ঢাকা, সোমবার 07 November 2016 ২৩ কার্তিক ১৪২৩, ৬ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রংপুরে জেএমবি-পুলিশ বন্দুকযুদ্ধ গ্রেফতার ৪ ॥ আহত ৪

রংপুর অফিস : রংপুর মহানগরীর চন্দনপাট শাহবাজপুর চাপড়ার দোলা এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটায় গত গত শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে জেএমবি সদস্যরা নাশকতার পরিকল্পনা করছে এ রকম খবরের ভিত্তিতে পুলিশের অভিযানকালে বন্দুকযুদ্ধে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এসময় ৪ জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বেলাল হোসেন জাপানী নাগরিক হোসিও কোনি হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী সাদ্দাম হোসেনের দীক্ষাগুরু বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। অভিযানের সময় উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র। গ্রেফতারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান গতকাল রোববার দুপুরে তার সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, জাপানী নাগরিক হোসিও কোনি হত্যার পর এই অঞ্চলের জেএমবি সদস্যরা গা ঢাকা দেয়। আমাদের কাছে কিছুদিন থেকে খবর ছিল জেএমবি সদস্যরা এই এলাকায় নাশকতার জন্য আবারও সক্রিয় হচ্ছে। এরই মধ্যে শনিবার রাতে জেএমবি সদস্যরা নগরীর শাহবাজপুর এসএমবি ইটের ভাটায় বড়ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। খবর পেয়ে রাত দুই টার দিকে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় পুলিশকে লক্ষ করে জেএমবি সদস্যরা গুলী ও ককটেল ছুড়তে থাকে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে ৫ রাউন্ড গুলী ছোড়ে। এ সময় এসআই মাসুদ রানা, মামুনুর রশিদ, কনস্টেবল আসাদ ও আব্দুল খালেক আহত হন। এক পর্যায়ে জেএমবি সদস্যদের পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তারা হলো বেলাল হোসেন (৪৬), এরশাদ আলম (২৭), আশরাফুল আলম (২৩) ও আল আমিন (২০)। এদের মধ্যে বেলাল এর বাড়ি রংপুরের পীরগাছার দুর্গাপুর আর বাকি তিন জনের বাড়ী পীরগাছার পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়া গ্রামে। আহত পুলিশ সদস্যদের রাতেই রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় বলে জানান এসপি।
এসপি প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানান, গ্রেফতারকৃত বেলাল হোসেন হোসিও কোনি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী সাদ্দামের দীক্ষাগুরু। তার কাছেই সে জেএমবির শিক্ষা নেয়। সে ১৯৯১ সাল থেকে ’৯৪ সাল পর্যন্ত শিবির করতো। ’৯৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জামায়াত করতো। ২০১৪ সালে সে জেএমবিতে যোগ দেয়। অপর গ্রেফতারকৃত এরশাদ আলমও আগে শিবির করতো। পরে ২০১৪ সালে জেএমবিতে যোগ দেয়। বাকিরা শুরু থেকেই জেএমবির সক্রিয় সদস্য।
এসপি জানান, গ্রেফতারকৃতরা হোসিও কোনি মামলার আসামী নয়, তবে তারা এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিল কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। এজন্য তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে কোর্টে চালান দেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাস ও নাশকতা, অস্ত্র এবং বিষ্ফোরক আইনে তিনটি মামলা করেছে।
এসপি জানান, এসময় একটি দেশি পিস্তল, স্টিলের চাপাতি চারটি, চাইনিজ কুড়াল ১টা, রাম দা একটি, ছোট কুড়াল  একটি, লোহার পাইপ চারটি ককটেল, জিহাদী বই এগারটি, পাটের বস্তা চারটি, মোবাইল সেট চারটি উদ্ধার করা হয়।
প্রসঙ্গত: গতবছর ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০ টায় রংপুর মহানগরীর উপকণ্ঠ কাউনিয়া উপজেলার কাচু আলুটারী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলীতে খুন হন হোসিও কোনি। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানার ওসি বাদী হয়ে ৩ অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে মামলা করে। গত ৭ আগষ্ট রংপুর জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আরিফুর রহমানের আদালতে জাপানী নাগরিক হোসি কোনিও হত্যাকা-ের ১০ মাস ৭ দিন পর ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন। এরা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জমিয়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) কিলিং মিশনের লিডার ও সদস্য। এদের মধ্যে মাসুদ রানা (২১), এসহাক আলী (২৩), লিটন মিয়া (২৩), আবু সাঈদ (৩৫) গ্রেফতার হয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী। তাদের বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলায়। অপর অভিযুক্ত কুড়িগ্রামের সাদ্দাম হোসেন (২১), গাইবান্ধার নজরুল ইসলাম (২৮) এবং পঞ্চগড়ের সাখাওয়াত হোসেন (৩৩), রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসানুল্লাহ আনছারী (২৮) পলাতক আছে। এখন মামলাটি রংপুর স্পেশাল জজ আদালতে বিচারাধীন আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ