ঢাকা, রোববার 06 November 2016 ২২ কার্তিক ১৪২৩, ৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গার মনোহরপুরে দ্রুতগামী দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২॥ আহত ১৯

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর পালপাড়ায় দ্রুতগামী দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে অবৈধ করিমন চালক সাইদুল (৪৫) ও পূর্বাশা পরিবহনের হেলপার স্বপন (২৫) নিহত হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ১৯ জন। তাদেরকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ লিয়াকত হোসেন প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, গতকাল শনিবার আনুমানিক সকাল পৌনে ১০টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে ঢাকা থেকে জীবননগর হয়ে দর্শনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া পূর্বাশা পরিবহন (ঢাকা মেট্রো ব-১৫-০৬১২) ও চুয়াডাঙ্গা থেকে যশোরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা শাপলা পরিবহন (ঝিনাইদহ জ-০৪-০০১০) জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর পালপাড়ার কাছে পৌঁছুলে ওই দুটি দ্রুতগামী বাসের মাঝখানে একটি অবৈধ করিমন ঢুকে পড়লে বাস দু’টির চালকরা  নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে দামুড়হুদা উপজেলার হাউলীর করিমন (স্যালো মেশিন চালিত) চালক সাইদুল (৪৫) ঘটনাস্থলেই ও ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুরের ওবাইদুরের ছেলে পূর্বাশা পরিবহনের হেলপার স্বপন (২৫) জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিহত হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে স্বপন নামে একজন মারা গেছে। আর সেখানে আহতাবস্থায় ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের সহিদুল বিশ্বাসের ছেলে আনিসুর (৪০), ঝিনাইদহ জেলার কোটচাদপুর উপজেলার আব্দুস সাত্তারের ছেলে নাজমুল (২০), জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল কুদ্দুস (৫০), দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর গ্রামের বিশারত আলীর ছেলে স্বপন (৩৫), চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার আমিনুল ইসলামের স্ত্রী জোসনা বেগম (৫০), মেহেরপুর জেলার সদর উপজেলার বড় গাঙনী গ্রামের ঝন্টুর স্ত্রী শ্যামলী (২২) ও একই গ্রামের মাবুদের মেয়ে শাপলা (২৫), দামুড়হুদা উপজেলার কুড়–লগাছী গ্রামের সুলতানের ছেলে আব্দুস সাত্তার (৪০), জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের মরহুম রমজান আলীর স্ত্রী রেবেকা খাতুন (৩০), জীবননগর উপজেলা সদরের মরহুম ইসাহাকের ছেলে খোকন (৪০), জীবননগর উপজেলার হরিপুর গ্রামের ওসমান গনির ছেলে কাশেম (৬৭) ও একই উপজেলার খয়েরহুদা  গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে আসাদুল হক (৩২)। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সাবেক আন্দুলবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন (৪৮), একই গ্রামের মরহুম আব্দুল মজিদের ছেলে আনোয়ারুল কুদ্দুস (৫২) ও তার ছেলে সেলিম উদ্দিন (৩২), একই উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে আনিসুর রহমান (৩৭)।
দুর্ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর সড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যানবহন চলাচল বন্ধ ছিলো। দুর্ঘটনা কবলিত দুটি বাস ও করিমন সড়ক থেকে সরিয়ে নিয়ে এ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে বলে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ লিয়াকত হোসেন জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ