ঢাকা, রোববার 06 November 2016 ২২ কার্তিক ১৪২৩, ৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বর এলাকায় ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- আসাদুজ্জামান (৩৮) ও তার ছেলে রূপক (৬) শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভিআইপি গেট সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে বাবা ছেলের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনেরা। এ ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।
মিরপুর থানার ডিউটি অফিসার এএসআই মাহফুজুল হক জানান, আসাদুজ্জামান মিরপুর-২ নম্বরের এইচ-ব্লকের ৬ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তিনি মিরপুরে লারা ফ্যাশন হাউসে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে আসাদুজ্জামান একমাত্র ছেলে রূপককে নিয়ে বাসা থেকে খেলা দেখতে এসেছিলেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে বিপিএলের খেলা পরিত্যক্ত হওয়ায় তারা স্টেডিয়াম থেকে বের হন। বাসার উদ্দেশে রিকশায় উঠেন। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ভিআইপি গেটের কাছে আসতেই বালুবাহী একটি বেপরোয়া ট্রাক তাদের রিকশাটি চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়।
ছেলেকে জড়িয়ে ধরা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের দু’জনের মাথা থেঁতলে গেছে। তবে রিকশাচালক বেঁচে গেছেন। ঘাতক ট্রাক (নং কুষ্টিয়া ট-৪৩৮) ও চালক শহীদ মিয়াকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। মিরপুর থানার ওসি ভূঁইয়া মাহাবুব হাসান জানান, আটক চালক শহীদ মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহত বাবা-ছেলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ভূঁইয়া মাহাবুব হাসান জানান, বাবা-ছেলে রিকশাযোগে যাচ্ছিলেন। এসময় পেছন দিকে থেকে দ্রুতগামী একটি ট্রাক পিছন দিক থেকে রিকশায় ধাক্কা দিলে আরোহী বাবা-ছেলে নিচে পড়ে যান। পরে তাদের উপর দিয়ে ট্রাক উঠে গেলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। মিরাজ নামে আসাদুজ্জামানের এক বন্ধু জানান, বনশ্রীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন আসাদ। সিএ পড়ছিলেন তিনি। তাদের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ট্রাকটি আটক এবং এর চালক শহীদ মিয়াকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ওসি মাহবুব জানান।
গুলশানে রিক্রুটিং এজেন্সি থেকে লাশ উদ্ধার: রাজধানীর গুলশানে একটি রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যালয় থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম মোহাম্মদ মকবুল (৫২)। গতকাল শনিবার সকালে গুলশান ১ এর ১৩৬ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাসার তৃতীয় তলা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
গুলশান থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক নুরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক তরুণী ও অফিসের পিয়নকে আটক করা হয়েছে। নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মকবুল গত একমাস ধরে ওই অফিসে কর্মরত ছিলেন। তিনি ওই এজেন্সির হয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করতেন। শুক্রবার রাতের খাবার খেয়ে অফিসেই ঘুমিয়েছিলেন। সকালে কর্মচারীরা এসে দেখেন তিনি ঘুম থেকে উঠছেন না। এরপর তারা বাসায় ঢুকে দেখেন মকবুল মেঝেতে পড়ে আছেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দিলে, তারা এসে মকবুলের লাশ উদ্ধার করে। তবে এজেন্সিটির নাম তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেননি তিনি।
ঘটনার সময় ওই অফিসে একজন পিয়ন ও আরেক তরুণী ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিউটি অফিসার নুরুল। পুলিশ আরও জানায়, নিহত মকবুল হৃদরোগে ভুগছিলেন। তার রক্তনালীতে তিনটি রিং পরানো ছিল বলেও তারা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন। ওই বাসা থেকে বেশ কিছু উত্তেজক ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ