ঢাকা, মঙ্গলবার 08 November 2016 ২৪ কার্তিক ১৪২৩, ৭ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এমন উদ্বেগ প্রকাশ কতটা যৌক্তিক?

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ভারত। এ উদ্বেগের কথা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করার জন্য ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। খবর পিটিআইএর। উল্লেখ্য যে, ৬ নভেম্বর এক টুইট বার্তায় সুষমা স্বরাজ লিখেছেন, আমি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দুদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের ব্যাপারে আমাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানাতে বলেছি। প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ করা যায় যে, ফেসবুকে দেওয়া ধর্মীয় অবমাননাকর একটি ছবিকে কেন্দ্র করে ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ২০টি হিন্দু বাড়ি ও ১৫টি মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে পুলিশ ইতোমধ্যে ৫৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। নাসিরনগরের ইউএনওকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। উপজেলা সদরসহ বিভিন্নস্থানে র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবিসহ অন্তত ৫০০ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। 
নাসিরনগর উপজেলায় হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার ঘটনা শুধু অন্যায় নয়, ন্যক্কারজনকও। এলাকার জনগণ এবং দেশের মানুষ ওই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে ও রুখে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন অপরাধীদের গ্রেফতার করে শাস্তি প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। এলাকার মন্ত্রী ঘটনাকে ষড়যন্ত্রমূলক বলে অভিহিত করেছেন। পদবঞ্চিতদের প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন তিনি। খবরে দলীয় কোন্দলের বিষয়টিও উঠে এসেছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলতে যা বোঝায় নাসিরনগরে তা লক্ষ্য করা যায়নি। যথাযথ তদন্ত শেষে বিচারের মাধ্যমে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিরা শাস্তি পাবে এবং প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে আমরা আশা করি।
নাসিরনগর উপজেলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তিনি ভারতীয় হাইকমিশনারকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দুদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের ব্যাপারে ভারতের উদ্বেগের কথা জানাতে বলেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে যে ভাষায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেন তাতে আমাদের আত্মমর্যাদায় আঘাত লেগেছে। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে নাসিরনগর উপজেলার সব মানুষ তো বাংলাদেশের নাগরিক। নাগরিকদের জান-মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তাবিধান সরকারের দায়িত্ব। সরকার প্রশাসনের মাধ্যমে তার দায়িত্ব পালন করে থাকে। যারা সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তারপরও বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের ব্যাপারে এভাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশের কী কারণ থাকতে পারে? আলোচ্য ঘটনায় তো একজন মানুষেরও প্রাণহানি হয়নি। তবে যা হয়েছে তার বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষপাতি আমরা। যে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন, প্রসঙ্গত সেই দেশের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি সম্পর্কেও প্রশ্ন এসে যায়। ভারতের মত এত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা পৃথিবীর আর কোথায়ও হয় কী। গরুর গোস্ত খাওয়ার অপরাধে তো ভারতে মুসলমানদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়। কুরবানির গোস্ত বহন করার অপরাধে ভারতে নারী ও শিশুদের ট্রেন থেকে লাথি মেরে ফেলে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন। কই এইসব বিষয় নিয়ে তো বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। তবে করলে ভালো হতো। কারণ কোথায়ও সীমালঙ্ঘন হলে, বাড়াবাড়ি হলে এবং সংশ্লিষ্ট সরকার যৌক্তিক পদক্ষেপ না নিলে, সে ক্ষেত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করা অবশ্যই মানবিক দায়িত্ব। কিন্তু বাংলাদেশে তেমন কিছু হয়েছে কী? আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তার ব্যাপারে যে মাত্রায় সচেতন ও আন্তরিক, তারপরও তার সরকারকে এভাবে উদ্বেগ জানানোর বিষয়টি আমাদের কাছে সম্মানজনক বলে মনে হয়নি। কিছুটা অযৌক্তিক বলেও মনে হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ