ঢাকা, মঙ্গলবার 08 November 2016 ২৪ কার্তিক ১৪২৩, ৭ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পরবর্তী ৪ বছরের জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন?

৭ নবেম্বর, রয়টার্স/বিবিসি/সিএনএন : আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে পুরো বিশ্বজুড়ে আগ্রহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। সবাই তাকিয়ে- কে হতে যাচ্ছেন, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ভবন হোয়াইট হাউসের পরবর্তী ৪ বছরের ৪৫তম অধিকর্তা!
যুক্তরাষ্ট্রের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী রয়েছেন দুজন। ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে লড়ছেন হিলারি ক্লিনটন এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নির্বাচনের আগে তিন পর্বের বিতর্ক থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি ধাপ পেরোতে হয়েছে এই দুই প্রার্থীকে। এ সময় উঠে এসেছে নানা বিতর্ক। হয়েছে নানা জরিপ। জরিপের ফলাফলে কখনো এগিয়ে ছিলেন হিলারি, আবার কখনো বা ট্রাম্প। তাই বলা যাচ্ছে না, কে হচ্ছেন পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এক নজরে জেনে নেয়া যাক কোথায়, কবে এবং কখন হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।
৮ নবেম্বর (বাংলাদেশ সময় ৯ নবেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের প্রায় ১২ কোটি মানুষ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন তাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্টকে। ভোটগ্রহণ শুরু হবে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে। শেষ হবে রাত ৮টার মধ্যে। তবে আইওয়া এবং নর্থ ডাকোটাতে ভোটগ্রহণ চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।
নিউইয়র্কে ভোট দেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হিলারি ক্লিনটন। প্রথম ফলাফল ঘোষণা হতে পারে নিউ হ্যাম্পশায়ারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়াটি খানিকটা বাংলাদেশ সংসদ সদস্যদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের মতো। ভোটাররা ব্যালটে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে দু’জনকে ভোট দেন। একইসঙ্গে ভোট দেন ইলেক্টোরাল প্রতিনিধিকে। প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের ভোট গণনার পর যার ঝুলিতে ভোট বেশি তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
তবে এখানেই শেষ নয়। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটাররা যে ইলেক্টোরাল প্রতিনিধিকে ভোট দেন তাদেরও ভূমিকা থাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। কোনো রাজ্যে বেশি জনগণ, কোনো রাজ্যে কম। তবে প্রতিটি রাজ্যেই থাকেন দু’জন করে সিনেটর। এই দুই সংখ্যার সঙ্গে রাজ্যের জেলাগুলোর সংখ্যা হিসাব করে নির্ধারিত হয় ইলেক্টোরাল প্রতিনিধি বা ইলেক্টর। যে প্রার্থীর পার্টি থেকে ইলেক্টর বেশি নির্বাচিত হবেন তিনিই এগিয়ে থাকবেন নির্বাচনে। আর পার্টি থেকে জয়ীয় ইলেক্টরের সংখ্যা যদি নির্ধারিত সংখ্যা ছুঁতে পারে, তবে সেই পার্টির প্রার্থীই হন প্রেসিডেন্ট। ইলেক্টরকে ভোট দেয়ার অর্থ ওই পার্টির প্রেসিডেন্টকেও ভোট দেয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া মিলিয়ে ‘ইলেক্টারাল ভোটের সংখ্যা ৫৩৮টি’। আর এই ৫৩৮টি ইলেক্টারাল ভোটের মধ্যে প্রেসিডেন্ট হতে দুই প্রার্থীর যেকোনো একজনকে পেতে হবে ২৭০টি ইলেক্টারাল ভোট।
এই সংখ্যক ভোট কে পাচ্ছেন তা জানা যাবে ৯ নবেম্বর (বাংলাদেশ সময় ১০ নবেম্বর)। তবে ২০১৭ সালের ২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে জয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।
জয়ী প্রার্থী একই মাসের ২০ তারিখে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করবেন। সেদিন বিকেলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন তিনি।
এদিকে ভোটের এই হিসাব-নিকাশে উঠে আসছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’র বিষয়টি।
আসলে ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ কী? ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ হলো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একটি পদ্ধতি, এর প্রাতিষ্ঠানিক কোনো কাঠামো নেই।
ইলেক্টর নির্বাচনের দিকে সবার আগ্রহ থাকবে, তাই রাজ্যপ্রতি ইলেক্টরের সংখ্যা জানিয়ে নিম্নে প্রদত্ত হলো।।
আলবামা-৯, আলাস্কা-৩, আরিজোনা-১১, আরকানসাস-৬, ক্যালিফোর্নিয়া-৫৫, কোলোরাডো-৯, কানেক্টিকাট-৭, ডেলাওয়ের-৩, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া-৩, ফ্লোরিডা-২৯, জর্জিয়া-১৬, হাওয়াই-৪, ইডাহো-৪, ইলিনয়-২০, ইন্ডিয়ানা-১১, আইওয়া-৬, কানসাস-৬, কেন্টাকি-৮, লুইজিয়ানা-৮, মাইনে-৪, ম্যারিল্যান্ড-১০, ম্যাসাচুসেটস-১১, মিশিগান-১৬, মিনেসোটা-১০, মিসিসিপি-৬, মিসৌরি-১০, মনটানা-৩, নেব্রাস্কা-৫, নেভাদা-৬, নিউ হ্যাম্পশায়ার-৪, নিউজার্সি-১৪, নিউ মেক্সিকো-১৪, নিউইয়র্ক-২৯, নর্থ ক্যারোলিনা-১৫, নর্থ ডাকোটা-৩, ওহাইও-১৮, ওকলাহোমা-৭, অরেগন-৭, পেনসিলভানিয়া-২০, রোডে আইল্যান্ড-৪, সাউথ ক্যারোলিনা-৯, সাউথ ডাকোটা-৩, টেনেসে-১১, টেক্সাস-৩৮, উতাহ-৬, ভারমন্ট-৩, ভার্জিনিয়া-১৩, ওয়াশিংটন-১২, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া-৫, উইকনসিন এবং উইয়োমিং-৩।
এই ৫৩৮ ইলেক্টর সংখ্যার মধ্যে সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে প্রয়োজন হবে ২৭০ ইলেক্টর ভোটে। কেউ যদি জনপ্রিয়তার ভোটে এগিয়েও থাকেন, ইলেক্টর নির্ধারিতসংখ্যক জয়ী না হলে নির্বাচিত হতে পারবেন না। জনপ্রিয়তার ভোটে এগিয়ে থেকেও হারতে হয়েছে প্রার্থীকে এমন নজিরও ৪ বার আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে।
বেশিরভাগ রাজ্যেই ‘বিজয়ীই সব পাবে’ নীতিতে ওই রাজ্যের ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট বণ্টন হয়। অর্থাৎ একটি রাজ্যে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দলই ওই রাজ্যের জন্য বরাদ্দ করা সব ইলেক্টোরাল ভোট জিতে নেন। তবে মাইনে ও নেব্রাস্কা রাজ্যে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়। সেখানে রাজ্যের জন্য বরাদ্দ ইলেক্টোরাল ভোট ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ পদ্ধতি অনুযায়ী ভাগ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে রাজ্যে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দল পায় দু’টি ইলেক্টর ভোট, আবার প্রত্যেক কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে বিজয়ী রাজনৈতিক দল পায় একটি করে ইলেক্টর ভোট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ