ঢাকা, রোববার 06 November 2016 ২২ কার্তিক ১৪২৩, ৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পরশুরামে খাস জমি বন্দোবস্তের নামে হয়রানির অভিযোগ

ফেনী সংবাদদাতা : ফেনীর পরশুরামে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা নিয়ে গত তিনবছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে হতদরিদ্র পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামের হতদরিদ্র ভূমিহীন বাসিন্দা রোশনা বেগম অভিযোগ করেন, ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সাফায়েত উল্যাহ মজুমদার তাকে ৩০ শতক ভুমি  বন্দোবস্ত দেওয়ার কথা বলে ১৫ হাজার টাকা  হাতিয়ে নিয়েছেন। যাহার বন্দোবস্ত নথি নাম্বার ৩। কিন্তু জমি বন্দোবস্ত না দিয়ে গত তিন বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাকে হয়রানি করে যাচ্ছেন। অফিস সহায়ক সাফায়েত উল্যাহকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার পরও সাফায়েত ক্ষান্ত হননি উপজেলায় কোয়ার্টারে বসবাসরত তার স্ত্রী ডায়নাকে দিতে হয়েছে দাবিকৃত আরোা ৫ হাজার টাকা। রোশনা বেগম আরো অভিযোগ করেন, সাফায়েত ও তার স্ত্রী বিভিন্ন সময়ে খবর দিয়ে তাদের বাসায় নিয়ে রান্না বান্না সহ বিভিন্ন কাজ করাতে বাধ্য করেন। এছাড়াও সম্প্রতি বদলী হওয়া অফিস সহায়ক রিপন রোশনার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি বিষয়টি রবিবার উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলামকে অবহিত করেছেন। রোশনা বেগমের অভিযোগ, যেহেতু তার কোন বসতভিটা নেই। তার স্বামী অসুস্থ পরিবারের আয়-রোজগার করার মত কেউ নেই। মাথা গোজার ঠাঁই পেতে গত তিন বছর ধরে জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার আশায় সাফায়েতের ধারে ধারে ঘুরেছেন। কিন্তু জমি বন্দোবস্ত না দিয়ে বরং নথি হারিয়ে গেছে বলে আরো টাকা দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে অফিস সহায়ক সাফায়েতের কাছে জানতে চাইলে তিনি ৪ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ওই বন্দোবস্তের নথি হারিয়ে যাওয়ায় বন্দোবস্ত দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তিনি রুশনাকে ৪ হাজার টাকা ফেরত দিবেন বলে জানান।
সাফায়েত উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অনেক অসহায় গরীব ও ভূমিহীন বাসিন্দাদের কে জমি বন্দোবস্ত দেওয়া এবং খারিজ করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ