ঢাকা, রোববার 06 November 2016 ২২ কার্তিক ১৪২৩, ৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হলেই সাম্প্রদায়িক হামলা ঘটিয়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নেয়া হয় -নজরুল ইসলাম খান

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ছাত্রদল ফাউন্ডশন কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ৭ই নবেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, যখনই আন্দোলনের কোনো প্রেক্ষাপট তৈরি হয় তখনই নাসিরনগরের মতো সাম্প্রদায়িক হামলা ঘটিয়ে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়। তিনি ৭ নভেম্বর সৈনিক হত্যার জন্যও আওয়ামী লীগের আশপাশের লোকজন জড়িত বলে দাবি করেন।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ছাত্রদল ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত ‘৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ শীর্ষক এক অলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারাই নাসির নগরে যাচ্ছেন তারাই বলছেন, এই ঘটনার সঙ্গে সরকারি দল জড়িত। ঘটনার জন্য বহিষ্কার করা হলো আওয়ামী লীগ নেতাদের, আর এখন তারা ঘটনার জন্য দায়ী করছেন বিএনপিকে। ওই হামলায় যাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাদের সবাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। আবার প্রশাসনের অবহেলার কথা বলা হচ্ছে। এই প্রশাসন কি বিএনপির নাকি সরকারের? এ ধরনের রসিকতা দিয়ে রাজনীতি চলে না। যখনই জনগণের রাজনীতি গড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়, তখনই নাসিরনগরের মতো ঘটনা ঘটিয়ে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার  চেষ্টা করা হয়  বলেও দাবি করেন তিনি।
৭ নভেম্বরের চেতনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, পঁচাত্তরে বাকশালের মাধ্যমে আমরা যা হারিয়েছিলাম তা পুন:প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এই দিনটির আদর্শ। সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে  দেয়ার আদর্শ ছিল এই দিনটির। কিন্তু হানিফ সাহেবরা এই দিনের আদর্শ বোঝেন না। ওই দিন যারা সৈনিক হত্যা করেছে, তারাই আজ আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট। সেদিন দেশে কোনো সরকার ছিল না, কোনো প্রতিষ্ঠান কার্যকর ছিল না, সর্বত্র ছিল বিশৃঙ্খলা। ওই অবস্থায় মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জনগণ সাড়া দিয়েছিল। ৭ নভেম্বরের আদর্শ ছিলো হারানো গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এই রাজনীতির ফলে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বাংলাদেশ একটি উন্নয়ন, উৎপাদনমুখী রাজনীতি ও সারাবিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হয়েছিল জিয়ার নেতৃত্বে।
দিনটি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, তারা এই দিনকে সৈনিক হত্যা দিবস বলে আখ্যায়িত করেন। আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, কিসের সংহতি, কিসের বিপ্লব? শিক্ষিত মানুষ যদি এ ধরনের বক্তব্য দেন তাহলে কিছুই বলার থাকে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, এর আগে রামুর ঘটনাতেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিল। তখনও বিএনপিকে অভিযুক্ত করা হয়েছিলো।
এ সময় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত শাস্তি ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, বিএনপি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী দল। এ কারণে আমরা নাসিরনগরের ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে আগেই বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছি। আবারও আমরা এই ঘটনায় দায়ী সবাইকে বিচারের আওতায় আনার দাবি করছি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রহমান সারোয়ার বলেন, স্বাধীনতার চেতনা ও সংবিধানকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে। তাই তারা ৭ নভেম্বরের কথা শুনলেই ভয় পায়।
ছাত্রদল ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আলী আকবর চুন্নুর সভাপতিতত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপি নেতা শরীফ মো. শাহ আলম, ওবায়দুল হোসেন টিপু, শাহজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ