ঢাকা, রোববার 06 November 2016 ২২ কার্তিক ১৪২৩, ৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অমর কথাশিল্পী অধ্যাপক শাহেদ আলী ছিলেন জাতীয় সাংস্কৃতিক জাগরণের অগ্রদূত

ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে খ্যাতনামা অমর কথাশিল্পী অধ্যাপক শাহেদ আলীর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তাগণ বলেছেন, শুধু গল্পকার হিসেবেই নয়, সাহিত্যের অন্যান্য শাখায়ও অধ্যাপক শাহেদ আলীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। এ দেশের জাতীয় সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তিনি অন্যম পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন। বক্তারা বলেন, যদিও এ দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন অধ্যাপক আবুল কাসেম, তমদ্দুন মজলিসের মেনিফেস্টো-রূপী গ্রন্থকমাত্র পথ এর রচয়িতা ছিলেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ও অধ্যাপক শাহেদ আলী। সে নিরিখে কথাশিল্পী অধ্যাপক শাহেদ আলীকে বলা যেতে পারে তমদ্দুন মজলিসের সেকেন্ড ফাউন্ডার ফাদার তথা দ্বিতীয় পিতৃপুরুষ। তমদ্দুন মজলিসের মুখপাত্র হিসেবে ১৯৪৮ সালের ১৪ নবেম্বর যে সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়, তার প্রধান সম্পাদক ছিলেন তিনি। একজন মননশীল গদ্যলেখক হিসেবেও তাঁর ছিল অসাধারণ ভূমিকা। জীবন-রসিক, মাটির কাছাকাছি গল্প পাঠকের হৃদয় ছুয়ে যায়, এছাড়াও মক্কার পথ, ইতিবৃত্ত, ইসলামে রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বরূপ প্রভৃতি গ্রন্থানুবাদ করে তিনি বাংলা অনুবাদ সাহিত্যকেও বিপুলভাবে সমৃদ্ধ করেন।
বক্তাগণ আরো বলেন, ব্যক্তি হিসেবে তিনি ছিলেন অসাধারণ অমায়িক। যারাই তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে যেতেন, তারা তার ব্যবহারে মুগ্ধ না হয়ে পারেননি। তার অমায়িক ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি অসংখ্য সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী তৈরি করে গেছেন। এছাড়া সাধারণ মানুষের সাথেও তাঁর ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে তিনি তদানীন্তন শাসকদল মুসলিম লীগ ও যুক্তফ্রন্টের বিরুদ্ধে ত্রিমুখী যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেন। এ ছাড়াও বক্তারা বলেন, এসব আন্দোলনে অমর করে রাখার জন্য দেশের ও বিদেশের বিত্তবানদের উচিত তারা যেন নোবেল প্রাইজের ন্যায় একটি প্রাইজের প্রচলন করে, তাদের সাহিত্যকর্মকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস চালান।
গতকাল বাদ আসর তমদ্দুন মজলিসের মালিবাগ মোড়স্থ মহানগর কার্যালয়ের ড. মুহাম্মদ সিদ্দিকের সভাপতিত্বে মোহাম্মদ সুজন মাহমুদের সঞ্চালনায় এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মরহুম শাহেদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী, প্রবীণ সাংবাদিক ও ভাষা সৈনিক অধ্যাপক আবদুল গফুর। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা, ছোটগল্প, কবিতা আবৃত্তি ও সঙ্গীতে অংশগ্রহণ করেন মোহাম্মদ শাহাবুদ্দীন খান, অধ্যাপক হাসান কাইয়ুম, ক্যাপ্টেন রেজাউল করিম, মোহাম্মদ আদেলউদ্দিন আল মাহমুদ, ইঞ্জিনিয়ার শওকত আজিজ, মো. জামসেদ হোসেন রিয়াদ, মো. টিপু সুলতান, কাজী আশিকুর রহমান তামিম প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ