁচটি নীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো সমর্থন করলে চিরকালের জন্য অভিশপ্ত হতে হবে।
ওই পাঁচটি নীতির মধ্যে গর্ভপাত ও সমলিঙ্গের বিয়েও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বুলেটিনের ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত সংখ্যায় অপ্রাসঙ্গিকভাবে হিলারি ক্লিনটনকে উদ্ধৃত করে তাকে শয়তান দ্বারা প্রভাবিত বলে দাবি করা হয়েছে। অভিবাসন ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নীতিরও সমালোচনা করেছে ধর্মীয় ওই গোষ্ঠি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ