ঢাকা, সোমবার 07 November 2016 ২৩ কার্তিক ১৪২৩, ৬ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের জন্য দুঃসংবাদ

বাংলাদেশে টিভি চ্যানেলের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তবে সংখ্যাধিক্যের কারণে এ কথা বলা যাবে না যে, বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো মানে কিংবা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে, সমস্যা চিহ্নিত করার চেষ্টাও হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিষয় দেশের চ্যানেলগুলোর মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তা হলো বিদেশী টিভি চ্যানেলে দেশী পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার। এ নিয়ে কথা বলেছে মিডিয়া ইউনিটি। নবেম্বর মাসের পর বিদেশী কোন চ্যানেলে দেশী পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করলে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর স্বার্থ রক্ষায় গঠিত নতুন সংগঠন মিডিয়া ইউনিটি। দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোয় বিদেশী ডাবিং করা সিরিয়াল প্রচার বন্ধেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গত ৫ নবেম্বর রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে সমবেত হয়েছিলেন দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মালিক, কর্মকর্তা ও কলাকুশলীরা। সেখানে বক্তব্য প্রদানকালে তারা বলেন, বিদেশী চ্যানেলগুলোতে বাংলাদেশী পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদানের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষতির মুখে পড়ছেন দেশীয় চ্যানেল, শিল্পী, কর্মচারী ও কলাকুশলীরা। এ কারণে শুধু বিজ্ঞাপন ও বিদেশী সিরিয়াল বন্ধ নয়, সব ধরনের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মিডিয়া ইউনিটির কর্মকর্তারা।
বিদেশী চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন হয় এ কথা আমরা জানি। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক আগ্রাসনের কবলেও পড়ে গেছে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। বেশকিছু দিন ধরেই বাংলাদেশের বেশকিছু পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে ভারতের বিভিন্ন চ্যানেলে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বাংলাদেশে যে হারে টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা বাড়ছে সে হারে কিন্তু শিল্পের সংখ্যা বাড়ছে না। ফলে গুটিকয় শিল্পমালিকের পণ্যের বিজ্ঞাপনই পেয়ে থাকে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। আগে একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন হয়তো দিতো ৮/১০টি টিভি চ্যানেলে। এখন ওই পণ্যের বিজ্ঞাপন যদি ৩০/৪০টি চ্যানেলে দিতে হয় তাহলে তো বাজেট বাড়াতে হবে কয়েকগুণ। কিন্তু তাতো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিজ্ঞাপনের রেট কমানো হয়েছে। এ কারণে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিজ্ঞাপনের বাড়াবাড়ি। অধিকসংখ্যক বিজ্ঞাপন দর্শকদেরও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশী টিভি চ্যানেলগুলো যখন অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে তখন লক্ষ্য করা গেল আরেক আপদ। দেশী বহু পণ্যের বিজ্ঞাপন চলে গেলো ভারতের টিভি চ্যানেলগুলোতে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোর অর্থনৈতিক ভিত্তি আরো দুর্বল করে দিয়েছে। আরো লক্ষণীয় বিষয় হলো, বাংলাদেশী পণ্যের বিজ্ঞাপনে মডেল হচ্ছেন বাংলাদেশী অভিনেতা-অভিনেত্রী ও শিল্পীরা। কিন্তু তাদের মুখে বাংলার বদলে উঠে এসেছে হিন্দি ভাষা। এর প্রভাব যে কত মারাত্মক তা হয়তো আমরা এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। ভারতের জনপ্রিয় হিন্দি টিভি-চ্যানেলগুলোতে বাংলাদেশী পণ্যের মডেল হিসেবে দেশের নায়ক-নায়িকা ও শিল্পীদের চেহারা দেখেতো বাংলাদেশের শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীরা বেশ খুশি। হয়তো অসচেতনভাবেই প্রিয় শিল্পীদের সাথে আউড়ে যাচ্ছে বিজ্ঞাপনের হিন্দি ভাষা।
এভাবে প্রাত্যহিক জীবনে ক্রমেই মাতৃভাষা বাংলার জায়গায় স্থান করে নিচ্ছে হিন্দি ভাষা। এটা যে কত বড় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন তা উপলব্ধির সময় কি এখনো হয়নি? আর এই কাজটি হতে পারছে আমাদের কিছু শিল্পমালিকের অদূরদর্শিতার কারণে। তাই আমরা মিডিয়া ইউনিটির দাবির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করছি। সরকারের কর্তাব্যক্তিদের প্রতিও আহ্বান জানাবো তারা যেন দেশের টিভি-চ্যানেলগুলোর স্বার্থে এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ