ঢাকা, বুধবার 13 November 2019, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও হত্যামামলার ৪ আসামি আটক

অনলাইন ডেস্ক: জাপানি নাগরিক হোসি কুনিওসহ বিভিন্ন হত্যামামলার ৪আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা জেএমবির সদস্য বলে দাবী করেছে পুলিশ।

শনিবার রাত আড়াইটার দিকে রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের সাহাবাজপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা থেকে অস্ত্রসহ এই চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

আটককৃতরা গতবছর রংপুরের কাউনিয়ায় জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও, মাজারের খাদেম রহতম আলী হত্যাসহ বিভিন্ন হত্যামামলার আসামি।

অভিযানের সময় জেএমবি সদস্যদের ছোড়া বোমার বিষ্ফোরণে চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশ জানায়, রংপুরে নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনায় গোপন বৈঠক করার সময় তাদের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে জামাআতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবির) চার সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জেএমবি সদস্যরা ককটেল নিক্ষেপ করলে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে এসময় প্রায় ৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

আটককৃতরা হলেন- পীরগাছা উপজেলার দুর্গাচরণ গ্রামের মৃত জয়নুদ্দিনের ছেলে বেলাল হোসেন (৪৬), একই উপজেলার পশুয়া টাঙ্গাইল পাড়া গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে এরশাদ আলম(২৮) ও মনতাজুর রহমানের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৩) এবং পশুয়া খাঁপাড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে আল-আমিন (২০)।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন-জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক(এসআই) মাসুদ করিম, কনস্টেবল আসাদ, কোতয়ালী থানার কনস্টেবল কুতুবসহ চারজন। 

ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় পিস্তলসহ দুইটি চাপাতি, একটি চাইনীজ কুড়াল ও তিনটি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে রংপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম জাহিদুল ইসলাম বলেন, চারজন জেএমবির সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছড়া এদের কাছ থেকে পিস্তল ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতবছর রংপুরের কাউনিয়ায় জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও, মাজারের খাদেম রহতম আলী হত্যাসহ বাহাই নেতা রুহুল আমিনকে গুলি করে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ও জঙ্গি ইছাহাক আলীর বাড়িও পীরগাছার পশুয়া টাঙ্গাইল পাড়া গ্রামে। তারা দুজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ওই ঘটনায় তারা কিলিং মিশনে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে।

পুলিশ জানায়, টাঙ্গাইল পশুয়া পাড়া গ্রামটি জেএমবির আস্তানা। শনিবার মধ্যরাতে গ্রেফতার হওয়া চার জঙ্গি তাদের সহযোগী। তারা নগরীতে বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টির জন্যই সেখানে গোপন বৈঠক করছিলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ