ঢাকা, রোববার 06 November 2016 ২২ কার্তিক ১৪২৩, ৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কৃষকদের কাছ থেকে বেশি দামে ধান কেনার অজুহাত কুষ্টিয়ায় চালের বাজার সিন্ডিকেটের কবলে

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে বেশি দামে ধান কেনার অজুহাত দেখিয়ে কুষ্টিয়ার চালকল মালিকরা সৃষ্টি করেছে এক সিন্ডিকেট। ফলে ইচ্ছামত তারা বার বার চালের বাজার নিয়ন্ত্রণসহ দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। মিল গেটের তুলনায় খুচরা বাজারে চালের দাম বৃদ্ধির লুকোচুরির প্রবণতা গত ২ মাস ধরে আরো বেশি। চালের এমন দাম বাড়ার পেছনে বিক্রেতা, খুচরা ব্যবসায়ী, কৃষক নেতা, মিল মালিক ও ফরিয়াদের হাত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানা গেছে, কুষ্টিয়ায় চাল মিল মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণেই চালের দাম বেড়েই চলেছে। গত দেড় মাসে দেশের বৃহত্তর কুষ্টিয়ার খাজা নগর এলাকায় চালের মোকামে মিনিকেট, কাজল লতা ও আটাশ চালের দাম কেজি প্রতি ৫-৮ টাকা বেড়েছে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের বেড়েছে ভোগান্তি। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা চালের বাজারেও। ধানের দাম বাড়ার অজুহাতে মিল মালিকেরা চালের দাম বাড়াচ্ছে ইচ্ছে মাফিক। মিল মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে গত ১ অক্টোবর মিল গেটে মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৪৫ টাকা, কাজল লতা ৪৩ টাকা, আটাশ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু গত ১৫ আগস্ট মিনিকেট চাল ৪০ টাকা, কাজল লতা ও আটাশ ৩৪ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। ১৫ আগস্টের পর প্রতি কেজিতে ৪-৬ টাকা দাম বৃদ্ধি হলেও গত সপ্তাহে আবারো চালের বাজারে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল কুমারখালীর কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে আলাপ হলে তারা জানায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু কিছু চালের দাম ৩-৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নতুন রোপা আমন ধান কাটা শুরু হওয়ায় মোটা চালের দাম রয়েছে স্থিতিশীল।
জেলার কুষ্টিয়া খাজানগরে সরকার নিবন্ধিত চাল মিল রয়েছে ৩৬৪টি। এরমধ্যে অটো রাইচ মিলের সংখ্যা প্রায় অর্ধশত। এখান থেকে প্রতিদিন দেড়শত ট্রাক চাল দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানি করা হয়। বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুক্তারুল ইসলাম জানান,  কৃষকদের ঘরে ধান নেই। তারা এখন চাল কিনে খাচ্ছে। কুমারখালী বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, মিল মালিকেরা অনেক আগেই কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে মজুদ করে রেখেছেন। ফলে তারা ইচ্ছে মাফিক চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সেক্রেটারি ও দাদা রাইচ মিলের পরিচালক জয়নাল আবেদীন এবং কুমারখালী আনছার এগ্রো ফুড এর মালিক নূরুল ইসলাম প্রামানিকের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা মিল মালিকদের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগগুলো পুরোপুরি সত্য নয় বলে এড়িয়ে যান। সিন্ডিকেটের বিষয়টি অস্বীকার করে তারা বলেন, মিল মালিকদের গুদামে ২-৩ মাসের চাল উৎপাদনের মত ধান মজুদ থাকে। তবে কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিংবা অন্য কোন কারণে চালের বাজার একটু হেরফের হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক জহির রায়হানের সাথে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, মিল মালিকরা যে কোন অজুহাত দিয়ে বাজারে চাউলের দাম সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করলে এবং তা সঠিক ভাবে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে কয়েকজন সাধারণ ক্রেতা জানিয়েছেন আমরা প্রতিদিন ২-৪ কেজি চাল কিনে থাকি। এই সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষেত্রে আমরা নিরুপায়। সরকার যদি এই চাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাহলেই চালের বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ