ঢাকা, সোমবার 07 November 2016 ২৩ কার্তিক ১৪২৩, ৬ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আদালতপাড়া থেকে হাতকড়াসহ ডাকাতি মামলার আসামী মনিরের পলায়ন

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া থেকে ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামী মনির হোসেন (৪০) পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছে। ঘটনার সংবাদে আদালতপাড়ায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিদর্শন করে আসামী পালিয়ে যাওয়ার বিষয় খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্বের অবহেলার অভিযোগ থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন। এছাড়া পালিয়ে যাওয়া আসামীকে ধরতে জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনে পুলিশকে চেক করার নির্দেশ দেন ঐ কর্মকর্তা। রোববার দুপুরে একটি ডাকাতি মামলার রিমান্ড শুনানি শেষে তাকে কোর্টের গারদখানায় নেওয়ার পথে কৌশলে সে পালিয়ে যায়। এছাড়া পুলিশের হেফাজত হতে হাতকড়া নিয়ে আসামী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া মনির হোসেন কুষ্টিয়া জেলার আদর্শনগর গ্রামের সামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। মনিরের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে।
আদালতের পুলিশের একটি সূত্র জানান, আসামী মনির হোসেনের নিরাপত্তায় ছিলেন বোরহানউদ্দিন ও আজম আলী নামে দুইজন কনস্টেবল। তাদের গাফলতির কারণে আসামী পালিয়ে যায়।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক সোহেল আলম বলেন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রোববার দুপুর ১২টায় ফতুল্লার একটি ডাকাতি মামলায় মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত শুনানি শেষে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে পুলিশের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন। এরপর দুইজন কনস্টেবল বোরহান উদ্দিন ও কনস্টেবল আজম আলী সেই আসামী নিয়ে কোর্ট হাজতে যাওয়ার পথে হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় কৌশলে পালিয়ে যায়। আসামী পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অনেকেই বোরহানউদ্দিনকে দোষারোপ করেছেন। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আদালত হতে আসামী পলায়নের ঘটনায় দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর দায়িত্ব অবহেলার কারণে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পালিয়ে যাওয়া আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আর দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনো কাউকে বরখাস্ত করা হয়নি। তবে তদন্ত কমিটি তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে অভিযোগ ওঠেছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানা হতে গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের আদালতে নিয়ে আসা হলে কোর্ট-পুলিশ অর্থের লোভে আসামীদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দিয়ে থাকে। এমনকি অতিরিক্ত টাকা পেলে পুলিশ আদালতের গারদঘরে আসামীদের পরিবারের সাথে দেখা করানোর সুযোগ দেয়া হয়। এছাড়া আসামীদের আদালতে আনা নেয়ার সময় প্রায় সময় দেখা যায় পুলিশ সামনে না থেকে আসামীর পরিবারের সাথে কথা বলছে। এতে করে আসামীর পক্ষ হতে গুনতে হয় অনেক অর্থ। আর আসামীদের এমন সুবিধা দিতে গিয়ে পুলিশকে বোকা বানিয়ে আসামী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ