ঢাকা, রোববার 06 November 2016 ২২ কার্তিক ১৪২৩, ৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় টানা বৃষ্টিপাতে জনজীবন স্থবির মংলা বন্দরের লোড-আনলোড বন্ধ

খুলনা অফিস : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নি¤œচাপের প্রভাবে খুলনায় অবিরাম বৃষ্টিপাত হচ্ছে। শুক্রবার বেলা ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাত ৭টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। এদিকে দিনভর মংলা বন্দর ও আউটার অ্যাংকরে পণ্যবোঝাই জাহাজগুলোতে লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। বিকেলের দিকে ভারিবৃষ্টি ও দমকা হাওয়া শুরু হয়। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ঘুর্ণিঝড় ‘নাডা’ মোকাবিলায় সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এদিকে বিকেল থেকে মংলা বন্দর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকে অব্যাহত বৃষ্টিপাতে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টিপাতের কারণে গতকাল শনিবার সারাদিন নগরীতে যানবাহন চলাচল তুলমামূলকভাবে কম ছিল। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় কম। দিনভর সূর্যের কোনো দেখা মেলেনি। এ ছাড়া বৃষ্টির কারণে শ্রমজীবী মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মংলা সমুদ্র বন্দরে ৪ নম্বর সতর্কতা সংকেত ঘোষণার পর ঘূর্ণিঝড় ‘নাডা’র আশঙ্কায় খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলের মাঝি-মাল্লারা তাদের নৌকা নিয়ে তীরে ফিরে এসেছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ বলেন, শুক্রবার বেলা ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ বৃষ্টিপাত আজ রোববারও অব্যাহত থাকবে। নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ (তিন) নম্বর স্থানীয় বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।’
বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার বিভাগ জানায়, বন্দর জেটি ও পশুর চ্যানেলে বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে ১২টি বিদেশী জাহাজ অবস্থান করছে। এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় সমুদ্রে টিকতে না পেরে জেলেরা সুন্দরবনের দুবলার চরসহ আশপাশের নদী-খালে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।
মংলা বন্দরের হারবার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দিনভর মংলা বন্দর ও আউটার অ্যাংকরে পণ্যবোঝাই জাহাজগুলোতে লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। বিকেলের দিকে ভারিবৃষ্টি ও দমকা হাওয়া শুরু হয়। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ঘুর্ণিঝড় ‘নাডা’ মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এদিকে বিকেল থেকে মংলা বন্দর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের এসিএফ মোহাম্মদ হোসেন জানান, ‘সন্ধ্যা থেকে ফিসিং ট্রলারগুলো সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। এ ছাড়া সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারি ও দুবলার চরের শুঁটকি জেলেদের নিরাপদে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
এদিকে, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় খুলনা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি জরুরি বৈঠক করে। বৈঠক থেকে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ