ঢাকা, মঙ্গলবার 08 November 2016 ২৪ কার্তিক ১৪২৩, ৭ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অনন্য ব্যক্তিত্বে নারী

এই পৃথিবীতে পারিবারিক বন্ধন, বংশ বৃদ্ধির ক্রমধারা অব্যহত রাখা, মানবীয় গুণাবলীর সম্মিলন ঘটানো, সর্বোপরি জীবনকে সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ রূপে গড়ে তোলার ব্যাপারে নারী-পুরুষ উভয়ের সমান অংশীদারিত্ব রয়েছে। নর-নারীর মাধ্যমে যে মানব সভ্যতার সূচনা, তা আজ প্রায় সাড়ে সাত শত কোটিতে রূপান্তরিত হয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মানব সভ্যতার সূচনা লগ্ন থেকে নারী পরিবার, সমাজ, দেশ কিংবা আন্ত-রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মানব সূচনার শুরু থেকে ‘আইয়্যামে জাহেলিয়াত’ অতিক্রান্ত হয়ে অদ্যাবধি নারীর ভূমিকা আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে ব্যাপকভাবে। অতি সাম্প্রতিকালে দেশীয় পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকারের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে। পাশাপাশি বিশ্ব ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নারীর সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হচ্ছে। নারীর এই অধিকার সম্পর্কে আলোচনাই করাই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রায়স।
মানুষ হিসেবে নারীর অধিকার : প্রথম মানব আদম আঃ সৃষ্টি অতপর পৃথিবীতে মানুষের পদচারণা অত্যন্ত গুরুত্ববহ। মানুষের সৃষ্টিগত রহস্য সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা করেছেন। আল্লাহ্ বলেন- “হে মানব! আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিত হও।” ‘আল-কুরআন, ৪৯:১৩।’ পবিত্র কুরআনের এই আয়াত পর্যালোচনা করলে বেরিয়ে আসে যে, সৃষ্টিগত দিক থেকে মানুষ হিসেব নারী ও পুরুষ সমমর্যাদা সম্পন্ন। কাজেই সৃষ্টিগত দিক থেকে নারীর অধিকার স্বীকৃত। এছাড়াও নারীর সৃষ্টিগত অধিকার তুলে ধরে মহান আল্লাহ্ অন্য আয়াতে বলেন- “হে মানব জাতি, তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন। আর তাদের দু’জন থেকে বিস্তার করেছেন অগণিত পুরুষ-নারী।” ‘আল-কুরআন, ৪:১।’
নারীর অধিকার ও মর্যাদা : পবিত্র কুরআনে নারী-পুরুষকে সমানভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। মানবিক মর্যাদা থেকে শুরু করে অপরাধ দ-বিধি পর্যন্ত জীবনের সকল ক্ষেত্রে উভয়কে সমান দৃষ্টিতে দেখেছে ইসলাম। মহান আল্লাহ্ নারী-পুরুসের মধ্যে সীমিত পর্যায়ে কিছু পার্থক্য সৃষ্টি করেছেন। তবে তাও করা হয়েছে ন্যায্যতার ভিত্তিতে। নারী ও পুরুষের মধ্যে এই সাম্যের বিরোধীতা নিঃসন্দেহে আল্লাহ্র দেয়া শরীয়তের প্রকাশ্যে বিরোধীতার সামিল। “শান্তি-সুখ, তৃপ্তি, নিশ্চিতা ও নিরবচ্ছিন্ন আনন্দ লাভই হচ্ছে মানব জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। মানব মনের ঐকান্তি কামনা অশিক্ষিত, গ্রামবাসী-শহরবাসী এবং পুরুষ ও নারীর মধ্যে এদিক থেকে কোন পার্থক্য নেই।” ‘রহীম, মওলানা, মুহাম্মাদ আবদুর, পরিবার ও পারিবারিক জীবন, ঢাকা: খাইরুন প্রকাশনী, ১৯৮৩ পৃ. ৩৪।’ নারী পুরুষের সমতা কর্মের কিংবা জান্নাত-জাহান্নাম লাভের দিক দিয়ে। এ প্রসংগে পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন জায়গায় আল্লাহ বলেন- “পুরুস হোক বা নারী যেই নেক কাজ করবে যদি সে মুমিন হয়, তাহলে তারা অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও অবিচার করা হবে না।” ‘আল-কুরআন, ৪:১২৪।’ এছাড়াও তিনি বলেন- “পুরুষ বা নারী যেই নেক কাজ করে সে যদি মুমিন হয় তাহলে তাকে এ দুনিয়াতে সম্মানের সাথে জীবন যাপন করাবো এবং আখিরাতের তাদের কৃতকর্মের উত্তম-পুরস্কার দান করবো।” ‘আল-কুরআন, ১৬:৯৭।’ মহান আল্লাহ্ আরো বলেন- “তোমরা তোমাদের সার্মথ্যনুযায়ী যে স্থানে বাস কর, তাদেরকে সে স্থানে বাস করতে দাও, আর তাদেরকে সংকটে ফেলার জন্য উত্ত্যক্ত করো না।” ‘আল-কুরআন, ৬৫:০৬।’
নারীর ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার : ইসলামী জীবন দর্শনে নারীকে ব্যক্তি স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ধর্ম গ্রহণ ও বর্জনের ব্যাপারে তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সম্পদ অর্জনের ব্যাপারেও নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ইসলামে বিদ্যমান। নারীর ইসলাম গ্রহণ করার বা না করার এখতিয়ারের ব্যাপারে আল্লাহর বাণী- “আল্লাহ্ কাফিরদের জন্য নূহ ও লূতের স্ত্রীদের উদাহরণ পেশ করেছেন। তারা ছিল আমার দুই নেক বান্দার স্ত্রী, কিন্তু তারা তাদের স্বামীদের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছিল, তাই আল্লাহ্র শাস্তি থেকে নূহ ও লূত তাদেরকে রক্ষা করতে পারেননি, তাদেরকে বলা হয়েছে দোযখবাসীদের সাথে তোমরা জাহান্নামেই প্রবেশ কর। এমনিভাবে আল্লাহ্ মুমিনদের জন্য ফেরাউনের স্ত্রীর উদাহরণ পেশ করেছেন, সে প্রার্থনা করেছিল: হে আল্লাহ! তোমার জান্নাতে আমার জন্য একটি ঘর তৈরি করে দাও এবং ফেরাউন এবং তার পাপাচার ও দুষ্কৃতি থেকে আমাকে রক্ষা কর, সাথে সাথে জালিম সম্প্রদায়ের হাত থেকে আমাকে রক্ষা কর।” ‘আল-কুরআন, ৬৬:১০-১১’ তাছাড়াও নারীর ব্যক্তি স্বাধীনতা তুলে ধরে আর্দশ ও অনুসরণীয় চরিত্র হিসাবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। অনুপম চরিত্রের অধিকারী মরিয়ম আ. ছিলেন পবিত্র ও সতী-সাধ্বী নারী। আল্লাহ্ভীরুতার জ্বলন্ত প্রতীক। মহান আল্লাহ্ বলেন- “আল্লাহ্ এমনিভাবে ইমরান-তনয়া মরিয়মের একটি উদাহরণ পেশ করেছেন। সে তার সতীত্ব রক্ষা করেছিল, ফলে আমি তার মধ্যে নিজ পক্ষ থেকে রুহ ফুঁকে দিলাম এবং সে তার প্রতিপালকের বাণী ও তার কিতাবাসমূহকে সত্য বলে গ্রহণ করেছিল। প্রকৃতপক্ষে সে অনুগত ও বিনয়ীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।” ‘আল-কুরআন, ৬৬:১২’
নারীর পারিবারিক মর্যাদা ও অধিকার : পরিবার একটি ক্ষুদ্র সামাজিক প্রতিষ্ঠান, স্বামী-স্ত্রী, যা মা-বাবা, ভাই-বোন, পুত্র-কন্যা নিয়ে গঠিত হয়। নিম্নে নারীর পারিবারিক মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-নারী-পুরুষের জন্য পরিবার হলো একটি শান্তির আবাস। এটি পারস্পরিক সহমর্মিতা, ভালবাসা মায়া-মমতা বিশেষ করে দৈহিক মিলনে পরিতৃপ্তির ও প্রশান্তির লাভের মুখ্য স্থান। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ বলেন- “আল্লাহর নিদর্শনবলীর মধ্যে এটি একটি যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জীবন সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাদের সাহচর্যে পরিতৃপ্তি ও প্রশান্তি লাভ করতে পারো। সে জন্যই তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও মমতা দান করেছেন। চিন্তশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে নির্দশন রয়েছে।” ‘আল-কুরআন, ৬৬:২১’। পারিবারিকভাবে নর-নারী উভয়ের জন্য শান্তির ঠিকানা। সূরা আ’রাফের ১৮১ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় বিখ্যাত মুফাচ্ছির ইবনুল আরাবী বলেন, “পুরুষের জন্য স্ত্রীরা বস্ত্র স্বরূপ, একজন অপরজনের নিকট খুব সহজেই মিলিত হতে, তার সাহায্য নিজের লজ্জা ঢাকতে, শান্তি ও স্বস্তি লাভ করতে পারে।” পারস্পরিক ভালবাসা ও বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সমান অংশীদারীত্বের ভিত্তিতে সুখানুভূতি লাভ করে এবং একে অপরের পরিপূরক হিসেবে সমান ভাবে মান-মর্যাদার সাথে বসবাস করে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ বলেন- “নারীরা হচ্ছে পুরুষের পোশাক আর তোমরা পুরুষরা হচ্ছো নারীদের পোশাক।” ‘আল-কুরআন, ২:১৮৭’ এ আয়াত থেকে এটাই বুঝা যায়, নারীরা পুরুষের অংশ এতে কোন সন্দেহ নেই। সকল নারী পুরুষ আদম আ: থেকে সৃষ্টি, কাজেই সৃষ্টিগত ভাবে কেউ কারো উপর প্রাধান্য দাবি করতে পারে না। এছাড়াও রাসূল করিম সাঃ বলেন, “নারী সমাজ যে পুরুষদেরই অর্ধংশ কিংবা সহোদর এতে কোন সন্দেহ নেই।” ‘রহীম, মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর, পরিবার ও পারিবারিক জীবন, ঢাকা: প্রাগুক্ত, পৃ. ৫৭।’
মা হিসেবে নারীর মর্যাদা ও অধিকার : মুসলিম পরিবারের মা একজন অন্যতম সদস্য। যার দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত থাকে স্বামী ও সন্তানগণ। ইসলঅম মা হিসেবে নারীকে যে উঁচু মর্যাদা দিয়েছে দুনিয়ার অপর কোন সম্মানের সাথে তার কোন তুলনা হয় না। রাসূল সাঃ ঘোষণা করেন- “সন্তানের জান্নাত মায়ের পায়ের নীচে।” ‘প্রাগুক্ত, পৃ. ৭২’
মাকে সম্মান করার কথা প্রতিটি ধর্মেই আছে। কিন্তু ইসলাম যে মর্যাদা এবং অধিকার দিয়েছে তা অন্য কোন ধর্মে নেই। রাসূল সা. এর বাণী- “একদিন এক ব্যক্তি রাসূল সাঃ এর কাছে জিজ্ঞেস করলেন, সন্তানের কাছে মা-বাবার কি প্রাপ্য রয়েছে? তিনি উত্তরে বললেন, মা-বাবা তোমার বেহেশ্ত অথবা দোযখ।” অন্য হাদীসে আছে, “এক ব্যক্তি রাসূল সা. এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন, আমি কার সাথে সর্বাধিক ভাল ব্যবহার করবো? তিনি বললেন, তোমার মায়ের সাথে। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলেন, অতঃপর কার সাথে? তিনি বললেন, তোমার মায়ের সাথে। লোকটি তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করলেন, অতঃপর কার সাথে? তিনি তৃতীয়বার উত্তরে বললেন, তোমার মায়ের সাথে। লোকটি আবার ঐ কথা জিজ্ঞেস করলেন, তিনি উত্তরে বললেন, তোমার বাবার সাথে। অতঃপর ক্রমাগত নিকট আত্মীয়দের সাথে।” ‘ওবায়দী, ইসহাক: যুগে যুগে নারী, ঢাক: শান্তিধারা প্রকাশনী, ১৯৯৭, পৃ. ৩৯।’
উপরোক্ত হাদীসে মায়ের মর্যাদা সর্বাধিক তিনগুণ দান করা হয়েছে। যদিও পবিত্র কুরআনে আল্লাহর ইবাতদের পরই মায়ের সাথে পিতার খেদমত করার নির্দেশ রয়েছে। আল্লাহ্র ঘোষণা- “তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়ই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্য উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উহ্’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্টাচারপূর্ণ কথা।” ‘আল-কুরআন, ১৭:২২।’ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আবু উমামা রাঃ বলেন, “এক ব্যক্তি রাসুল সাঃ কে জিজ্ঞেস করল সন্তানের উপর পিতা-মাতার হক কি? তিনি বললেন, তারা তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।” ‘শফী, মুফতী মুহাম্মদ, তাফসীর মা’আরেফুল ক্বোরআন, (অনুবাদ, (অনুবাদ ও সম্পাদনা: মাওলানা মহিউদ্দীন খান, পবিত্র কোরআনুল কারীম, বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর) মদীনা মোনাওয়ারা: খাদেমুল হারামাইন বাদশা ফাহাদ কোরআন মুদ্রণ প্রকল্প, ১৪১৩ হি:, পৃ: ৭৭১।’
স্ত্রী হিসেবে নারীর অধিকার : ইসলাম স্বামীর স্বতন্ত্র মর্যাদার কথা জোর দিয়ে বলেছে। তারা উভয় পরস্পরের পরিচ্ছদস্বরূপ। আল্লাহর ঘোষণা- “স্ত্রীরা তোমাদের পোশাক, তোমরা তাদের পোশাক।” ‘আল-কুরআন, ২:১৮৭।’ এছাড়াও এক ব্যক্তির প্রশ্নোত্তরে হাদীসে স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপারে সমঅধিকারের ঘোষণা দিয়ে মহানবী সাঃ বলেন, “তাদেরকে নিজেদের সংগে খাওয়াবে নিজের মতই পরাবে আর মুখম-লে মারবে না তাকে খারাপ ও অশ্লীল ভাষায় গাল-মন্দ করবে না এবং তাকে তার ঘর ছাড়া অন্য কোথাও ছাড়বে না।” ‘কারযাভী, আল্লামা ইউসুফ, অনুবাদ মওলানা আবদুর রহীম, ইসলামে হালাল-হারামের বিধান, ঢাকা: খাইরুন প্রকাশনী, ১৯৯৫, পৃ.-২৮৩-২৮৪।’ বিয়ের পর স্ত্রী তার বাপের বাড়ি ছেড়ে স্বামীর ঘরে যায়। এর অর্থ এই নয় যে, স্ত্রী স্বামীর দাসী বা বাঁদি তথা পরাধীনতার শৃঙ্খল পড়ে তার অধীনে বসবাস করবে। বরং নিজ অধিকার ভোগ করবে ও অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। সকল অবস্থায় স্ত্রীর সাথে স্বামীর ভাল ব্যবহার প্রয়োজন। বস্তুত: স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে অতি উত্তম ব্যবহার এবং মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার পাওয়ার হকদার। এ প্রসংগে আল্লাহ বলেন, “তোমরা স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করবে। যদি তাদেরকে ঘৃণা কর তাহলে হয়ত তোমরা এমন একটি জিনিসকে ঘৃণা করলে যার মধ্যে আল্লাহর প্রভূত কল্যাণ রয়েছে।” ‘আল-কুরআন, ৪:১৯।’ পারিবারিক পরিম-লে পুরুষ তার স্ত্রীকে নিয়ে একত্রে মিলে মিশে বসবাস করে। এতে স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর ভালোবাসা। স্বামী ও স্ত্রী প্রেমপ্রীতি ও ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সত্যিকার মুসলিমের পরিচয় দিবে। এখানে নারী পুরুষের সমান ভূমিকা রয়েছে। সত্যিকার মুসলমানদের পরিচয় দিয়ে আল্লাহ তা’আলা বলেন- “যারা বলে, হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তান সন্ততিদের আমাদের জন্য নয়ন জুড়ানো করে দিন এবং আমাদেরকে আল্লাহ্ভীরুদের জন্য নেতৃস্থানীয় করে দিন।” ‘আল-কুরআন, ২৫:৭৪।’ মুসলিম পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর দায়িত্বের ক্ষেত্র ভিন্ন হলেও অধিকার সমান। তাই বলা যায়, স্বামী পরিবারের রাজা আর স্ত্রী রাণী। এজন্য কিয়ামতের দিন স্বামীর দায়িত্বের পাশাপাশি স্ত্রীকেও তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। মহানবী সাঃ বলেন, “স্ত্রী তার স্বামীর পরিজনের এবং সন্তানদের তত্ত্বাবধানকারিনী। তোমরা প্রত্যেকেই তত্ত্বাবাধায়ক এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।” বুখারী, ইমাম, আস্-সহীহ্, অধ্যায়, আন নিকাহ্, অনুচ্ছেদ: আল-মারয়াতু রায়া’আতু ফী বাইতে জাওজিহা, আল-কুতুবুসসিত্তা, রিয়াদ: দারুসসালাম, ২০০০, হাদীস নং ৫৬০০, পৃ. ৪৫০।’’
কন্যা হিসেবে নারীর অধিকার : কন্যাদের প্রতি জাহেলী যুগে বড় অত্যাচার করা হতো। কন্যা শিশুদেরকে কখনো যিন্দা কবর দেয়া হতো, আবার কখনো পহাড়ের চুড়া থেকে নিচে নিক্ষেপ করা হতো। নারীদের এই অপমান ও জুলুম ইসলাম চিরকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। উপরুক্ত পুত্র কন্যাকে পার্থক্য না করার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। পুত্র-কন্যার মধ্যে স্নেহ-ভালবাসা, আহার ও পোশাকে, সমতা বজায় রাখা পিতার কর্তব্য, পার্থক্য করা অপরাধ। আজকের সভ্য যুগেও কিছু লোক আছে যারা মেয়ে সন্তান জন্মালে অসন্তোষ প্রকাশ করে। অনেক ক্ষেত্রে আল্লাহ্কেও গালাগাল দিয়ে থাকে। এটা ইসলামী জীবনাদর্শের পরিপন্থী। কারণ সন্তান আল্লাহ্র ভারসাম্যপূর্ণ দান যা মানব জানে না। আল্লাহ্ বলেন- “আর আমি এক নির্দিষ্ট কালের জন্য মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা (পুত্র-কন্যা) রেখে দেই, এরপর আমি তোমাদের শিশু অবস্থায় বের করি, তারপর তোমরা যৌবনে পর্দাপণ কর।” ‘আল-কুরআন, ২২:৫’ আল্লাহ্ তাআলা ছেলে মেয়ে যাই দান করেন তাতে সন্তুষ্ট থাকা উচিত। আল্লাহ্ যদি মানুষের খেয়াল খুশিমত ছেলে সন্তানই সৃষ্টি করতেন তাহলে নারীর অভাবে মানবজগৎ ভারসাম্যহীন হয়ে যেত। ইবাদত বন্দিগী তথা দীনদারীর ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা বিদ্যমান। নারী-পুরুষ সমান ভাবে শরীয়তের হুকুমের আনুগত্যের সফলতা ও ব্যর্থতার দায়ভার বহন করে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেন- “নিশ্চয় মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, অনুগত পুরুষ ও নারী; সত্যবাদী পুরুষ ও নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও নারী, বিনীত পুরুষ ও নারী, দানশীল পুরুষ ও নারী, যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী পুরুষ ও নারী, আল্লাহ্কে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারী, এদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও বিশাল প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন। ‘আল-কুরআন, ৩৩:৩৫।’
শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর অধিকার : ইসলাম শিক্ষা গ্রহণকে নর-নারীর জন্য সমভাবে অপরিহার্য ঘোষণা করেছে। তবে পাশ্চাত্য ভাবধারায় গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশে নয়। এজন্য নারীদের নগ্নতা বর্জন করে শিক্ষার তাগিদ দিয়েছে ইসলাম। নবী সাঃ বলেন- “প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য শিক্ষা গ্রহণ করা ফরজ।” ‘আবু আব্দুল্লাহ, ওয়ালী উদ্দীন, শায়খ, আল-মিশকাতুল মাসাবীহ, অনুবাদ: মাওলানা এবিএমএ খালেক মজুমদার, ঢাকা: মুরাদ পাবলিকেশন্স, ২০০০, পৃ. ২০৮।’ উনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে ইউরোপের নারীরা যখন শিক্ষার ছোঁয়া পর্যন্ত পায়নি, তখন সাড়ে চৌদ্দশ’ বছর পূর্বে ইসলাম নারী-পুরুষের শিক্ষার সমান অধিকার দিয়ে গেছে। যে জাতি শিক্ষায় যত উন্নত সে জাতি সভ্যতায় তত উন্নত। বিশ্ব সভ্যতার  ইতিহাসে দেভা যায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রাথমিক জাগরণ ও উন্নতি মুসলমানদের মাধ্যমে হয়েছিল। আল-কুরআনের প্রথম বাণী, “পাঠ করো, তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” যিনি রক্তপি- দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। পাঠ করো, তোমার প্রতিপালক পরম দয়ালু, যিনি মানুষকে কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন এবং সে জানত না তিনি তাকে তা শিখিয়েছেন।” ‘আল-কুরআন, ৯৬:১-৫।’’ রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন- বস্তুত সারা আসমান ও যমিনের অধিকবাসীরা আলিমদের জন্য মাগফিরাত চায়, এমন কি সমুদ্রের মাছও।” ‘তিরমিযী, ইমাম, আস-সুনান, অধ্যায়: আব্ওয়াবুল ইলমি, অনুচ্ছেদ: মা-জায়া ফী ফাদলিল ফিক্হ আলাল ইবাদাতি, আল-কুতুবুসসিত্তা, রিয়াদ: দারুস সালাম, ২০০০, হাদীস নং- ২৬৮২, পৃ. ১৯২২।’’
বিবাহের ক্ষেত্রে অধিকার : ‘বিবাহ’ একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি যার মাধ্যমে পুরুষ ও নারীর মধ্যে বৈধ দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়। নর-নারীর অবৈধ সম্পর্কের কারণে যে সন্তান জন্ম গ্রহণ করে তা সামাজিকভাবে স্বীকৃত নয়। এ বিবাহ নর ও নারীর ‘ইজাব’ ও ‘কবুলের’ অর্থাৎ ‘প্রস্তাব’ ও ‘সম্মতির’ মাধ্যমে অনুষ্টিত হয়। ‘ইযাব’ ‘কবুল’ মৌখিক স্বীকারোক্তির মাধ্যমে অথবা লিখিত আকারে অনুষ্ঠিত হতে পারে তবে পক্ষদ্বয় সশরীরে বিবাহ মজলিশে উপস্থিত থাকলে ইজাব-কবুল বাচনিক হওয়া অপরিহার্য।” ‘রহমান, গাজী শামছুর ও অন্যান্য সম্পাদিত, বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন, ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১৯৯৫, খ. ১, পৃ. ১২৪।’’ অবশ্য এই বিবাহ প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম নর-নারীর জন্য অত্যন্ত প্রয়োনীয় একটি কাজ। পূর্ণ শৃংখলা ও নির্ভেজাল যৌন মিলন পূরণ করতে পারে এ পন্থা। আল্লাহর বাণী- “বিয়ে করো মহিলাদের মধ্যে হতে যাদেরকে তোমরা পছন্দ করো।” ‘আল-কুরআন, ৪:৩।’ তবে বিবাহের ক্ষেত্রে কাউকে জোর জবরদস্তি করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে ইসলাম নারী-পুরুষের সমান অধিকার দিয়েছে। পাশ্চাত্য সমাজব্যবস্থায় বিবাহের গুরুত্ব নেই বললেই চলে। কারণ তারা যৌন কামনা পূরণ করাকে বিবাহের একমাত্র উদ্দেশ্য মনে করে থাকে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহের উদ্দেশ্য হলো- “ক) নৈতিক চরিত্র ও সতীত্বের হেফাজত করা; খ) পারস্পারিক ভালোবাসা ও প্রশান্তি অর্জন করা; গ) ইজ্জত-আব্রুর হেফাজত করা এবং ঘ) নিষ্কলুষ বংশধারা অব্যাহত রাখা।” ‘রহমান, গাজী শামছুর ও অন্যান্য সম্পাদিত, বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন, ঢাকা: প্রাগুক্ত, পৃ. ১২৩।’’ ইসলাম ছাড়া অন্যান্য ধর্মের নীতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, অমুসলিমরা যখন যার ইচ্ছা যে কাউকে বিবাহ করতে পারে আবার বিচ্ছেদও ঘটাতে পারে। কিন্তু ইসলাম এ নীতি সমর্থন করে না। “আর অংশীবাদী রমণী যে পর্যন্ত না বিশ্বাস করে তোমরা তাকে বিয়ে করো না। অবিশ্বাসী নারী তোমাদের চমৎকৃত করলেও নিশ্চয় ইসলামে বিশ্বাসী ত্রিতদাসী তার চেয়ে ভাল।” ‘আল-কুরআন, ২:২২১।’’ এছাড়া সূরা নিসার ২৩ নং আয়াতে আল্লাহ্ ১৪ জন নারীর সাথে বিবাহ হারাম করেছেন এবং বহু বিবাহ নিরুৎসাহিত করেছেন। “তোমাদের যদি আশংকা হয় যে, তোমরা এতিমদের প্রতি ন্যায় আচরণ করতে পারবে না, তবে ঐসব স্ত্রী লোক বিবাহ কর যাদেরকে তোমারা ভাল বলে মনে কর। দুইজন; তিনজন অথবা চারজন কিন্তু যদি তোমাদের আশংকা হয় যে, তোমরা তাদের মধ্যে সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে বিবাহ কর মাত্র একজনকে।” ‘আল-কুরআন, ৪:৩।’ এছাড়া আল্লাহ্ বিবাহ বহির্ভূত নর-নারীর সহবাস সম্পূর্ণ হারাম করেছেন। পাশাপাশি এ ধরনের অপবাদের শাস্তিরও বিধান ঘোষণা করেন। “ব্যভিচারী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষ তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহ্র বিধান কার্যকরণে তোমাদের মনে যেন বিন্দুমাত্র দয়ার উদ্রেক না হয়।” ‘আল-কুরআন, ২৪:২।’ ব্যভিচার ও যৌন সম্পর্ক বিবাহের মাধ্যমে স্থাপন তথা সুশৃংখল পরিবারিক ও দাম্পত্য জীবন যাপনের জন্য ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। যাতে করে নারী-পুরুষ অবৈধ কাজ থেকে বিরত থেকে। বৈধ পারিবারিক জীবন যাপনে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ ঘোষণা করেন- “তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিবাহ সম্পাদন করো।” ‘আল-কুরআন, ২৪:৩২।’ তাই ইসলাম নারীকে বিবাহের অধিকার দিয়ে অবাধ যৌনাচার থেকে মুক্তির অধিকার নিশ্চিত করেছে।
তালাকের ক্ষেত্রে নারীর অধিকার : পাশ্চাত্য সমাজে বিবাহের ক্ষেত্রে যেমন কোন নিয়ম কানুন নেই, তেমনি তালাকের ক্ষেত্রেও কোন বিধিবদ্ধ বিধান নেই। খ্রিস্টীয় ইউরোপে পারিবারিক জীবনে স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরে সম্পর্ক তিক্ত থেকে তিক্ততর হলেও ধর্ম ও আইনে বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমতি ছিল না। ‘তাহুরা, অধ্যাপিকা মাওলানা শারাবান, সীরাত স্মরণিকা, ঢাকা: প্রাগুক্ত, পৃ. ১২৭।’ স্বামী কর্তৃক নির্যাতিতা নারীকে তালাকদানের অনুমতি দান করে ইসলাম নারীদের সামাজিক অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করেছে। আরববাসী নারীদের প্রতি অবিচার  ও অত্যাচার করত, যখন তখন নারীকে ‘তালাক’ দিত। ইসলামী আইন প্রবর্তনের পর মুসলমানদের মধ্যে তালাকের অপপ্রয়োগ ও নির্যাতন থেকে নারীরা মুক্তি পায়। আল্লাহর বাণী “আর তালাকপ্রাপ্ত নারী নিজেকে অপেক্ষায় রাখবে তিন ‘কুরু’ (হায়েয) পর্যন্ত। আর যদি সে আল্লাহ্র প্রতি এবং আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমানদার হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহ্ যা তার জরায়ুতে সৃষ্টি করেছেন তা লুকিয়ে রাখা জায়েয নয়। আর যদি সদ্ভাব রেখে চলতে চায় তাহলে তাদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার অধিকার তাদের স্বামীরা সংরক্ষণ করে। আর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার রয়েছে, তেমনিভাবে স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের উপর।” ‘আল-কুরআন, ২:২২৮।’ ইসলামী শরীয়তে তালাক দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে একটি অপরিহার্য ও নিরুপায়ের উপায় হিসেবে। তবুও আল্লাহ্ তাআলা তালাকের ব্যবস্থা রেখে নিরুপায় অবস্থা কমিয়ে দাম্পত্য দুর্ভোগ ও যন্ত্রণা লাঘবের সুযোগ রেখেছেন। ‘আবূ দাউদ, ইমাম, আস-সুনান, অধ্যায়: আত-তালাক, অনুচ্ছেদ: ফী কেরাহিয়াতিত্ তালাক, আল-কুতুবুসসিত্তা, রিয়াদ: দারুস সালাম, ২০০০, হাদীস নং- ২১৭৭, পৃ. ১৩৮৩।’’
ইহুদি ধর্মে তালাকের আইন অভিনব ও অস্বাভাবিক। আল্লামা ইউসুফ কারাযাভী তার ‘হালাল হারাম’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন যে, ইহুদীর নিকট দশ বছর কাল অতিক্রম হওয়ার পরও স্ত্রীর গর্ভে সন্তান জন্ম না নিলে আইনের দৃষ্টিতেই তালাক দেয়া জরুরি বিবেচিত হতো। আবার খ্রিষ্ট ধর্মের ইনজিল ও বাইবেল তালাক দেয়া এবং তালাকপ্রাপ্ত নারীকে পুনঃবিবাহ হারাম করেছে। বাইবেলে আছে- “ঈশ্বর’ যাহা যোগ করিয়া দিয়েছেন, মানুষ তাহার বিয়োগ না করুক। “মার্ক লিখিত সুসমাচারে বলা হয়েছে- যে আপন স্ত্রীকে পরিত্যাগ করিয়া আবার বিবাহ করে সে তাহার বিরুদ্ধে ব্যভিচার করে; আর যদি আপন স্বামী পরিত্যাগ করিয়া আর একজন বিবাহ করে; তবেও সে ব্যভিচার করে।” ‘কারযাভী, আল্লামা ইউসুফ, অনুবাদ, রহীম, মওলানা আবদুর, ইসলামে হালাল হারামের বিধান, প্রাগুক্ত, পৃ.-২৭৪।’ কাজেই এ কথা বলা যায় যে, ইসলাম নারী-পুরুষের উভয় শ্রেণিকে তালাকের প্রয়োগ করতে নিরুৎসাহিত করেছে তবে একান্ত প্রয়োজনে অনুমোদন দিয়েছে।
দেনমোহর লাভের অধিকার : বিবাহ বন্ধন উপলক্ষ্যে স্বামী কর্তৃক বাধ্যতামূলক প্রদত্ত মালকে দেনমোহর বলে। দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার এবং স্বামীর জন্য এটা একটা বড় ঋণ। দেনমোহর আদায় করা স্বামীর উপর অবশ্য কর্তব্য। এই দেনমোহার ধার্য্য করা যেমন বাধ্যতামূলক তেমনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রদান করাও বাধ্যতামূলক। আল্লাহ্ বলেন- “এবং তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহরানা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রদান করো।” ‘আল-কুরআন, ৪:৪’ যদি দেনমোহার আদায় না করা হয় ইসলামের বিধান মোতাবেক ব্যভিচার করার অপরাধ হিসেব গণ্য হবে। মহানবী সাঃ বলেন, “কোন ব্যক্তি দেনমোহারের বিনিময়ে কোন নারীকে বিবাহ করল, কিন্তু তা পরিশোধের ইচ্ছা তার নেই, সে ব্যভিচারী।” ‘রহমান, গাজী শামছুর ও অন্যান্য সম্পাদিত, বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন, প্রাগুক্ত, পৃ. ৫৩৬।’ [চলবে]
-মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ