ঢাকা, রোববার 06 November 2016 ২২ কার্তিক ১৪২৩, ৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) সংবাদদাতা : নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা চত্বরের পতিত সমতল জমিগুলো পরিণত হয়েছে দুটি পাতা একটি কুঁড়ির ফসল চা বাগানে। পাহাড়ী এলাকার ফসল হলেও সমতল ভূমিতে দেখা দিয়েছে চা চাষের ব্যাপক সাফল্য। চারা লাগানোর দেড় বছরে উৎপাদন ও বিপণন শুরু হওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে তামাক চাষের পরিবর্তে এলাকার কৃষকদের মাঝে চা চাষে যেমন আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
বর্তমানে গোটা উপজেলা পরিষদ চত্¡র চা পাতার সবুজ চাদরে ছেয়ে গেছে। বাগান থেকে চা পাতা উত্তোলন শুরু হওয়ায় সনাতন পদ্ধতিতে চা প্রক্রিয়াজাত করে কাইজেন টি নামে কেজি প্রতি ৩শ’ টাকা দরে উপজেলা প্রশাসন বাজারজাত করছে। স্থানীয় বাজারে ধীরে ধীরে এর কদরও বাড়ছে। কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় ৪ একর পতিত জমি ছিল। পঞ্চগড় চা বোর্ডের কর্মকর্তারা মাটি পরীক্ষা করে এ এলাকার মাটি চা চাষের উপযোগী বলে মত দেয়। পুনর্বাসিত ভিক্ষুক ও দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিদ্দিকুর রহমান উপজেলা চত্বরের পতিত জমিগুলোতে চা চাষের উদ্যোগ নেয়। এসব জমিতে চারা রোপণ করে আশাতীত ফল পায়। ফলে তামাক চাষের পরিবর্তে উপজেলার ১৭ একর পতিত জমিতে চা চাষ হচ্ছে। এসব জমিতে প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত পুনর্বাসিত ভিক্ষুক ও দরিদ্র লোক কাজ করছে। ফলে কেটে গেছে ঐসব পরিবারে আর্থিক দৈন্য। কাইজেন টি গার্ডেনে কর্মরত ভেড়ভেড়ী গ্রামের পুনর্বাসিত ভিক্ষুক ফাতেমা জানান- চা বাগানে কাজ করে প্রতি ঘণ্টা ২০ টাকা দরে দিনে ১৬০ টাকা পাচ্ছি। এ অর্থ দিয়ে পরিবারের ছেলে-মেয়েকে নিয়ে সুখে দিন কাটাচ্ছি। কেশবা গ্রামের পুনর্বাসিত ভিক্ষুক শাহিনা জানান- কোন প্রশিক্ষণ ছাড়াই দেখে দেখে চা বাগানে কাজ করা শিখেছি। বর্তমানে পরিবারে কোন অভাব নেই। কাইজেন টি গার্ডেনের তদারককারী রমজান আলী কাল্টু জানান, কোন প্রশিক্ষণ ছাড়াই প্রথমে ১ বিঘা জমিতে চা চাষ শুরু করা হয়। এরপর বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউটের পঞ্চগড়ে কর্মরত সিনিয়র ফার্ম এসিস্টেন্ট জায়েদ ইমাম সিদ্দিকী স্যারের পরামর্শে অবশিষ্ট জমিতে চা চাষ করা হয়। ১ বছর ৬ মাসে পাতা উত্তোলন শুরু হয়েছে। প্রথমে বাগান থেকে চা পাতা উত্তোলন করে বাজাই করা হয়। এসব পাতা পরিষ্কার করে ঢেঁকিতে ছাঁটাই করে তা ভাজা হয়। পরে গুঁড়ো করে প্যাকেটজাতের পর কাইজেন টি নামে ৩শ’ টাকা কেজি দরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট পঞ্চগড়ে কর্মরত সিনিয়র ফার্ম এসিস্টেন্ট মোঃ জায়েদ ইমাম সিদ্দিকী মুঠোফোনে জানান, এ এলাকার মাটি চা চাষের জন্য খুবেই উপযোগী। পাহাড়ী অঞ্চলে চা চারা রোপণের ৩ বছর পর পাতা উত্তোলনের কথা থাকলে এ এলাকায় ১ বছর ৬ মাসে পাতা উত্তোলন করা যায়। বছরে একর প্রতি ২ লক্ষ ৭০ হাজার থেকে ২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকার পাতা উত্তোলন সম্ভব। খরচ বাদে বছরে মুনাফা হবে ১ লক্ষ ৮০ হাজার থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। বাংলাদেশ চা বোর্ডের নর্দান বাংলাদেশ প্রজেক্টের কিশোরগঞ্জে কর্মরত প্রকল্প প্রকৌশলী আবু হেনা মোঃ ময়নুল ইসলাম জানান, চলতি বছরে এ এলাকার ৬ জন তামাক চাষী চা চাষের জন্য নিবন্ধন করেছে। তামাক চাষের বিকল্প হিসেবে চা চাষে কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে বাংলাদেশ চা বোর্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, নড়াইল মোঃ সিদ্দিকুর রহমানের সাথে মুঠোফেনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পুনর্বাসিত ভিক্ষুক ও হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উপজেলা পরিষদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে চা চাষ শুরু করা হয়েছে। এ চায়ের নাম কাইজেন রাখার ব্যাপারে তিনি বলেন, কাইজেন জাপানী শব্দ। কাই শব্দের অর্থ ক্ষুদ্র আকারে পরিবর্তন আর জেন শব্দের অর্থ ভালো। এক কথায় কাইজেন শব্দের অর্থ ক্ষুদ্র আকারে ভালোর জন্য পরিবর্তন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ