ঢাকা, রোববার 06 November 2016 ২২ কার্তিক ১৪২৩, ৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সমবায় আন্দোলন জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

 বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  দেশের সমবায় আন্দোলনকে জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সমবায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৪৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন এবং জাতীয় সমবায় পুরস্কার-২০১৪ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। সমবায় অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকারের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণে সমবায় আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, আমি আশা করি সমবায়ের সাথে যারা সংশ্লিষ্ট তারা সকলেই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন।
 যেহেতু এটা জাতির পিতারই একটা আকাক্সক্ষা ছিল- তিনি বহুমুখী গ্রাম সমবায় করতে চেয়েছিলেন। ’৭৫’র ১৫ আগস্ট তাঁকে হত্যা করার পর সেটা আর করা হয়নি। আমরা তাই ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করে বহুমুখী কর্মসূচির মাধ্যম তাঁরই সেই পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি । শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সমবায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে এবং সফল হতে পারে। আমি আশা করি, আপনারা সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জাতীয় সংসদের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. প্রশান্ত কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন- সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো.মফিজুল ইসলাম এবং সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি ও মিল্কভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু।
অনুষ্ঠানে ১০টি ক্যাটাগরিতে ৫ জন  ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় সমবায় পুরস্কার ২০১৪ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে পুর¯কার বিজয়ী ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগণের মাঝে প্রধানমন্ত্র্রী এই পদক বিতরণ করেন । পুরস্কার হিসেবে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের পদক এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যে বলেন, শিক্ষিত-অর্ধ-শিক্ষিত বেকার ও কর্মক্ষম যুব সম্প্রদায়কে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। পোল্ট্রি, কম্পিউটার, গবাদী পশু পালন, ক্যাটারিং, ড্রাইভিং, ফুল সাজানো, দর্জির কাজ, ব্লক-বাটিক ও স্ক্রীন প্রিন্ট ইত্যাদি কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণের পর সরকারি- বেসরকারি পুঁজির সহায়তায় সমবায়ের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বঙ্গবন্ধুর একটি বক্তব্যের আলোকে বলেন, যৌথ ব্যবস্থায় চাষাবাদ করলে যেমন ভূমির অপচয় রোধ হবে তেমনি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। না হলে আমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে জমি ভাগ হতে হতে যে অবস্থায় পৌঁছাচ্ছে তাতে চাষের জমি আর থাকবে না। জমির আইলের জায়গাই একটি জেলার সমান হয়ে যাবে। শেখ হাসিনা বলেন, কৃষি জমি নষ্ট করে কারখানা নয়, চাষ উপযোগী জমি সংরক্ষণ করতে হবে।
 পণ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। আর শিল্প কারখানা হবে নির্দিষ্ট জায়গায়। এ জন্য আমরা সারাদেশে একশত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েি । প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমাদের শিল্পায়নে  যেতে হবে।  যে অঞ্চলে বেশি কাঁচামাল পাওয়া যাবে  সেখানে  সেই শিল্প গড়ে তুলব। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাব।’তিনি বলেন,  দেশে সমবায় ভিত্তিক ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। আর মাইক্রোক্রেডিট নয়, আমরা ক্ষুদ্র সঞ্চয় বা মাইক্রো সেভিংস’র ব্যবস্থা করেছি। গড়ে তুলেছি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। এ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ৪০ হাজার ৫২৭টি সংগঠন সৃষ্টি করা হয়েছে।
 প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৮ লক্ষ ১৮ হাজার ৮৭৬ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। গত ৭ বছরে দারিদ্র্যের হার ২০ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৮৭ হাজার ১২২টি পরিবারকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে । প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সকল সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে তিনি বলেন, দেশে টেকসই সমবায় গড়ে তুলতে হবে। এলক্ষ্যে দক্ষ প্রশাসন, সৎ সমবায়ী নেতৃত্ব, আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর সমিতি ব্যবস্থাপনা এবং সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার সমবায়ীদের সকল ধরণের সহযোগিতা প্রদান করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ