ঢাকা, সোমবার 07 November 2016 ২৩ কার্তিক ১৪২৩, ৬ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শিশু নির্যাতন বন্ধে আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে

* ৪ বছরে ১০৮৫ শিশু নির্যাতনের শিকার
স্টাফ রিপোর্টার : প্রত্যেক পরিবারে কন্যাশিশু আছে। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শিশুনীতি প্রণয়ন করেছেন। তারপরও  দেশে শিশু ধর্ষণ-নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না। শিশু নির্যাতন বন্ধে আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে প্রমাণ করতে হবে তিনি শিশুবান্ধব।
গতকাল রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ১০টি সংগঠন এবং নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত ‘চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে সহিংসতা বন্ধ করে শিশু সুরক্ষার দাবিতে এ মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, একটা জাতি কত দুর্বল, তা বোঝা যায় সেই সমাজের অবস্থা দেখে। সমাজে নারী-শিশু এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা দুর্বল। নারীরা বিভিন্নভাবে ধর্ষণ-নিপীড়ন ও নিগ্রহের শিকার হচ্ছেই। এ দেশের শিশুরাও তা থেকে মুক্ত নয়। কন্যাশিশুদের ওপর নিপীড়ন-ধর্ষণের ঘটনার দ্রুত অবসান চাই। তিনি আরও বলেন, সমাজের আরেকটা দুর্বল অংশ হলো অন্য ধর্মাবলম্বী। তাদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চলছে। তার অন্যতম দৃষ্টান্ত হলো সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নাসিরনগরের ঘটনা। এ ধরনের ঘটনা পাবনায় ঘটেছে, রামুতে ঘটেছে, বরিশালের বানারীপাড়ায় ঘটেছে। এসবের অবসানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, গত অক্টোবর মাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ওসিসিতে ভর্তি হয়েছে ২৫টি শিশু। জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে দেশের আটটি ওসিসিতে ভর্তি হয়েছে ২৯৪ জন নারী ও শিশু। ২০১৬ সালে নয় মাস জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে ৩২৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ২০১২-১৫ পর্যন্ত চার বছরে ১ হাজার ৮৫টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ৯৭৬টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের মৌসুমি শারমিন বলেন, আমরা প্রত্যেকের জন্য একটা মর্যাদাপূর্ণ সমাজ চাই। নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। শিশুরা এখন ঘরেও নিরাপদ নয়। পোশাকের জন্য নারী নির্যাতনে শিকার হয় বলা হয়, যা চরমভাবে নিন্দনীয়। শিশুরা যখন ধর্ষণের শিকার হয়, তখন বুঝতে হবে সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির সমস্যা।
মানববন্ধনে সেভ দ্য চিলড্রেনের মামুনুর রশীদ, ন্যাশনাল চাইল্ড টাস্কফোর্সের আহসান হাবীব, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সৈয়দা হোসনে কাদেরি, ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অব ডিজঅ্যাবলড পিপলস অর্গানাইজেশন ন্যাডপো নির্বাহী পরিচালক ইসহাক মিয়া, মানবাধিকার ও আইনগত সহায়তাকারী সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট ব্লাস্টে পুনম চক্রবর্তী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ