ঢাকা, সোমবার 07 November 2016 ২৩ কার্তিক ১৪২৩, ৬ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সরাইলে ৩০ বছর ধরে অবৈধভাবে কলেজে অধ্যাপনা !

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সদ্য জাতীয়করণকৃত সরাইল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মানবর্দ্ধন পাল অবৈধভাবে ৩০ বছর ধরে অধ্যাপনা করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে এলাকার বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিন ধরে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও রহস্যজনক কারণে দীর্ঘদিন ধরে বহাল তবিয়তে রয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
সরাইল ডিগ্রি কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে সরাইল ডিগ্রি কলেজের  প্রভাষক পদে বাংলা বিষয়ে  মানবর্দ্ধন পাল যোগদান করেন। ১৯৮৬ সালের অক্টোবর মাসে  তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে অন্যত্র  চলে যান। কলেজের তৎকালীন সভাপতি ও  নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভায় পদত্যাগ পত্রটি সর্ব সম্মতিক্রমে রেজুলেশনের মাধ্যমে  গৃহীত ও অনুমোদিত হয়। সভায় এটাও সিদ্ধান্ত হয়, কলেজে উক্ত বিষয়ের প্রভাষক নিয়োগ  না হওয়া পর্যন্ত অধ্যক্ষ ওই  বিষয়ের ক্লাস চালিয়ে যাবেন।
 কিন্তু আশ্চর্যের  বিষয় হলো, পদত্যাগপত্র গৃহীত ও অনুমোদিত হওয়ার  পরও সরকারী বিধি লংঘন করে তিনি কিছুদিন পর  পুনরায় কলেজে ফিরে এসে ব্যবস্থাপনা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অডিট আপত্তিতে অবৈধভাবে বেতন উত্তোলনের কারনে উত্তোলিত সরকারি বেতন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও অদ্যাবধি বেতন ফেরত না দিয়ে অবৈধভাবে ৩০ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন তিনি। জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কোন শিক্ষক ও কর্মচারী চাকরি  থেকে পদত্যাগ  বা অব্যাহতি গ্রহণ করলে পরবর্তীতে  জাতীয় দৈনিক ও আঞ্চলিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে  যথাযথ উপায়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। কিন্তু  সরকারি বিধিমালাকে তোয়াক্কা না করে তিনি অবৈধভাবে চাকরিতে বহাল তবিয়তে থাকায় জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে মানবর্দ্ধন পালের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এ ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ