ঢাকা, রোববার 06 November 2016 ২২ কার্তিক ১৪২৩, ৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ছাত্রলীগ ক্যাডার সুমনসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদে সরকারি সিজিএস কলোনীতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং কলোনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসী সুমন সহ ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সাংবাদিক সম্মলন করেছে সরকারি বরাদ্দপ্রাপ্ত বাসিন্দারা। শনিবার বিকাল চারটায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা। অন্যতায় এলাকাবাসী কঠোর আন্দোলনের ডাক দিবে বলে হুঁশিয়ারি প্রদান করেন এলাকাবাসী। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিজিএস কলোনীর অ্যালোটেড বাসিন্দা তাহমিনা বেগম। সরকারি সিজিএস কলোনীকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চসিক মেয়র, সিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
লিখিত বক্তব্যে তাহমিনা বেগম বলেন,‘সিজিএস কলোনীতে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করে। এখানে অবৈধভাবে জায়গা দখল করে কোনো কিছু করা নিষেধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত ৭/৮ বছর পূর্বে অবৈধভাবে সার্ভেন্ট কোয়ার্টার ও বাসা দখল করে সুমন। শুধু বাসা দখল নয় তারা আশেপাশে জায়গা দখল করে গড়ে তুলে অস্থায়ী কলোনী। যা থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করে। এভাবে চলতে থাকে তার দখলদারিত্ব , শুধু দখলদারিত্ব নয় এলাকার পরত্যিক্ত দালান দখল করে মাদক ব্যবসা ও  সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চুরি, ছিনতাই , চাঁদাবাজিসহ সকল অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে সুমন ও তার বাহিনী। কলোনীর বৈধ বাসিন্দারা সুমনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গেলে সুমন তাদের উপর হামলা চালাত, মারধর করে বের করে দিত, তার অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। বাসার সামনে এক জোড়া জুতা পর্যন্ত রাখতে পারতো না  সুমনের চোরা বাহিনীর জন্য। সুমন ও তার বাহিনীর অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে কলোনীর সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় গত ২ বছর পূর্বে   সুমনকে কলোনী থেকে বের করে দেয়। এরপরে কলোনীতে শান্তিতে ফিরে আসে এবং অপরাধ কর্মকা- কমে যায়। কিন্তু গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর স্থানীয় কাউন্সিলারের সহযোগিতায় সে পুনরায় সিজিএস কলোনীতে ঢুকার চেষ্টা করে। বারবার ব্যর্থ হলেও  গত ১২ আগস্ট সন্ধ্যায় সিজিএস সাধারণ ছেলেদের উপর হামলা চালায়। এতে তাজুল ও নাজিমউদ্দিন রাজুকে প্রহার করে। পরে এলাকাবাসী তাজুল ও নাজিমউদ্দিন রাজুকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ নিয়ে যায় এবং এই ঘটনার মাধ্যমে   সুমন গং পুনরায় সি.জে.এস কলোনীতে ঢুকে পড়ে। যারা গত দুই বছর আগে ঐক্যবদ্ধভাবে কলোনীর শান্তি রক্ষার্থে দাতলা সুমনকে কলোনী থেকে বের করে দিয়োছিল তাদেরকে সে টার্গেট করে হামলা করে এবং কলোনীর বৈধ বাসিন্দা রবিন, রিয়েল , শুভ, খোরশেদ, জয়নাল, সবুজ , বাবু , নাজমুল, মিঠু, সায়মুন, প্লাবন,তাজুল, ফরহাদ,রাহাদ, রাফি, নোমান,সাকিব, নয়ন,রফিক,শহিদ,রাফি সহ অনেককে কলোনী থেকে বের করে দেয়। দাতলা সুমনের ভয়ে তারা এখনো কলোনীর বাইরে। দাতলা সুমন কলোনীতে ঢুকে আবার ত্রাসের রাজত্ব শুরু করে। আবার অশান্তি শুরু হয় কলোনীতে। গত  ১ নভেম্বরও সে এলাকাবাসীকে নির্বিচারে গুলী করে । অস্ত্র হাতে তার ছবি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছাপানো হয়েছে।লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা কলোনীর বৈধ বাসিন্দা হয়েও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতে পারছি না। আমাদের সন্তানরা   সুমনের হুমকির কারণে কলোনীতে থাকতে পাচ্ছে না। সরকারি চাকরি করা কি আমাদের দোষ? আমরা সুখে শান্তিতে নিজেদের বরাদ্দকৃত বাসায় বসবাস করতে চাই। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তাহমিনা বেগম। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রোকেয়া বেগম, শেফালী দাশ, মরিয়ম আক্তার মুক্তা, জাহানারা বেগম, সালমা আক্তার, আয়েশা বেগম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ